চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাওয়াদ দুর্বল হয়ে গেছে : প্রভাবে আজো বৃষ্টি হবে

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ৬, ২০২১ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের উপকূলের দিকে আসতে আসতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ শেষ পর্যন্ত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে গেছে। এটা আরো দুর্বল হয়ে যাবে এবং তা থেকে আর ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আকাশ পরিষ্কার হতে থাকবে। তবে আজো বৃষ্টি হবে। ভারতের উড়িষ্যা উপকূলের কাছাকাছি যাওয়ার পরই ঘূর্ণিঝড়টি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এর শক্তিশালী অংশটি ঘূর্ণিঝড় থেকে দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপ অবস্থায় বিশাখাপট্টমের দিকে গেছে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল অংশটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে বাংলাদেশের দিকে আসতে শুরু করে। নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে মঙ্গলবারের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যেতে পারে এবং বৃষ্টি কমে গেলেই শুরু হবে শীতের কামড় মৌসুমের স্বাভাবিক ঠাণ্ডাটা শুরু হবে।

গতকাল রোববার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪৪ কিলোমিটার যা দমকা ও ঝড়োহাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। নিম্নচাপটির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে দেশের চার নদী বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘূর্ণিঝড়। গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পরপরই দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আবার ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ আরেকটি দিকে খুবই ব্যতিক্রম। মালদ্বীপের মালদ্বীপ ইউনিভার্সিটির ফুলব্রাইট স্কলার অধ্যাপক ড. রাশেদ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, গত ১৩০ বছরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদই দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় যেটা ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত হয়েছে। ডিসেম্বরে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কারণ হিসেবে অধ্যাপক রাশেদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গোপসাগর ও নিকটবর্তী অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত নভেম্বরের শেষের দিকে এবং ডিসেম্বরের প্রথম দিকে বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রা কমে যায়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটল।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাওয়াদ ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা থেকে ৮২৫ এবং পায়রা থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। কিন্তু গতকাল দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা বন্দর থেকে ৫৭০ এবং পায়রা বন্দর থেকে ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। অপরদিকে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা বন্দর থেকে ৪৭৫ এবং পায়রা বন্দর থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটা আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে আসতে থাকবে এবং এক সময় লঘুচাপ পরে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। ঘূর্ণিঝড় থেকে নিম্নচাপের প্রভাবে আজ সোমবার সারা দিনই দেশের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল রোববার সারা দিনই রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া দেশের সর্বত্রই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সঙ্কেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্যও বলা হয়। পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে খুলনার পাইকগাছায় গতকাল সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় গতকাল রোববারও একই অবস্থা বিরাজ করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিপাকে রয়েছে স্থানীয় দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এ দিকে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ শক্তি হারিয়ে এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যার প্রভাবে আগামী দুই-তিন দিন দেশে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে তা স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একাধিক ভ্যানচালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অবিরাম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে তাদের রোজগার একেবারেই কমে গেছে। তা ছাড়া পাইকগাছা-কয়রা রাস্তার কাজ চলমান থাকায় এমনিতেই বেশ কিছু দিন বিপাকে রয়েছেন তারা। আর চলমান গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে এক দিনে ২০০ টাকাও আয় করতে পারেননি। কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ শক্তি হারালেও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় এর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে শনিবার সকাল থেকে সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।