ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ; অভিভাবকের চাহিদা আমলে নিন

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:৪৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী কমেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের বিদ্যালয় শুমারিতে দেখা যাচ্ছে, এর আগের বছরের তুলনায় আট লাখ ৩২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে। এমন একসময় প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী কমছে যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ২০২১ সালে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রী কমে যায়। সে বছর ছিল করোনা মহামারীর বিস্তার। পরের বছরগুলোতে এ সংখ্যা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিকে পড়াশোনায় অনাগ্রহের কথা নানাভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে কী কারণে আগ্রহ হারাচ্ছে তা নিয়ে কোনো সমীক্ষা হয়নি।

শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। এখন মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক লাখ ১৪ হাজার ৬৩০টি। এসব বিদ্যালয়ে ২০২২ সালে দুই কোটি সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। পরের বছর এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় এক কোটি ৯৭ লাখের কিছু বেশি। ঝরেপড়ার হার আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো ১৩ শতাংশের বেশি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-তে বলা হয়েছিল ১ : ৩০। এখন সেটি ১ : ২৯ । প্রয়োজনীয় শিক্ষক প্রাথমিকে রয়েছে।

এ দিকে সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ প্রণয়ন করেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে বলে সরকারের দাবি। এতে সম্পূর্ণ নতুন করে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা, মূল্যায়ন নির্দেশিকাসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ শিক্ষাকে বলা হচ্ছে ‘অভিজ্ঞতামূলক শিখনপদ্ধতি’। প্রাইমারিতে অনুকূল পরিবেশ বৃদ্ধির পরও কেন শিক্ষার্থীরা কম ভর্তি হচ্ছে- এ নিয়ে একটি পত্রিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাপস কুমারের কাছে কারণ জানতে চায়। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মাদরাসা শিক্ষায় ঝুঁকছে, আরেকটি অংশ ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে গেছে।

তাপস কুমারের পর্যবেক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো জরিপ হয়নি। তবে সাদা চোখে এর সত্যতা অনুমান করা যায়। সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ সন্তানকে মাদরাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। মধ্য ও নিম্নবিত্তের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এদিকে উচ্চবিত্তের একটি অংশ তাদের শিশুসন্তানকে পাঠাচ্ছে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে দ্বিধা ও সন্দেহ থেকে সরকারি প্রাথমিকে না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অভিভাবকরা।

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নপদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর জোর দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। এমন কিছু বিষয় সামনে এসেছে যাতে আস্থা রাখা যাচ্ছে না। শিশুদের স্কুলে এমন কিছু শিক্ষা দেয়া হচ্ছে; যা পরিবারে স্বাভাবিকভাবে শেখে। অভিভাবকরা মূলত অঙ্ক বিজ্ঞান ও ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনে সন্তানদের স্কুলে পাঠান। একটি শ্রেণী আছে যারা পঞ্চম শ্রেণী কিংবা অষ্টম শ্রেণীর পর সন্তানদের আর পড়ান না। প্রাতিষ্ঠানিক এ শিক্ষা গ্রহণে তাদের লক্ষ্য হিসাব-নিকাশ করতে পারা। সাথে কিছু সাধারণ জ্ঞান জানা, যা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যাবে। এর সাথে বাবা-মা চান সন্তানরা স্কুল থেকে কিছু নীতিকথা শিখুক, তাদের মধ্যে যেন মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। নতুন প্রণীত শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের তীব্র অনাস্থা যে, তাদের শিশুসন্তানরা স্কুল থেকে সেটি পাবে না। ফলে একটি শ্রেণী মাদরাসা ও ইংরেজিমাধ্যম স্কুলকে প্রাথমিক শিক্ষায় অপেক্ষাকৃত উপযুক্ত মনে করছে। আমরা মনে করি, অভিভাবকদের চাহিদার দিকটি সরকারের বিবেচনায় নেয়া উচিত।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ; অভিভাবকের চাহিদা আমলে নিন

