ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস দরকার; ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে না

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে বছরে তিন দফা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। প্রথমদিকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর মনে হয়েছে। কাগজে-কলমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির হিসাবও দেখা গেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, ইলিশের উৎপাদন আশানুরূপ বাড়ছে না। বাজার পর্যবেক্ষণ ও জেলেদের থেকে প্রাপ্ত মতামতে এর প্রতিফলন রয়েছে। অন্যদিকে ভারতে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের বঙ্গোপসাগরে যখন দফায় দাফায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে; তখন ভারতের জেলেরা অবাধে মাছ ধরেন। এ সময় তাদের ইলিশ আহরণের পরিমাণ বাড়ে। আসলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল নিতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলের গরিব মৎস্যজীবীরা। অচিরেই এ নীতি বদলানো প্রয়োজন হলেও সরকারের কোনো সাড়া নেই।

মা-মাছকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে বাংলাদেশে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অক্টোবরের ২২ দিন। বাচ্চা ইলিশ সুরক্ষায় পয়লা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল টানা দুই মাস, আবার মাছের বাড়াতে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। বিপরীতে ভারতে এ নিষেধাজ্ঞা ১৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত। তবে ৫ জুন থেকে সাগরে ইলিশ ধরা শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশে অতিরিক্ত হিসেবে পটুয়াখালী অভয়ারণ্যে নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে।
ইলিশের ৭৫ শতাংশ উৎপাদন বাংলাদেশের উপকূলে। বাদবাকি লাগোয়া ভারতের অংশে উৎপাদন হয়। এ অবস্থায় ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে একতরফাভাবে বাংলাদেশ মোটাদাগে পাঁচ মাসের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখছে। এতে ইলিশ উৎপাদন কাক্সিক্ষত হারে না বাড়লেও পশ্চিমবঙ্গের জেলেরা একচেটিয়া ইলিশ আহরণের সুযোগ পাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় অংশে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আবার বাংলাদেশ অংশে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় অবাধে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে ইলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় জেলেরা।

আমাদের অংশে সতর্ক পাহারা থাকে না। অবৈধভাবে ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরা ঠেকানোর তৎপরতা খুব দুর্বল। একই সময় দেশের লাখ লাখ জেলে মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা সরকারের নিয়ম মানতে গিয়ে আর্থিকভাবে চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। জেলেদের এমন ত্যাগ স্বীকারের পরও দেশের লাভ হচ্ছে না। খবর মিলছে, ভারতে ধরা এ সময়ে ইলিশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মা ইলিশ রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধের সময়সূচি পেছানোর দাবি করছেন জেলেরা।
বাংলাদেশের জেলেরা জানাচ্ছেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে তারা যেকোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত। তবে সেটি যেন কার্যকর কিছু হয়। ভারত ও বাংলাদেশ ইলিশ ধরার ওপর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এর উৎপাদন বাড়াতে কোনো কাজে আসছে না। এ ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ হয়নি। দুটো দেশ সমন্বিতভাবে নিষেধাজ্ঞার সময় ঠিক করলে ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে কাজে আসতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইলিশের জীবন ও বংশ বিস্তারের ওপর পড়েছে। সঙ্গত কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা দরকার বলে আমরা মনে করি।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

নিষেধাজ্ঞার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস দরকার; ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে না

আপলোড টাইম : ০৯:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে বছরে তিন দফা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। প্রথমদিকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর মনে হয়েছে। কাগজে-কলমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির হিসাবও দেখা গেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, ইলিশের উৎপাদন আশানুরূপ বাড়ছে না। বাজার পর্যবেক্ষণ ও জেলেদের থেকে প্রাপ্ত মতামতে এর প্রতিফলন রয়েছে। অন্যদিকে ভারতে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের বঙ্গোপসাগরে যখন দফায় দাফায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে; তখন ভারতের জেলেরা অবাধে মাছ ধরেন। এ সময় তাদের ইলিশ আহরণের পরিমাণ বাড়ে। আসলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল নিতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলের গরিব মৎস্যজীবীরা। অচিরেই এ নীতি বদলানো প্রয়োজন হলেও সরকারের কোনো সাড়া নেই।

মা-মাছকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে বাংলাদেশে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অক্টোবরের ২২ দিন। বাচ্চা ইলিশ সুরক্ষায় পয়লা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল টানা দুই মাস, আবার মাছের বাড়াতে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। বিপরীতে ভারতে এ নিষেধাজ্ঞা ১৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত। তবে ৫ জুন থেকে সাগরে ইলিশ ধরা শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশে অতিরিক্ত হিসেবে পটুয়াখালী অভয়ারণ্যে নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে।
ইলিশের ৭৫ শতাংশ উৎপাদন বাংলাদেশের উপকূলে। বাদবাকি লাগোয়া ভারতের অংশে উৎপাদন হয়। এ অবস্থায় ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে একতরফাভাবে বাংলাদেশ মোটাদাগে পাঁচ মাসের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখছে। এতে ইলিশ উৎপাদন কাক্সিক্ষত হারে না বাড়লেও পশ্চিমবঙ্গের জেলেরা একচেটিয়া ইলিশ আহরণের সুযোগ পাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় অংশে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আবার বাংলাদেশ অংশে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় অবাধে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে ইলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় জেলেরা।

আমাদের অংশে সতর্ক পাহারা থাকে না। অবৈধভাবে ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরা ঠেকানোর তৎপরতা খুব দুর্বল। একই সময় দেশের লাখ লাখ জেলে মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা সরকারের নিয়ম মানতে গিয়ে আর্থিকভাবে চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। জেলেদের এমন ত্যাগ স্বীকারের পরও দেশের লাভ হচ্ছে না। খবর মিলছে, ভারতে ধরা এ সময়ে ইলিশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মা ইলিশ রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধের সময়সূচি পেছানোর দাবি করছেন জেলেরা।
বাংলাদেশের জেলেরা জানাচ্ছেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে তারা যেকোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত। তবে সেটি যেন কার্যকর কিছু হয়। ভারত ও বাংলাদেশ ইলিশ ধরার ওপর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এর উৎপাদন বাড়াতে কোনো কাজে আসছে না। এ ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ হয়নি। দুটো দেশ সমন্বিতভাবে নিষেধাজ্ঞার সময় ঠিক করলে ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে কাজে আসতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইলিশের জীবন ও বংশ বিস্তারের ওপর পড়েছে। সঙ্গত কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা দরকার বলে আমরা মনে করি।