ইপেপার । আজরবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মেহেরপুরে নিম্নমানের এক ট্রাক ধানের বীজ জব্দ

ব্যবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রতিবেদক, বারাদী:
  • আপলোড টাইম : ১১:১২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুর সদরের রাজনগর গ্রামে প্রশাসনের অভিযানে আরমান বীজ ভাণ্ডার থেকে অনিবন্ধিত জাতের নিম্নমানের স্বর্ণা জাতের ধানের বীজ উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বীজ বোর্ডের নিবন্ধনহীন যেকোনো জাতের ধান বীজ প্যাকেটজাত ও বিক্রি করা দণ্ডনীয় হলেও আরমান বীজ ভাণ্ডার তা করে করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। গত শনিবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দেড় হাজারেরও বেশি বিভিন্ন জাতের প্যাকেটজাত ধান বীজ। বীজের মান নির্ণয়ে যার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ঢাকায় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির পরীক্ষাগারে। জানা গেছে, গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রাম থেকে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছিল। বীজগুলো বিক্রির জন্য পাঠানো হতো বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার বীজ ব্যবসায়ীদের কাছে। সেখান থেকে হাত বদল হয়ে চলে যাবে গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল কৃষকদের হাতে। মানহীন বীজ ট্রাক বোঝাই করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশের অভিযানে ওই ট্রাক থেকে মিলে অনিবন্ধিত ভারতীয় স্বর্ণা জাতের ধানবীজ।
এই ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয় আরও এক হাজার ৬০০ বস্তা ব্রী ধান ৮৭, বি.আর ১০, বি.আর ১১ জাতের ধান বীজ। যার প্রতি বস্তায় ছিল ১০ কেজি করে বীজ। গুদাম ঘরেও ছিল কয়েক হাজার ধান বীজের প্যাকেট। এসব বীজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে গাজীপুরে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কেন্দ্রীয় বীজ পরীক্ষাগারে। জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার রঞ্জন কুমার প্রামাণিক জানান, স্বর্ণাসহ স্থানীয়ভাবে নামকরণ করা বিভিন্ন জাতের ধান বাংলাদেশে চাষাবাদের জন্য জাত হিসেবে জাতীয় সীড বোর্ডের কোনো অনুমোদন নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উচ্চ ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে ধানের তিন মৌসুমেই একই জাতের ধান বীজ বিক্রি করছে। ফলে ধান আবাদের ক্ষেত্রে চাষীদের মাঝে নানা ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। অন্যদিকে অনিবন্ধিত এসব ধান আবাদের ফলে ধানের নানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিসহ ফলন বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও এ জাতের ধানের জীবনকালও বেশি। দেশে অনেক উন্নত স্বল্প জীবনকালের ধান বীজ রয়েছে। সকলের উচিত এ জাতের বীজগুলো কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, এভাবে মানহীন ও অনিবন্ধিত বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছালে দেশে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়বে বলেও মত তার। জব্দকৃত বীজের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার গাজীপুরের গাজীপুর বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কেন্দ্রীয় বীজ পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। মানহীন বীজ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজি নাজিব হাসান জানান, উদ্ধারকৃত ৭৩০ বস্তা ভারতীয় স্বর্ণা জাতের ধান বীজটি উৎপাদন, প্যাকেটজাত ও বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরমান আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও বীজগুলো ধ্বংস অথবা প্রাণি খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোও পরীক্ষার পর মানহীন হলে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে মানহীন ও অনিবন্ধিত বীজ কেন উৎপাদন করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে আরমান বীজ ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী আরমান আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে বীজ এনে অনেকেই কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছে। সারা দেশে একই অবস্থা। আমরাতো বৈধভাবে এসব বীজ ভারত থেকে এনে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছি। তারপরও তিনি এমন কাজ আইনের পরিপন্থি বলেও স্বীকার করে নেন।

