ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকার নাগরিকসেবা বাড়েনি : কথায় সীমাবদ্ধ প্রতিশ্রুতি

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি। যদিও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বয়স অর্ধশতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে ঢাকার জনসংখ্যা বেড়েছে বহু গুণে। এখানে অসংখ্য বড় বড় স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ শহর তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে ওঠা ছিল স্বাভাবিক। বাস্তবে বাসযোগ্যতার বিবেচনায় বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকা এখন তলানিতে। কিছু ক্ষেত্রে ঋণাত্মক দিকে প্রথম স্থান অর্জনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের রাজধানী শহর প্রতিযোগিতা করছে বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর ও আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত নগরীর সাথে। দূষিত শহরের তালিকায় এবং শব্দদূষণে ঢাকা শহর বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এর পরও নগর কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হয় না। মেগা সিটির পরিচালনা সুচারু করতে রাজাধানীকে দু’টি সিটিতে বিভক্ত করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ নামে বিভক্ত করা হলেও কোথাও অবস্থার নজরকাড়া উন্নতি হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরিবর্তনের ফিরিস্তি দেয়া হয়েছিল। এমনকি যারা মেয়র হয়েছেন তারা স্বপ্ন দেখিয়েছেন নগরবাসীকে। তবে কাজে সে ধরনের প্রতিফলন দেখাতে পারেননি। আর্থিক সঙ্কটে রাজধানীর পরিবেশ পরিস্থিতির উন্নয়ন করা যাচ্ছে না- এ যুক্তিও দেখানো যাবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নিয়ে সহযোগী একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর করপোরেশনের আয় দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তার আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০) করপোরেশনের আয় হয় ৫১৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এক হাজার ৩২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১ কোটি টাকা।
এসব আয় এসেছে প্রধানত গৃহকর, বাজার সালামি, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল ইজারা এবং বিভিন্ন যনাবাহনের লাইসেন্স থেকে। রাজস্ব প্রাপ্তির বিপরীতে নাগরিকসেবা যেমন বাড়েনি, তেমনি এর মানও আগের মতো রয়েছে। পুরান ঢাকার মূল সমস্যা যানজট, জলাবদ্ধতা, মশকনিধনে সফলতা আসেনি। নাগরিকরা তাদের রাজস্ব প্রদান বাড়িয়েছেন; কিন্তু সিটি করপোরেশন বাড়াতে পারেনি পরিষেবা। এর সাথে বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি আগের মতো রয়েছে। সিটি করপোরেশন এ কাজেও কোনো শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেনি। বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচলে নিয়ম-কানুন মেনে চলা হয় না। ফলে রাস্তায় যাতায়াতে কষ্ট রয়েছে। ডিএসসিসি বাস ও মিনিবাস থেকে টোল আদায় করতে পাঁচটি এলাকার অধীনে ৫৭টি স্থান ইজারা দিয়েছে। পত্রিকাটি জানাচ্ছে, টোল আদায়ের নামে এসব স্থানে এখন চাঁদাবাজি চলছে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সাথে ডিএসসিসির দ্বন্দ্ব চলছে। এ কারণে দক্ষিণের নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ এলাকার আওতাধীন খেলার মাঠ ও পার্কে খাবারের দোকান ইজারা দেয়া হয়েছে। যেখানে পুরান ঢাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি একটি এলাকা; জনপরিসর একেবারে নেই, মানুষ উন্মুক্তভাবে শ্বাস নিতেও পারে না। এর ওপর আছে খাল ও সড়কের জায়গা দখলের মহড়া। উভয় সিটিতে প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছেন বহু জায়গা। মোটের ওপর দুটো সিটিতে একই অব্যবস্থাপনা চলছে। এ দিকে নগরপিতারা এমনকি সরকারও মন ভোলানো বুলি আওড়ায়। প্রকৃত বাস্তবতায় প্রতিশ্রুত সংস্কার নেই, নেই উন্নয়ন। এমনটি দুর্ভাগ্যের।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ঢাকার নাগরিকসেবা বাড়েনি : কথায় সীমাবদ্ধ প্রতিশ্রুতি

