চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার চিন্তাভাবনা

আইনি উপায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী : নিজেদের বাঁচার স্বার্থে মুক্তি দিন : ফখরুল
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ৬, ২০২১ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘বেগম খালেদা   জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার কোনো সুযোগ আইনে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ গতকাল তিনি বলেন, ‘আইনের কোনো ফাঁক, উপায় আছে কি না, সার্বিক দিক বিবেচনা করার পরই এ বিষয়ে মনে হয় সিদ্ধান্তে আসা উচিত।’ অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আপনাদের নিজেদের বাঁচার স্বার্থেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠান। তাঁকে সুস্থ করে দেশে নিয়ে আসুন। তা না হলে আপনারা পালানোর পথও খুঁজে পাবেন না। কোটি কোটি মানুষ রাজপথে নেমে আসবে।’ তবে গত রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি আইনমন্ত্রীর বক্তব্য শুনিনি। কিংবা তাদের পক্ষ থেকে কেউ কোনো যোগাযোগও করেনি। তবে তিনি যদি ‘পজিটিভ’ কিছু বলে থাকেন তো ভালো।” এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র (ইনজেকশন) দিয়ে তাঁর পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা সর্বক্ষণ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর অবস্থার যেন অবনতি না হয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গত রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সিসিইউতে রেখেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন তাঁর চিকিৎসা একটাই- তা হলো কীভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার আর অবনতি না হয় সে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কারণ দেশীয় এই চিকিৎসায় তাঁর সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সুস্থতার জন্য তাঁকে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য কিংবা জার্মানির কোনো ‘অ্যাডভান্স হেলথ কেয়ার সেন্টারে’ নিয়ে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

আইনি সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে- আইনমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার কোনো সুযোগ আইনে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আইনের কোনো ফাঁক, উপায় আছে কি না, সার্বিক দিক বিবেচনা করার পরই এ বিষয়ে মনে হয় সিদ্ধান্ত আসা উচিত। গতকাল রাজধানীতে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনে জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজদের ২৫তম জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে এর আগের আবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হলেও এবার আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ‘প্রথম কথা, আমি আপনাদের যেটা বলব, যেটা আপনারা বলছেন যে আবেদন পড়ে রয়েছে, আসলে এটা পড়ে থাকেনি। কথাটা হচ্ছে, এর আগের দুবার প্রত্যাখ্যান হয়েছিল এবং আইনিভাবেই সেটি করা হয়েছিল। এখন অনেক পক্ষ থেকেই আবেদন এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনের কোনো ফাঁক, উপায় আছে কি না, সার্বিক দিক বিবেচনা করার পরই মনে হয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসা উচিত। এ ছাড়া আপনারা দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় মানবিক দিক দেখেছেন। আমাদের কথা হচ্ছে, আইনের যেন কোনো ব্যত্যয় না হয়। আইন যেন সঠিকভাবে, আগে যে রকম করা হয়েছিল, সেভাবেই- সেটাই সঠিক। কিন্তু এবার যখন অনেক আবেদন এসেছে, আইনজীবীদের থেকেও আবেদনে এসেছে। সে জন্যই ভেবে কিছু করা যায় কি না, সব দিক দেখেই এটার একটা সুচিন্তিত সিদ্ধান্তে আসাটা আমার মনে হয় সমীচীন। সে জন্য আমরা একটু সময় নিয়েছি।’

বিদেশ যেতে না দিলে পালানোরও পথ পাবেন না- ফখরুল

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যদি মুক্ত না করেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত না করেন, তাহলে কোটি কোটি মানুষ রাজপথে নেমে আসবে। আপনাদের নিজেদের স্বার্থেই দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠান। তাঁকে সুস্থ করে দেশে নিয়ে আসুন। তা না হলে আপনারা পালানোর পথও খুঁজে পাবেন না।’ খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে শ্রমিক দল গতকাল সারা দেশে এ কর্মসূচি পালন করে। রাজধানীতে শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। বিদেশে সুচিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দী করে গণতন্ত্রকে বন্দী করা হয়েছে। তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা চলছে। তাঁকে যদি মুক্তি না দেওয়া হয় এবং বিদেশে না পাঠানো হয়, তাহলে দেশের কোটি কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। সমগ্র দেশের মানুষ চাইছেন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হোক। তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসুন। শুধু আপনারা (সরকার) তাঁকে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করতে চাইছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে আপনারা কেউ রেহাই পাবেন না।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে ভাষায় কথা বলছেন, এটা কোনো সভ্য মানুষের ভাষা হতে পারে না।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।