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কনি মিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরমান বীজ ভান্ডারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

মেহেরপুরে নিম্নমানের এক ট্রাক ধানের বীজ জব্দ

ব্যবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আপলোড টাইম : ১১:১২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

মেহেরপুর সদরের রাজনগর গ্রামে প্রশাসনের অভিযানে আরমান বীজ ভাণ্ডার থেকে অনিবন্ধিত জাতের নিম্নমানের স্বর্ণা জাতের ধানের বীজ উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বীজ বোর্ডের নিবন্ধনহীন যেকোনো জাতের ধান বীজ প্যাকেটজাত ও বিক্রি করা দণ্ডনীয় হলেও আরমান বীজ ভাণ্ডার তা করে করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। গত শনিবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দেড় হাজারেরও বেশি বিভিন্ন জাতের প্যাকেটজাত ধান বীজ। বীজের মান নির্ণয়ে যার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ঢাকায় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির পরীক্ষাগারে। জানা গেছে, গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রাম থেকে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছিল। বীজগুলো বিক্রির জন্য পাঠানো হতো বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার বীজ ব্যবসায়ীদের কাছে। সেখান থেকে হাত বদল হয়ে চলে যাবে গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল কৃষকদের হাতে। মানহীন বীজ ট্রাক বোঝাই করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশের অভিযানে ওই ট্রাক থেকে মিলে অনিবন্ধিত ভারতীয় স্বর্ণা জাতের ধানবীজ।
এই ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয় আরও এক হাজার ৬০০ বস্তা ব্রী ধান ৮৭, বি.আর ১০, বি.আর ১১ জাতের ধান বীজ। যার প্রতি বস্তায় ছিল ১০ কেজি করে বীজ। গুদাম ঘরেও ছিল কয়েক হাজার ধান বীজের প্যাকেট। এসব বীজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে গাজীপুরে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কেন্দ্রীয় বীজ পরীক্ষাগারে। জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার রঞ্জন কুমার প্রামাণিক জানান, স্বর্ণাসহ স্থানীয়ভাবে নামকরণ করা বিভিন্ন জাতের ধান বাংলাদেশে চাষাবাদের জন্য জাত হিসেবে জাতীয় সীড বোর্ডের কোনো অনুমোদন নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উচ্চ ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে ধানের তিন মৌসুমেই একই জাতের ধান বীজ বিক্রি করছে। ফলে ধান আবাদের ক্ষেত্রে চাষীদের মাঝে নানা ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। অন্যদিকে অনিবন্ধিত এসব ধান আবাদের ফলে ধানের নানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিসহ ফলন বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও এ জাতের ধানের জীবনকালও বেশি। দেশে অনেক উন্নত স্বল্প জীবনকালের ধান বীজ রয়েছে। সকলের উচিত এ জাতের বীজগুলো কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, এভাবে মানহীন ও অনিবন্ধিত বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছালে দেশে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়বে বলেও মত তার। জব্দকৃত বীজের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার গাজীপুরের গাজীপুর বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কেন্দ্রীয় বীজ পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। মানহীন বীজ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজি নাজিব হাসান জানান, উদ্ধারকৃত ৭৩০ বস্তা ভারতীয় স্বর্ণা জাতের ধান বীজটি উৎপাদন, প্যাকেটজাত ও বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরমান আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও বীজগুলো ধ্বংস অথবা প্রাণি খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোও পরীক্ষার পর মানহীন হলে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে মানহীন ও অনিবন্ধিত বীজ কেন উৎপাদন করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে আরমান বীজ ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী আরমান আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে বীজ এনে অনেকেই কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছে। সারা দেশে একই অবস্থা। আমরাতো বৈধভাবে এসব বীজ ভারত থেকে এনে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছি। তারপরও তিনি এমন কাজ আইনের পরিপন্থি বলেও স্বীকার করে নেন।

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কনি মিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরমান বীজ ভান্ডারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।