চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৮ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলমডাঙ্গায় গোয়ালঘরে ভোটকেন্দ্র

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ২৮, ২০২১ ১:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুরে গোয়ালঘরে অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে। কাগজে-কলমে কৃষ্ণপুর আশ্রয়ণ কমিউনিটি সেন্টার উল্লেখ করা হলেও সেখানে আশ্রয়ণ নিবাসী কয়েকজন গরু-ছাগল পালন করেন।

আশ্রয়ণ কমিউনিটির প্রধান মুক্তার আলী এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুরুর দিকে এটা আশ্রয়ণের বাসিন্দারা কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করতেন। পরে তা কমিউনিটি পুলিশিং কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় দিনে দিনে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় কয়েকজন সেখানে গরু-ছাগল পালন করতে থাকেন।

মুক্তার আরও বলেন, ‘যকনই ভোট হয়, তকনই এই ঘরডাকে ভোট সেন্টার করা হয়। এবেড্ডা ভোটের আগ দিয়ে আমি নিজিই পরিষ্কার করিচি। কিন্তু, গরুর গবর আর চুনার গোন্দ রয়েচে। ছারদের ডিউটি করতি কষ্ট হচ্চে।’

সরেজমিন দেখা যায়, ভোট দিতে আসা ভোটাররা নাকে কাপড় চেপে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। জাহানারা বেগম নামের একজন ভোটার বলেন, ‘গোন্দের ঠেলায় বুমি হয়ে যাচ্চে। অ্যারাম অবস্তা জানলি ভোট দিতিই আসতাম না।’

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রেয়াজুল ইসলাম বলেন, অতীতে ভোট গ্রহণের সময় কখনো ভোটকেন্দ্রের এমন দুর্গন্ধময় পরিবেশ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের নাম কমিউনিটি সেন্টার দেখে ভেবেছিলাম পরিবেশটা খুবই চমৎকার হবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা পুরোটাই উল্টো। এমন পূতিগন্ধময় পরিবেশে কষ্ট করেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’

খাসকররা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আলি রেজা বদরুল আলম এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘চাকরি জীবনে বহুবার ভোটের দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে কখনো পড়তে হয়নি। শনিবার কেন্দ্রে আসার পর লোকজন দিয়ে গরু-ছাগলের বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। মুঠোফোন জ্বালিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে। আগামীতে কেন্দ্র নির্বাচন করার সময় পরিবেশের কথাগুলো ভেবে দেখা দরকার।’

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এমএজি মোস্তফা ফেরদৌস বলেন, কৃষ্ণপুর আশ্রয়ণ কমিউনিটি কেন্দ্রের সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। কাছাকাছি জায়গায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বা উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সেখানে কেন্দ্র করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সুত্র: প্রথম আলো

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।