আপলোড টাইম : ১০:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি। যদিও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বয়স অর্ধশতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে ঢাকার জনসংখ্যা বেড়েছে বহু গুণে। এখানে অসংখ্য বড় বড় স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ শহর তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে ওঠা ছিল স্বাভাবিক। বাস্তবে বাসযোগ্যতার বিবেচনায় বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকা এখন তলানিতে। কিছু ক্ষেত্রে ঋণাত্মক দিকে প্রথম স্থান অর্জনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের রাজধানী শহর প্রতিযোগিতা করছে বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর ও আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত নগরীর সাথে। দূষিত শহরের তালিকায় এবং শব্দদূষণে ঢাকা শহর বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এর পরও নগর কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হয় না। মেগা সিটির পরিচালনা সুচারু করতে রাজাধানীকে দু’টি সিটিতে বিভক্ত করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ নামে বিভক্ত করা হলেও কোথাও অবস্থার নজরকাড়া উন্নতি হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরিবর্তনের ফিরিস্তি দেয়া হয়েছিল। এমনকি যারা মেয়র হয়েছেন তারা স্বপ্ন দেখিয়েছেন নগরবাসীকে। তবে কাজে সে ধরনের প্রতিফলন দেখাতে পারেননি। আর্থিক সঙ্কটে রাজধানীর পরিবেশ পরিস্থিতির উন্নয়ন করা যাচ্ছে না- এ যুক্তিও দেখানো যাবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নিয়ে সহযোগী একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর করপোরেশনের আয় দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তার আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০) করপোরেশনের আয় হয় ৫১৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এক হাজার ৩২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১ কোটি টাকা।
এসব আয় এসেছে প্রধানত গৃহকর, বাজার সালামি, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল ইজারা এবং বিভিন্ন যনাবাহনের লাইসেন্স থেকে। রাজস্ব প্রাপ্তির বিপরীতে নাগরিকসেবা যেমন বাড়েনি, তেমনি এর মানও আগের মতো রয়েছে। পুরান ঢাকার মূল সমস্যা যানজট, জলাবদ্ধতা, মশকনিধনে সফলতা আসেনি। নাগরিকরা তাদের রাজস্ব প্রদান বাড়িয়েছেন; কিন্তু সিটি করপোরেশন বাড়াতে পারেনি পরিষেবা। এর সাথে বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি আগের মতো রয়েছে। সিটি করপোরেশন এ কাজেও কোনো শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেনি। বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচলে নিয়ম-কানুন মেনে চলা হয় না। ফলে রাস্তায় যাতায়াতে কষ্ট রয়েছে। ডিএসসিসি বাস ও মিনিবাস থেকে টোল আদায় করতে পাঁচটি এলাকার অধীনে ৫৭টি স্থান ইজারা দিয়েছে। পত্রিকাটি জানাচ্ছে, টোল আদায়ের নামে এসব স্থানে এখন চাঁদাবাজি চলছে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সাথে ডিএসসিসির দ্বন্দ্ব চলছে। এ কারণে দক্ষিণের নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ এলাকার আওতাধীন খেলার মাঠ ও পার্কে খাবারের দোকান ইজারা দেয়া হয়েছে। যেখানে পুরান ঢাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি একটি এলাকা; জনপরিসর একেবারে নেই, মানুষ উন্মুক্তভাবে শ্বাস নিতেও পারে না। এর ওপর আছে খাল ও সড়কের জায়গা দখলের মহড়া। উভয় সিটিতে প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছেন বহু জায়গা। মোটের ওপর দুটো সিটিতে একই অব্যবস্থাপনা চলছে। এ দিকে নগরপিতারা এমনকি সরকারও মন ভোলানো বুলি আওড়ায়। প্রকৃত বাস্তবতায় প্রতিশ্রুত সংস্কার নেই, নেই উন্নয়ন। এমনটি দুর্ভাগ্যের।