ইপেপার । আজশনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভূমিহীন প্রতিবন্ধী দম্পতির মানবেতর জীবনযাপন

প্রতিবেদক, গাংনী:
  • আপলোড টাইম : ০৮:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ায় অন্যের জায়গায় জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আমিরুল ও শিউলি নামের এক প্রতিবন্ধী দম্পতি। দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবন্ধী এই দম্পতি মানবেতর জীবন যাপন করলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি আশ্রয়ণের ঘর। বার বার বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিলেও কোনো লাভ হয়নি অসহায় এবং প্রতিবন্ধী দম্পতির। সুবিধা ভোগের উপযুক্ত হয়েও নিজস্ব মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে চরম হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে দিন যাপন করছেন তারা। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও মৃত্যুর আগে তাদের স্বপ্ন মাথা গোঁজার জন্য নিজস্ব একটু জায়গার।

গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ওই দম্পতির বাড়ি গিয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপনের দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রতিবন্ধী আমিরুল তার প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে অন্যের জমিতে দোচালা মরিচা পড়া টিনের জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন। সম্পদ বলতে তাদের ঘরে দেখা যায় একটি নড়বড়ে চৌকি, হাড়ি পাতিল, থালাবাসন, মরচেধরা একটা বাক্স, একটা র‌্যাক আর দড়িতে ঝুলানো ছিলো কিছু কাপড়-চোপড় ও একটি মাটির চুলা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা হেফাজ উদ্দীন বলেন, নিঃসন্তান এই দম্পতি কষ্টে বেঁচে আছেন। তাদের না আছে কোনো ফসলি জমি না আছে বাড়ির জমি। আর পাঁচজন স্বাভাবিক মানুষের মতো কাজ করার সক্ষমতাও নেই আমিরুলের। নিঃসন্তান আমিরুলকে দেখার মতো কেউ নেই। তার বাবা, মা মারা গেছে অনেক আগে। প্রতিবন্ধী আমিরুল মাঠে অন্যের ভেড়া চড়িয়ে কোনো রকমে সংসার চালায়। তাদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সহায়তা চোখে পড়েনি।

প্রতিবেশী নিয়াজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ায় ওই দম্পতি ঠিকমত কথা বার্তা বলতেও পারে না। সরকার থেকে তাদের মাথা গোঁজার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে তারা শান্তিতে রাত পার করতে পারতো। সরকার এত এত সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তারা কিছুই পায় না। কোনো দিন খায় আবার কোনো দিন না খেয়েও থাকে। তারা যে ঘরে বসবাস করে, সেই ঘরটাও বসবাসের উপযোগী নয়। তাদের ঘরে কোন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতম সাহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি ওই প্রতিবন্ধীর ঠিকানা নেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে জানান।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ভূমিহীন প্রতিবন্ধী দম্পতির মানবেতর জীবনযাপন

আপলোড টাইম : ০৮:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ায় অন্যের জায়গায় জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আমিরুল ও শিউলি নামের এক প্রতিবন্ধী দম্পতি। দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবন্ধী এই দম্পতি মানবেতর জীবন যাপন করলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি আশ্রয়ণের ঘর। বার বার বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিলেও কোনো লাভ হয়নি অসহায় এবং প্রতিবন্ধী দম্পতির। সুবিধা ভোগের উপযুক্ত হয়েও নিজস্ব মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে চরম হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে দিন যাপন করছেন তারা। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও মৃত্যুর আগে তাদের স্বপ্ন মাথা গোঁজার জন্য নিজস্ব একটু জায়গার।

গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ওই দম্পতির বাড়ি গিয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপনের দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রতিবন্ধী আমিরুল তার প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে অন্যের জমিতে দোচালা মরিচা পড়া টিনের জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন। সম্পদ বলতে তাদের ঘরে দেখা যায় একটি নড়বড়ে চৌকি, হাড়ি পাতিল, থালাবাসন, মরচেধরা একটা বাক্স, একটা র‌্যাক আর দড়িতে ঝুলানো ছিলো কিছু কাপড়-চোপড় ও একটি মাটির চুলা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা হেফাজ উদ্দীন বলেন, নিঃসন্তান এই দম্পতি কষ্টে বেঁচে আছেন। তাদের না আছে কোনো ফসলি জমি না আছে বাড়ির জমি। আর পাঁচজন স্বাভাবিক মানুষের মতো কাজ করার সক্ষমতাও নেই আমিরুলের। নিঃসন্তান আমিরুলকে দেখার মতো কেউ নেই। তার বাবা, মা মারা গেছে অনেক আগে। প্রতিবন্ধী আমিরুল মাঠে অন্যের ভেড়া চড়িয়ে কোনো রকমে সংসার চালায়। তাদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সহায়তা চোখে পড়েনি।

প্রতিবেশী নিয়াজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ায় ওই দম্পতি ঠিকমত কথা বার্তা বলতেও পারে না। সরকার থেকে তাদের মাথা গোঁজার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে তারা শান্তিতে রাত পার করতে পারতো। সরকার এত এত সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তারা কিছুই পায় না। কোনো দিন খায় আবার কোনো দিন না খেয়েও থাকে। তারা যে ঘরে বসবাস করে, সেই ঘরটাও বসবাসের উপযোগী নয়। তাদের ঘরে কোন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতম সাহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি ওই প্রতিবন্ধীর ঠিকানা নেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে জানান।