ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লিচু গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোড টাইম : ০৮:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলায় একটি লিচু গাছ থেকে শফিউদ্দিন (৩৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে তালতলা গ্রামের মুড়িতলা মাঠের একটি লিচু গাছে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় শফিউদ্দিনের মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত শফিউদ্দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের শিয়ালমারি গ্রামের মাঝেরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে মাঠে কৃষিকাজ করার সময় কয়েকজন কৃষক শফিউদ্দিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এদিকে, গত রোববার রাতে শিয়ালমারি গ্রামের বরজ থেকে পান চুরির ঘটনায় শফিউদ্দিনকে সন্দেহ করে বরজ মালিক ইসলাম আলী। গত মঙ্গলবার রাতে পান চুরির ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে শফিউদ্দিন উপস্থিত ছিল না। ওইদিন বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শফিউদ্দীন।

শফিউদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে সালিশে শফিউদ্দীন উপস্থিত ছিল না। ওই দিন বিকেল থেকে তার খোঁজও ছিল না। তবে শফিউদ্দীনের বড় ভাই সালিশে হাজির হন। সেদিন রাতে সালিশ সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে গতকাল সকালে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় শফিউদ্দিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শফিউদ্দীনের বড় ভাই দাবি করেন, গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হলেও তার মুখে ফেনা ছিল। তাকে বিষ খাওয়ানো হতে পারে

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হক জানান, বরজের পান চুরির ঘটনায় ইসলাম আলী শফিউদ্দিনকে সন্দেহ করে। সে পান চুরি করেছিল কি না এটার কোনো প্রমাণও ছিল না। মঙ্গলবার রাতে একটি সালিশে উপস্থিত থাকার জন্য বরজ মালিক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তবে শফিউদ্দিন সালিশে হাজির না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশ তদন্ত করলে মূল ঘটনা বের হয়ে আসবে মাধ্যমে রহস্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, খবর পেয়ে সকালে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। লাশ উদ্ধারের সময় মুখ থেকে ফেনা রেব হচ্ছিলো। তিনি জানান, পান চুরির একটি ঘটনায় বরজ মালিকের সন্দিগ্ধ ছিল শফিউদ্দীন। এরই মধ্যে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। এটি আত্মহত্যা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফিঙ্গার প্রিন্টসহ যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

লিচু গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

আপলোড টাইম : ০৮:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলায় একটি লিচু গাছ থেকে শফিউদ্দিন (৩৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে তালতলা গ্রামের মুড়িতলা মাঠের একটি লিচু গাছে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় শফিউদ্দিনের মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত শফিউদ্দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের শিয়ালমারি গ্রামের মাঝেরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে মাঠে কৃষিকাজ করার সময় কয়েকজন কৃষক শফিউদ্দিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এদিকে, গত রোববার রাতে শিয়ালমারি গ্রামের বরজ থেকে পান চুরির ঘটনায় শফিউদ্দিনকে সন্দেহ করে বরজ মালিক ইসলাম আলী। গত মঙ্গলবার রাতে পান চুরির ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে শফিউদ্দিন উপস্থিত ছিল না। ওইদিন বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শফিউদ্দীন।

শফিউদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে সালিশে শফিউদ্দীন উপস্থিত ছিল না। ওই দিন বিকেল থেকে তার খোঁজও ছিল না। তবে শফিউদ্দীনের বড় ভাই সালিশে হাজির হন। সেদিন রাতে সালিশ সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে গতকাল সকালে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় শফিউদ্দিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শফিউদ্দীনের বড় ভাই দাবি করেন, গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হলেও তার মুখে ফেনা ছিল। তাকে বিষ খাওয়ানো হতে পারে

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হক জানান, বরজের পান চুরির ঘটনায় ইসলাম আলী শফিউদ্দিনকে সন্দেহ করে। সে পান চুরি করেছিল কি না এটার কোনো প্রমাণও ছিল না। মঙ্গলবার রাতে একটি সালিশে উপস্থিত থাকার জন্য বরজ মালিক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তবে শফিউদ্দিন সালিশে হাজির না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশ তদন্ত করলে মূল ঘটনা বের হয়ে আসবে মাধ্যমে রহস্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, খবর পেয়ে সকালে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। লাশ উদ্ধারের সময় মুখ থেকে ফেনা রেব হচ্ছিলো। তিনি জানান, পান চুরির একটি ঘটনায় বরজ মালিকের সন্দিগ্ধ ছিল শফিউদ্দীন। এরই মধ্যে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। এটি আত্মহত্যা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফিঙ্গার প্রিন্টসহ যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।