ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৮:১৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখানোর পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়। আজ সন্ধ্যায় আঘাত হানতে পারে রেমাল। এরজন্য প্রস্তুত করা হয়েছে চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র। দেয়া হতে পারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে পড়তে শুরু করবে। আর মধ্যরাত থেকে পুরোপুরি প্রভাব পড়া শুরু হতে পারে। নিম্নচাপটি এখন গভীর নিম্ন্নচাপে পরিণত হয়ে আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। 

গতকাল শনিবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৮.২০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.৮০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৭৫ কিমি দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিমি দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। গভীর নিম্ন্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিমি’র মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিমি যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

রেমাল, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঝড়ের নাম দিয়েছে ওমান। আরবি শব্দ রেমালের অর্থ বালি। শনিবার রাত থেকে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে তীব্র ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থেকে মহাবিপদ সংকেত দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বাস্তবায়ন বোর্ডের জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস, ভারতের আবহাওয়া অফিস, চীনের আবহাওয়া অফিস, জাপানের আবহাওয়া অফিস এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা যেটা পরিষ্কার বুঝতে পারছি আমাদের ঘূর্ণিঝড়টি আসন্ন। আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। রোববার বেলা ১১টায় আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছি।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকাটি অ্যাফেক্টেড হওয়ার ঝুঁকি আছে। এখন ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থান করছে। বিশেষ করে পায়রা ও মোংলা পোর্টের সরাসরি দক্ষিণে। এটা বিপজ্জনক হতে পারে রাত ১২টা-১টা নাগাদ। এটা ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেও চলে যেতে পারে, এ রকম একটা সম্ভাবনা আছে। উপকূলীয় জেলায় আমাদের প্রায় চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র আছে। এগুলো আমরা প্রস্তুত রেখেছি। খাদ্যের জন্য আমাদের প্রত্যেকটি জেলায় গুদামে পর্যাপ্ত শুকনো খাবারসহ যেসব জিনিস দরকার হবে এগুলো মজুত রেখেছি। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে যাতে আরও সাপ্লাই দিতে পারি এজন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালে পরিণত হয়ে রোববার মধ্যরাত থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের সমুদ্র তীরবর্তী এবং আশপাশের অঞ্চলে আঘাত হানতে শুরু করতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে আছড়ে পড়বে এটি। এ সময় উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়। চলতি প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড় হতে যাচ্ছে।

এদিকে ভারতের চার রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি এই মূহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আর বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকেও একেবারে প্রায় একই অর্থাৎ ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রে বর্তমানে বাতাসের গতিবেগ সকালের তুলনায় বেড়ে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। সারারাত শক্তি সঞ্চার করে রোববার সকালে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। এরপর এদিন রাতে বাংলাদেশের খেপুপাড়া এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রম করবে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় এলাকায় লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলোতে চলাচল করা লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানের ব্যাপারে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে। অপরদিকে সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ এবং সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করার জন্য টেলিফোন নম্বর +৮৮০২২২৩৩৫২৩০৬ ও মোবাইল নম্বর ০১৯৫৮৬৫৮২১৩ ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’

আপলোড টাইম : ০৮:১৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখানোর পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়। আজ সন্ধ্যায় আঘাত হানতে পারে রেমাল। এরজন্য প্রস্তুত করা হয়েছে চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র। দেয়া হতে পারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে পড়তে শুরু করবে। আর মধ্যরাত থেকে পুরোপুরি প্রভাব পড়া শুরু হতে পারে। নিম্নচাপটি এখন গভীর নিম্ন্নচাপে পরিণত হয়ে আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। 

গতকাল শনিবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৮.২০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.৮০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৭৫ কিমি দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিমি দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। গভীর নিম্ন্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিমি’র মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিমি যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

রেমাল, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঝড়ের নাম দিয়েছে ওমান। আরবি শব্দ রেমালের অর্থ বালি। শনিবার রাত থেকে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে তীব্র ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থেকে মহাবিপদ সংকেত দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বাস্তবায়ন বোর্ডের জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস, ভারতের আবহাওয়া অফিস, চীনের আবহাওয়া অফিস, জাপানের আবহাওয়া অফিস এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা যেটা পরিষ্কার বুঝতে পারছি আমাদের ঘূর্ণিঝড়টি আসন্ন। আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। রোববার বেলা ১১টায় আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছি।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকাটি অ্যাফেক্টেড হওয়ার ঝুঁকি আছে। এখন ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থান করছে। বিশেষ করে পায়রা ও মোংলা পোর্টের সরাসরি দক্ষিণে। এটা বিপজ্জনক হতে পারে রাত ১২টা-১টা নাগাদ। এটা ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেও চলে যেতে পারে, এ রকম একটা সম্ভাবনা আছে। উপকূলীয় জেলায় আমাদের প্রায় চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র আছে। এগুলো আমরা প্রস্তুত রেখেছি। খাদ্যের জন্য আমাদের প্রত্যেকটি জেলায় গুদামে পর্যাপ্ত শুকনো খাবারসহ যেসব জিনিস দরকার হবে এগুলো মজুত রেখেছি। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে যাতে আরও সাপ্লাই দিতে পারি এজন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালে পরিণত হয়ে রোববার মধ্যরাত থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের সমুদ্র তীরবর্তী এবং আশপাশের অঞ্চলে আঘাত হানতে শুরু করতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে আছড়ে পড়বে এটি। এ সময় উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়। চলতি প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড় হতে যাচ্ছে।

এদিকে ভারতের চার রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি এই মূহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আর বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকেও একেবারে প্রায় একই অর্থাৎ ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রে বর্তমানে বাতাসের গতিবেগ সকালের তুলনায় বেড়ে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। সারারাত শক্তি সঞ্চার করে রোববার সকালে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। এরপর এদিন রাতে বাংলাদেশের খেপুপাড়া এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রম করবে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় এলাকায় লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলোতে চলাচল করা লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানের ব্যাপারে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে। অপরদিকে সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ এবং সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করার জন্য টেলিফোন নম্বর +৮৮০২২২৩৩৫২৩০৬ ও মোবাইল নম্বর ০১৯৫৮৬৫৮২১৩ ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে।