ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো কোর্টে মামলা দায়ের

জীবননগর অফিস:
  • আপলোড টাইম : ১১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

দুবাই পাঠানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জীবননগর পৌরসভার তেঁতুলিয়া গ্রামের খলিল মোল্লার ছেলে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তিনি জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চারজনকে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জাল টিকিট ও ওয়ার্ক পারমিট দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় উল্টো মাসুম বিল্লাহর পিতা খলিল মোল্লা বাদী হয়ে ভুক্তভোগীদের নামে চুয়াডাঙ্গার আমলি আদালতে মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মাসুম বিল্লাহর সাথে বাদী আশরাফুল হকের গ্রামের মহিদুল ইসলামের মেয়ের বিয়ে হয়। সেই সুবাদে উভয় পরিবারের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় মাসুম বিল্লাহ আশরাফুল হককে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভালো চাকরির কথা বলে চারজনকে ম্যানেজ করে। গত বছরের ১১ এপ্রিল বাড়িতে এসে বাদীসহ ৪ জনের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের ২ কপি ফটোকপি, ৬ কপি করে ছবি এবং জনপ্রতি তার বেয়াই মহিদুলের নিকট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, পরে তার স্ত্রীর ডাচ্ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সর্বমোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেয় এবং কথা থাকে আগামী ২ মাসের মধ্যে সকলকে বিদেশ পাঠাবে।
কিছুদিন পরে মাসুম বিল্লাহ একটি ওয়ার্ক পারমিট পাঠিয়ে দুবাই নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ দুই মাস কোনো কাজ না দিয়ে একটি ঘরে রাখে এবং মাসুম বিল্লাহ তাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে আশরাফুল তার পরিবারের নিকট থেকে টাকা নিয়ে দুবাই থেকে বাড়ি চলে আসেন। আশরাফুল হক মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে যেয়ে টাকা ফেরত চাইলে মাসুম বিল্লাহর বাবা খলিল মোল্লা বাদী হয়ে আশরাফুলসহ ৪ জনের নামে কোর্টে মামলা করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মাসুম বিল্লাহ এর আগে জীবননগরে একটি গরু চোরের ঘটনায় এলাকা ছাড়া হয়। শুধু তাই নয়, তার বাবা খলিল মোল্লা সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ওমর ফারুকের নিকট জমি বিক্রির নামে বায়না বাবদ ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে তার জমি রেজিস্ট্রি করেনি। বরং তার নামেও ডিবি অফিসে মামলা করেছে। তাছাড়া খলিল মোল্লার বিরুদ্ধে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ব্যাগ চুরি ও নিজের ছেলের বউকে ধর্ষণ করার অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আশরাফুল হক বলেন, ‘মাসুম বিল্লাহ আমাকে দুবাই ভালো কাজ দেওয়ার নাম করে আমার নিকট থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছিল। আমি দুবাই যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এতে আমার সমস্ত কিছু আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় আমি আমার শেষ সম্বল জমি বিক্রি ও লোন করে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে নিয়ে গিয়ে কাজ তো দূরে থাক, আমরা ঠিক মতো খেতেই পেতাম না। অবশেষে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে টিকিট কেটে বাড়ি চলে আসি। মাসুমদের বাড়িতে যেয়ে কাজ দিতে না পারার কথা বলতেই তার বাবা ও ভাই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তাদের নিকট টাকা ফেরত চাইলে মাসুমের বাবা খলিল মোল্লা আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই এবং আমার টাকা ফেরত চাই।
সীমান্ত ইউনিয়ন লোকমোর্চার সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, ‘খলিল মোল্লার নিকট থেকে জমি নেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। তার সমস্ত কাগজপত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু সেই জমি তারা দখল না দিয়ে বরং আমাদের নামে ডিবির কাছে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’
এ বিষয়ে খলিল মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের মাধ্যমে বিদেশে গেছে কি যায়নি, সেটা আমি জানি না। তার সাথে কী লেনদেন হয়েছে, সেটা আমি কিছুই জানি না। আর জমির বিষয়ে আমি একটা মামলা করেছি। আইন যা করবে তাই হবে।’
জীবননগর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নারায়ণপুর গ্রামের আশরাফুল হক একজন দিনমজুর। সে একজন ভালো রাজমিস্ত্রি ছিল। সে অনেক কষ্ট করে মাসুম বিল্লার কাছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিল দুবাই যাওয়ার জন্য। এ বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু মাসুম তাদের দুবাই কাজ দিতে না পারায় আশরাফুল বাড়ি চলে আসে। মাসুম এবং তার বাবার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। তবে এটা সঠিক তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যাতে কোনো ব্যক্তি তাদের নিকট প্রতারিত না হয়।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

জীবননগরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো কোর্টে মামলা দায়ের

আপলোড টাইম : ১১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

দুবাই পাঠানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জীবননগর পৌরসভার তেঁতুলিয়া গ্রামের খলিল মোল্লার ছেলে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তিনি জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চারজনকে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জাল টিকিট ও ওয়ার্ক পারমিট দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় উল্টো মাসুম বিল্লাহর পিতা খলিল মোল্লা বাদী হয়ে ভুক্তভোগীদের নামে চুয়াডাঙ্গার আমলি আদালতে মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মাসুম বিল্লাহর সাথে বাদী আশরাফুল হকের গ্রামের মহিদুল ইসলামের মেয়ের বিয়ে হয়। সেই সুবাদে উভয় পরিবারের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় মাসুম বিল্লাহ আশরাফুল হককে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভালো চাকরির কথা বলে চারজনকে ম্যানেজ করে। গত বছরের ১১ এপ্রিল বাড়িতে এসে বাদীসহ ৪ জনের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের ২ কপি ফটোকপি, ৬ কপি করে ছবি এবং জনপ্রতি তার বেয়াই মহিদুলের নিকট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, পরে তার স্ত্রীর ডাচ্ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সর্বমোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেয় এবং কথা থাকে আগামী ২ মাসের মধ্যে সকলকে বিদেশ পাঠাবে।
কিছুদিন পরে মাসুম বিল্লাহ একটি ওয়ার্ক পারমিট পাঠিয়ে দুবাই নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ দুই মাস কোনো কাজ না দিয়ে একটি ঘরে রাখে এবং মাসুম বিল্লাহ তাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে আশরাফুল তার পরিবারের নিকট থেকে টাকা নিয়ে দুবাই থেকে বাড়ি চলে আসেন। আশরাফুল হক মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে যেয়ে টাকা ফেরত চাইলে মাসুম বিল্লাহর বাবা খলিল মোল্লা বাদী হয়ে আশরাফুলসহ ৪ জনের নামে কোর্টে মামলা করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মাসুম বিল্লাহ এর আগে জীবননগরে একটি গরু চোরের ঘটনায় এলাকা ছাড়া হয়। শুধু তাই নয়, তার বাবা খলিল মোল্লা সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ওমর ফারুকের নিকট জমি বিক্রির নামে বায়না বাবদ ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে তার জমি রেজিস্ট্রি করেনি। বরং তার নামেও ডিবি অফিসে মামলা করেছে। তাছাড়া খলিল মোল্লার বিরুদ্ধে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ব্যাগ চুরি ও নিজের ছেলের বউকে ধর্ষণ করার অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আশরাফুল হক বলেন, ‘মাসুম বিল্লাহ আমাকে দুবাই ভালো কাজ দেওয়ার নাম করে আমার নিকট থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছিল। আমি দুবাই যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এতে আমার সমস্ত কিছু আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় আমি আমার শেষ সম্বল জমি বিক্রি ও লোন করে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে নিয়ে গিয়ে কাজ তো দূরে থাক, আমরা ঠিক মতো খেতেই পেতাম না। অবশেষে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে টিকিট কেটে বাড়ি চলে আসি। মাসুমদের বাড়িতে যেয়ে কাজ দিতে না পারার কথা বলতেই তার বাবা ও ভাই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তাদের নিকট টাকা ফেরত চাইলে মাসুমের বাবা খলিল মোল্লা আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই এবং আমার টাকা ফেরত চাই।
সীমান্ত ইউনিয়ন লোকমোর্চার সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, ‘খলিল মোল্লার নিকট থেকে জমি নেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। তার সমস্ত কাগজপত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু সেই জমি তারা দখল না দিয়ে বরং আমাদের নামে ডিবির কাছে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’
এ বিষয়ে খলিল মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের মাধ্যমে বিদেশে গেছে কি যায়নি, সেটা আমি জানি না। তার সাথে কী লেনদেন হয়েছে, সেটা আমি কিছুই জানি না। আর জমির বিষয়ে আমি একটা মামলা করেছি। আইন যা করবে তাই হবে।’
জীবননগর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নারায়ণপুর গ্রামের আশরাফুল হক একজন দিনমজুর। সে একজন ভালো রাজমিস্ত্রি ছিল। সে অনেক কষ্ট করে মাসুম বিল্লার কাছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিল দুবাই যাওয়ার জন্য। এ বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু মাসুম তাদের দুবাই কাজ দিতে না পারায় আশরাফুল বাড়ি চলে আসে। মাসুম এবং তার বাবার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। তবে এটা সঠিক তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যাতে কোনো ব্যক্তি তাদের নিকট প্রতারিত না হয়।