ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতিবাজরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে; অপরাধীদের ছাড় দেয়া যায় না

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:২৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি দমনে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি কয়েকজন শীর্ষ আমলার দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর সে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে। সরকার আগে থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এই নীতি অনেকটাই কথার কথা হয়ে থেকেছে। কারণ এর মধ্যে দেশে দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। আমলাদের কারো কারো দুর্নীতির খবর ফাঁস হলেও তা নিয়ে সরকার চলছে ঢিমেতালে। উচিত ছিল দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা। কিন্তু সরকার এমনই ধীরগতিতে চলছে যে, এই সুযোগে অভিযুক্তরা লাপাত্তা। এতে করে মনে হতেই পারে যে, সরকার অভিযুক্তদের বেঁচে যাবার সুযোগ দিতে চায়।
পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের তদন্ত চলার সময় সরকারের ধীরনীতি দেখা গেছে। তাকে ও তার পরিবারকে দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়। বেনজীর সবসময় পুলিশ পাহারায় থাকা ভিআইপি ছিলেন। অথচ দেখা গেল, দুদকের নোটিশের পর তার কোনো খোঁজ মিলছে না। সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে, সম্ভবত তিনি বিদেশে চলে গেছেন।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা পিকে হালদারের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমরা দেখেছি। ইমিগ্রেশন পুলিশ বলেছে, তাদের কাছে দুদকের চিঠি পৌঁছার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে তিনি দেশত্যাগ করেন। আদালতের আদেশ, দুদকের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টা নিয়মমতো কাজ করলে এমন হওয়ার কথা নয়। এটাকে আমরা কাকতালীয় ঘটনা বলতে পারতাম এর পরের আরো বড় বড় দুর্নীতিবাজরা যদি পালিয়ে যেতে না পারতেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদ্য সাবেক সদস্য মো: মতিউর রহমানের ব্যাপারেও একই দৃশ্যের অবতারণা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। তাকে ওএসডি করা উচিত। এর আগে বহু কর্মকর্তাকে সরকার ওএসডি করেছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অসততার অভিযোগ ছিল না। মতিউরের অবস্থান নিয়েও বেনজীরের মতো ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি লোক মারফত ইতোমধ্যে আইআরডিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তিনি কোথায় আছেন। অসমর্থিত খবরে বলা হচ্ছে, তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন এবং তিনিও ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। এর আগে পুলিশের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তাও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দেশ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অবশ্য তিনি বিদেশ থেকে জানান চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। অচিরেই ফিরে আসবেন। তবে বেশ কিছু দিন পার হলেও এখনো তার ফেরার কোনো খবর নেই।
সাম্প্রতিক দুর্নীতির যে ইস্যু আমরা উল্লেখ করলাম তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে যথেষ্ট তৎপর দেখা গেল না। বরং সরকারের আচরণে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই সরকারের আমলে আমরা বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখেছি। বিশেষ করে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের নৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন দরকার। অপরাধীদের ছাড় দেয়া কোনোভাবেই চলতে পারে না।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

দুর্নীতিবাজরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে; অপরাধীদের ছাড় দেয়া যায় না

আপলোড টাইম : ০৯:২৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

দুর্নীতি দমনে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি কয়েকজন শীর্ষ আমলার দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর সে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে। সরকার আগে থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এই নীতি অনেকটাই কথার কথা হয়ে থেকেছে। কারণ এর মধ্যে দেশে দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। আমলাদের কারো কারো দুর্নীতির খবর ফাঁস হলেও তা নিয়ে সরকার চলছে ঢিমেতালে। উচিত ছিল দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা। কিন্তু সরকার এমনই ধীরগতিতে চলছে যে, এই সুযোগে অভিযুক্তরা লাপাত্তা। এতে করে মনে হতেই পারে যে, সরকার অভিযুক্তদের বেঁচে যাবার সুযোগ দিতে চায়।
পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের তদন্ত চলার সময় সরকারের ধীরনীতি দেখা গেছে। তাকে ও তার পরিবারকে দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়। বেনজীর সবসময় পুলিশ পাহারায় থাকা ভিআইপি ছিলেন। অথচ দেখা গেল, দুদকের নোটিশের পর তার কোনো খোঁজ মিলছে না। সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে, সম্ভবত তিনি বিদেশে চলে গেছেন।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা পিকে হালদারের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমরা দেখেছি। ইমিগ্রেশন পুলিশ বলেছে, তাদের কাছে দুদকের চিঠি পৌঁছার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে তিনি দেশত্যাগ করেন। আদালতের আদেশ, দুদকের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টা নিয়মমতো কাজ করলে এমন হওয়ার কথা নয়। এটাকে আমরা কাকতালীয় ঘটনা বলতে পারতাম এর পরের আরো বড় বড় দুর্নীতিবাজরা যদি পালিয়ে যেতে না পারতেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদ্য সাবেক সদস্য মো: মতিউর রহমানের ব্যাপারেও একই দৃশ্যের অবতারণা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। তাকে ওএসডি করা উচিত। এর আগে বহু কর্মকর্তাকে সরকার ওএসডি করেছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অসততার অভিযোগ ছিল না। মতিউরের অবস্থান নিয়েও বেনজীরের মতো ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি লোক মারফত ইতোমধ্যে আইআরডিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তিনি কোথায় আছেন। অসমর্থিত খবরে বলা হচ্ছে, তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন এবং তিনিও ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। এর আগে পুলিশের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তাও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দেশ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অবশ্য তিনি বিদেশ থেকে জানান চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। অচিরেই ফিরে আসবেন। তবে বেশ কিছু দিন পার হলেও এখনো তার ফেরার কোনো খবর নেই।
সাম্প্রতিক দুর্নীতির যে ইস্যু আমরা উল্লেখ করলাম তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে যথেষ্ট তৎপর দেখা গেল না। বরং সরকারের আচরণে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই সরকারের আমলে আমরা বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখেছি। বিশেষ করে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের নৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন দরকার। অপরাধীদের ছাড় দেয়া কোনোভাবেই চলতে পারে না।