আপলোড টাইম : ০৯:৪৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী কমেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের বিদ্যালয় শুমারিতে দেখা যাচ্ছে, এর আগের বছরের তুলনায় আট লাখ ৩২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে। এমন একসময় প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী কমছে যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ২০২১ সালে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রী কমে যায়। সে বছর ছিল করোনা মহামারীর বিস্তার। পরের বছরগুলোতে এ সংখ্যা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিকে পড়াশোনায় অনাগ্রহের কথা নানাভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে কী কারণে আগ্রহ হারাচ্ছে তা নিয়ে কোনো সমীক্ষা হয়নি।

শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। এখন মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক লাখ ১৪ হাজার ৬৩০টি। এসব বিদ্যালয়ে ২০২২ সালে দুই কোটি সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। পরের বছর এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় এক কোটি ৯৭ লাখের কিছু বেশি। ঝরেপড়ার হার আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো ১৩ শতাংশের বেশি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-তে বলা হয়েছিল ১ : ৩০। এখন সেটি ১ : ২৯ । প্রয়োজনীয় শিক্ষক প্রাথমিকে রয়েছে।

এ দিকে সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ প্রণয়ন করেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে বলে সরকারের দাবি। এতে সম্পূর্ণ নতুন করে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা, মূল্যায়ন নির্দেশিকাসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ শিক্ষাকে বলা হচ্ছে ‘অভিজ্ঞতামূলক শিখনপদ্ধতি’। প্রাইমারিতে অনুকূল পরিবেশ বৃদ্ধির পরও কেন শিক্ষার্থীরা কম ভর্তি হচ্ছে- এ নিয়ে একটি পত্রিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাপস কুমারের কাছে কারণ জানতে চায়। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মাদরাসা শিক্ষায় ঝুঁকছে, আরেকটি অংশ ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে গেছে।

তাপস কুমারের পর্যবেক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো জরিপ হয়নি। তবে সাদা চোখে এর সত্যতা অনুমান করা যায়। সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ সন্তানকে মাদরাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। মধ্য ও নিম্নবিত্তের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এদিকে উচ্চবিত্তের একটি অংশ তাদের শিশুসন্তানকে পাঠাচ্ছে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে দ্বিধা ও সন্দেহ থেকে সরকারি প্রাথমিকে না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অভিভাবকরা।

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নপদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর জোর দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। এমন কিছু বিষয় সামনে এসেছে যাতে আস্থা রাখা যাচ্ছে না। শিশুদের স্কুলে এমন কিছু শিক্ষা দেয়া হচ্ছে; যা পরিবারে স্বাভাবিকভাবে শেখে। অভিভাবকরা মূলত অঙ্ক বিজ্ঞান ও ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনে সন্তানদের স্কুলে পাঠান। একটি শ্রেণী আছে যারা পঞ্চম শ্রেণী কিংবা অষ্টম শ্রেণীর পর সন্তানদের আর পড়ান না। প্রাতিষ্ঠানিক এ শিক্ষা গ্রহণে তাদের লক্ষ্য হিসাব-নিকাশ করতে পারা। সাথে কিছু সাধারণ জ্ঞান জানা, যা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যাবে। এর সাথে বাবা-মা চান সন্তানরা স্কুল থেকে কিছু নীতিকথা শিখুক, তাদের মধ্যে যেন মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। নতুন প্রণীত শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের তীব্র অনাস্থা যে, তাদের শিশুসন্তানরা স্কুল থেকে সেটি পাবে না। ফলে একটি শ্রেণী মাদরাসা ও ইংরেজিমাধ্যম স্কুলকে প্রাথমিক শিক্ষায় অপেক্ষাকৃত উপযুক্ত মনে করছে। আমরা মনে করি, অভিভাবকদের চাহিদার দিকটি সরকারের বিবেচনায় নেয়া উচিত।