ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে বিষক্রিয়ায় তিনটি গাভী গরুর মৃত্যু

ঝিনাইদহ অফিস:
  • আপলোড টাইম : ১১:১৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামে গত সোমবার বিকেলে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়ায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গাভি গরুর মৃত্যু হয়েছে। গরু তিনটির মৃত্যুতে হতদরিদ্র ওই কৃষক পরিবার পথে বসেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মনোজিৎ কুমার মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গ্রামবাসী জানায়, কৃষক রুবেল মুন্সির তিনটি গরুই ছিল শেষ সম্বল। সোমবার বিকেলে রুবেল গরু তিনটি মাঠে বেঁধে রেখে আসেন। মাঠে নতুন গজানো ডাটা শাকের কচি পাতা খেয়ে গরু তিনটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। গরু হারিয়ে রুবেলের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন পাগল প্রায়।

রুবেল মুন্সি জানান, তিনি করিমপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়ি থেকে দেখাশোনা করেন। ওই বাড়িতেই তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। রুবেল মুন্সী ভাষ্যমতে, মাঠ থেকে ডাটার শাক খাওয়ানোর ফলে গরু তিনটি মারা গেছে। গ্রামবাসী লিটন জানান, রুবেল মুন্সি খুবই দরদ্রি মানুষ। তিল তিল করে গরু তিনটি পালন করছিলেন। একসঙ্গে তিনটি গাভীর মৃত্যুতে তিনি পথে বসেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মনোজিৎ কুমার মন্ডল জানান, মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গরু তিনটির দাম প্রায় ছয় লাখ টাকা। প্রত্যেকটি গরুর পেটে ৬ থেকে ৯ মাসের বাচ্চা রয়েছে। বৃষ্টির পানি পেয়ে ডাটা শাকের যে কচি পাতা হয়েছে তা খাওয়ানোর ফলে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়ার গরু মারা গেছে।

তিনি আরও জানান, নাইট্রেট ও নাইট্রাইট যুক্ত খাবারে যখন নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকে তখন তা পশুর শরীরে এক ধরনের বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ বিষক্রিয়াকে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়া বলে থাকি।  এই বিষক্রিয়া টি সাধারণত নাইট্রেট যুক্ত খাবার খেয়ে বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত বৃষ্টির পরে গজানো কচি ঘাসের মধ্যে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। তখন বৃষ্টির পানিতে মিশ্রিত এসিডের সাথে কচি ঘাসের নাইট্রোজেন রাসায়নিক ভাবে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়া উৎপাদন করে এবং গরু সবুজ কচি ঘাসের সাথে এ বিষ গ্রহণ করে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ঝিনাইদহে বিষক্রিয়ায় তিনটি গাভী গরুর মৃত্যু

আপলোড টাইম : ১১:১৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামে গত সোমবার বিকেলে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়ায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গাভি গরুর মৃত্যু হয়েছে। গরু তিনটির মৃত্যুতে হতদরিদ্র ওই কৃষক পরিবার পথে বসেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মনোজিৎ কুমার মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গ্রামবাসী জানায়, কৃষক রুবেল মুন্সির তিনটি গরুই ছিল শেষ সম্বল। সোমবার বিকেলে রুবেল গরু তিনটি মাঠে বেঁধে রেখে আসেন। মাঠে নতুন গজানো ডাটা শাকের কচি পাতা খেয়ে গরু তিনটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। গরু হারিয়ে রুবেলের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন পাগল প্রায়।

রুবেল মুন্সি জানান, তিনি করিমপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়ি থেকে দেখাশোনা করেন। ওই বাড়িতেই তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। রুবেল মুন্সী ভাষ্যমতে, মাঠ থেকে ডাটার শাক খাওয়ানোর ফলে গরু তিনটি মারা গেছে। গ্রামবাসী লিটন জানান, রুবেল মুন্সি খুবই দরদ্রি মানুষ। তিল তিল করে গরু তিনটি পালন করছিলেন। একসঙ্গে তিনটি গাভীর মৃত্যুতে তিনি পথে বসেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মনোজিৎ কুমার মন্ডল জানান, মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গরু তিনটির দাম প্রায় ছয় লাখ টাকা। প্রত্যেকটি গরুর পেটে ৬ থেকে ৯ মাসের বাচ্চা রয়েছে। বৃষ্টির পানি পেয়ে ডাটা শাকের যে কচি পাতা হয়েছে তা খাওয়ানোর ফলে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়ার গরু মারা গেছে।

তিনি আরও জানান, নাইট্রেট ও নাইট্রাইট যুক্ত খাবারে যখন নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকে তখন তা পশুর শরীরে এক ধরনের বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ বিষক্রিয়াকে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়া বলে থাকি।  এই বিষক্রিয়া টি সাধারণত নাইট্রেট যুক্ত খাবার খেয়ে বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত বৃষ্টির পরে গজানো কচি ঘাসের মধ্যে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। তখন বৃষ্টির পানিতে মিশ্রিত এসিডের সাথে কচি ঘাসের নাইট্রোজেন রাসায়নিক ভাবে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট বিষক্রিয়া উৎপাদন করে এবং গরু সবুজ কচি ঘাসের সাথে এ বিষ গ্রহণ করে।