ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে দুর্ভোগ ; গলার কাঁটা ছাড়াবে কে

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক। অস্বাভাবিক বিলের কবলে পড়ে প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হতে হয় অনেককে। এখন তার সাথে যোগ হয়েছে প্রিপেইড মিটারের যন্ত্রণা। ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তির মিটার দেয়ার কথা বলা হলেও এতে ভোগান্তি আরো বেড়েছে। প্রিপেইড মিটারেও ঘটছে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা। অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিক্ষোভও করছেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের পর আগের অবশিষ্ট ব্যালান্স যোগ হয় না, বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় বাড়তি টাকা কাটা হয় এবং অনেক সময় ব্যালান্স দেখা যায় না। প্রিপেইড মিটার এখন অনেক গ্রাহকের ‘গলার কাঁটা’য় পরিণত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মিটারে রিচার্জ করলে টাকা থাকছে না, বাড়তি টাকা কেটে নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। রাজধানীর এক গ্রাহকের উদাহরণ এসেছে একটি দৈনিকের রিপোর্টে। তিনি বলেন, মার্চে তার প্রিপেইড মিটারে খরচ হয় ৭০০ টাকা, এপ্রিলে তা বেড়ে হয় এক হাজার ২০০ টাকা এবং মে মাসে খরচ হয় এক হাজার ৮০০ টাকা। অথচ এই তিন মাস বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়েনি। তবে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে রিচার্জে। আগে রিচার্জে ২০ ডিজিট (সংখ্যা) মিটারে প্রবেশ করাতে হতো। কয়েক মাস ধরে ১২০-২২০ কিংবা ৩২০ ডিজিটের দীর্ঘ এবং অদ্ভুতুড়ে ওটিপি বা টোকেন নম্বর ইনপুট দিতে হয়, যার দ্বিতীয় কোনো দৃষ্টান্ত গোটা পৃথিবীতে আছে বলে আমাদের জানা নেই। একসাথে এত ডিজিট প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল না হওয়াই অস্বাভাবিক। অথচ কয়েকবার ভুল হলে মিটার লক হয়ে যায়। মিটার আনলক না করা পর্যন্ত যত দীর্ঘ সময়ই হোক বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। আবার মিটার আনলক করতেও টাকা দিতে হয় অনেক এলাকায়। এর চেয়ে বড় বিড়ম্বনা আর কী হতে পারে? এটি প্রযুক্তির নামে নিছক মানুষকে হয়রানির নামান্তর।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চ আদালত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রায় এক মাস আগে। এখনো ওই কমিটি হয়নি, তদন্ত দূরের কথা। প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে এমন দাবির অবকাশ আদৌ নেই। তদন্ত করলে পরিষ্কার হবে গ্রাহকের অভিযোগ ভুল কি না। পল্লী বিদ্যুতের কিছু গ্রাহক নিম্নমানের মিটার সরবরাহের অভিযোগ করেছেন। এটিও দেখা জরুরি। মিটার সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে বিতরণ কোম্পানির লোকেরা ভুল করে এটি প্রমাণিত সত্য। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকের ভোগান্তির দায় কোম্পানির।

অনেক সময় মিটার রিডার প্রকৃত রিডিংয়ের চেয়ে বেশি রিডিং দেখিয়ে বাড়তি বিল করেন। এটি শুধু ব্যক্তির বিষয় নয়। খোদ কোম্পানির লেটার হেডে চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত বিল করতে বলা হয়েছে এমন অভিযোগ প্রমাণিত। এ জন্য ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানির কিছু কর্মকর্তার শাস্তিও হয়েছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে দুর্ভোগ ; গলার কাঁটা ছাড়াবে কে

আপলোড টাইম : ০৯:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক। অস্বাভাবিক বিলের কবলে পড়ে প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হতে হয় অনেককে। এখন তার সাথে যোগ হয়েছে প্রিপেইড মিটারের যন্ত্রণা। ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তির মিটার দেয়ার কথা বলা হলেও এতে ভোগান্তি আরো বেড়েছে। প্রিপেইড মিটারেও ঘটছে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা। অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিক্ষোভও করছেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের পর আগের অবশিষ্ট ব্যালান্স যোগ হয় না, বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় বাড়তি টাকা কাটা হয় এবং অনেক সময় ব্যালান্স দেখা যায় না। প্রিপেইড মিটার এখন অনেক গ্রাহকের ‘গলার কাঁটা’য় পরিণত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মিটারে রিচার্জ করলে টাকা থাকছে না, বাড়তি টাকা কেটে নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। রাজধানীর এক গ্রাহকের উদাহরণ এসেছে একটি দৈনিকের রিপোর্টে। তিনি বলেন, মার্চে তার প্রিপেইড মিটারে খরচ হয় ৭০০ টাকা, এপ্রিলে তা বেড়ে হয় এক হাজার ২০০ টাকা এবং মে মাসে খরচ হয় এক হাজার ৮০০ টাকা। অথচ এই তিন মাস বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়েনি। তবে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে রিচার্জে। আগে রিচার্জে ২০ ডিজিট (সংখ্যা) মিটারে প্রবেশ করাতে হতো। কয়েক মাস ধরে ১২০-২২০ কিংবা ৩২০ ডিজিটের দীর্ঘ এবং অদ্ভুতুড়ে ওটিপি বা টোকেন নম্বর ইনপুট দিতে হয়, যার দ্বিতীয় কোনো দৃষ্টান্ত গোটা পৃথিবীতে আছে বলে আমাদের জানা নেই। একসাথে এত ডিজিট প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল না হওয়াই অস্বাভাবিক। অথচ কয়েকবার ভুল হলে মিটার লক হয়ে যায়। মিটার আনলক না করা পর্যন্ত যত দীর্ঘ সময়ই হোক বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। আবার মিটার আনলক করতেও টাকা দিতে হয় অনেক এলাকায়। এর চেয়ে বড় বিড়ম্বনা আর কী হতে পারে? এটি প্রযুক্তির নামে নিছক মানুষকে হয়রানির নামান্তর।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চ আদালত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রায় এক মাস আগে। এখনো ওই কমিটি হয়নি, তদন্ত দূরের কথা। প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে এমন দাবির অবকাশ আদৌ নেই। তদন্ত করলে পরিষ্কার হবে গ্রাহকের অভিযোগ ভুল কি না। পল্লী বিদ্যুতের কিছু গ্রাহক নিম্নমানের মিটার সরবরাহের অভিযোগ করেছেন। এটিও দেখা জরুরি। মিটার সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে বিতরণ কোম্পানির লোকেরা ভুল করে এটি প্রমাণিত সত্য। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকের ভোগান্তির দায় কোম্পানির।

অনেক সময় মিটার রিডার প্রকৃত রিডিংয়ের চেয়ে বেশি রিডিং দেখিয়ে বাড়তি বিল করেন। এটি শুধু ব্যক্তির বিষয় নয়। খোদ কোম্পানির লেটার হেডে চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত বিল করতে বলা হয়েছে এমন অভিযোগ প্রমাণিত। এ জন্য ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানির কিছু কর্মকর্তার শাস্তিও হয়েছে।