ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল লেনদেনে পিছিয়ে দেশ; জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের উৎসাহে কমতি নেই। এ ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রচারণা গণমাধ্যমে করা হয়। ঢাকঢোল পেটানো দেখে মনে হতে পারে, ডিজিটালাইজেশনে আমরা বিশ্বের প্রথম কাতারের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছি। অথচ এ বিষয়ক বৈশ্বিক সূচকে পুরোপুরি বিপরীত অবস্থা লক্ষণীয়। অর্থনীতিসহ অন্য সব সূচকের মতো জিজিটাল বাংলাদেশ গঠনেও দরিদ্র দেশগুলোর কাতারে অবস্থান করছি আমরা। প্রকাশিত ডিজিটাল লেনদেনের বৈশ্বিক চিত্রে ১৫৭টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১০২তম। এ কথা ঠিক, দেশে পণ্য ও সেবার ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তৃতি ঘটেছে। তবে এ লেনদেনের মান যথেষ্ট উন্নত নয়। বিশেষ করে ভোক্তার অধিকার নানাভাবে খর্ব হচ্ছে। ঘটছে নানা অনিয়ম-জালিয়াতি।

বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘরে বসে অর্ডার দিয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা এর মাধ্যমে মেটানো যায়। বৈশ্বিক ডিজিটাল লেনদেনের অগ্রগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। দেখা যাচ্ছে, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের ১৫ বছরের বেশি বয়সী শতভাগ মানুষ এ ডিজিটাল সুবিধা নেয়। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস-সহ আরো আটটি দেশে ৯৯ শতাংশ মানুষ এভাবে লেনদেন করে। বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশ মানুষ এ সুযোগ নেয়। ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধায় উন্নত দেশগুলোর সাথে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে আমাদের। নানা ধরনের জালিয়াতি হচ্ছে আমাদের দেশে।

ঠগবাজরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গড়ে তুলেছে দুষ্টচক্র। প্রতিনিয়ত মানুষ এদের খপ্পরে পড়ছেন। দেশে কঠোর ডিজিটাল আইন রয়েছে। এর ব্যবহার হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। নিত্যনতুন চক্র মানুষের পকেট কাটলেও এ দেশে প্রতিকার পাওয়া যায় না। বড় বড় ডিজিটাল কেলেঙ্কারি হলেও ক্ষতিগ্রস্তরা তেমন কোনো প্রতিকার পাননি। ৪৫ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল লেনদেন করলেও এ ক্ষেত্রে তারা নিরাপদ নয়। পণ্য কিনে ভোক্তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতারিত হন। যদিও প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ডিজিটাল লেনদেনে বাংলাদেশ এগিয়ে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে সম্ভবত বাংলাদেশ ওই দেশ দু’টির পেছনে থাকবে। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা এ তালিকায় আমাদের চেয়ে এগিয়ে।
ডিজিটাল লেনদেনকে বেশির ভাগ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে হলে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ৩৯ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৩২ শতাংশ। প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাত দেশে ৪৫২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করে। এ খাতে ১৬ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ইতিবাচক হিসেবে দেখানো হয়েছে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসাকে। বিশেষ করে মোবাইলে অর্থ লেনদেনের সুযোগগুলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, গত জানুয়ারিতে এক লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা মোবাইলে লেনদেন হয়েছে। পরের মাসে হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতি সবলে এর অবদান আরো জোরালো করতে বাধা হয়ে আছে দুর্বল ইন্টারনেট সেবা। প্রায়ই দেখা যায় এতে বিপর্যয় ঘটছে। এর গতিও দুর্বল।
ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন শুরু হয়নি পৃথিবীতে এমন দেশও রয়েছে। আবার শুরু হলেও শুধু ৪ বা ৫ শতাংশ মানুষ এর ব্যবহার করে এমন দেশও রয়েছে। এগুলো আফ্রিকার দরিদ্র দেশ। এ ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই উন্নত দেশকে অনুসরণ করতে হবে। অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে হলে পর্যাপ্ত নীতিগত সহযোগিতা দিতে হবে। তা কেবল সরকার নিশ্চিত করতে পারে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ডিজিটাল লেনদেনে পিছিয়ে দেশ; জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন

আপলোড টাইম : ১০:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের উৎসাহে কমতি নেই। এ ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রচারণা গণমাধ্যমে করা হয়। ঢাকঢোল পেটানো দেখে মনে হতে পারে, ডিজিটালাইজেশনে আমরা বিশ্বের প্রথম কাতারের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছি। অথচ এ বিষয়ক বৈশ্বিক সূচকে পুরোপুরি বিপরীত অবস্থা লক্ষণীয়। অর্থনীতিসহ অন্য সব সূচকের মতো জিজিটাল বাংলাদেশ গঠনেও দরিদ্র দেশগুলোর কাতারে অবস্থান করছি আমরা। প্রকাশিত ডিজিটাল লেনদেনের বৈশ্বিক চিত্রে ১৫৭টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১০২তম। এ কথা ঠিক, দেশে পণ্য ও সেবার ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তৃতি ঘটেছে। তবে এ লেনদেনের মান যথেষ্ট উন্নত নয়। বিশেষ করে ভোক্তার অধিকার নানাভাবে খর্ব হচ্ছে। ঘটছে নানা অনিয়ম-জালিয়াতি।

বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘরে বসে অর্ডার দিয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা এর মাধ্যমে মেটানো যায়। বৈশ্বিক ডিজিটাল লেনদেনের অগ্রগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। দেখা যাচ্ছে, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের ১৫ বছরের বেশি বয়সী শতভাগ মানুষ এ ডিজিটাল সুবিধা নেয়। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস-সহ আরো আটটি দেশে ৯৯ শতাংশ মানুষ এভাবে লেনদেন করে। বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশ মানুষ এ সুযোগ নেয়। ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধায় উন্নত দেশগুলোর সাথে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে আমাদের। নানা ধরনের জালিয়াতি হচ্ছে আমাদের দেশে।

ঠগবাজরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গড়ে তুলেছে দুষ্টচক্র। প্রতিনিয়ত মানুষ এদের খপ্পরে পড়ছেন। দেশে কঠোর ডিজিটাল আইন রয়েছে। এর ব্যবহার হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। নিত্যনতুন চক্র মানুষের পকেট কাটলেও এ দেশে প্রতিকার পাওয়া যায় না। বড় বড় ডিজিটাল কেলেঙ্কারি হলেও ক্ষতিগ্রস্তরা তেমন কোনো প্রতিকার পাননি। ৪৫ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল লেনদেন করলেও এ ক্ষেত্রে তারা নিরাপদ নয়। পণ্য কিনে ভোক্তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতারিত হন। যদিও প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ডিজিটাল লেনদেনে বাংলাদেশ এগিয়ে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে সম্ভবত বাংলাদেশ ওই দেশ দু’টির পেছনে থাকবে। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা এ তালিকায় আমাদের চেয়ে এগিয়ে।
ডিজিটাল লেনদেনকে বেশির ভাগ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে হলে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ৩৯ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৩২ শতাংশ। প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাত দেশে ৪৫২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করে। এ খাতে ১৬ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ইতিবাচক হিসেবে দেখানো হয়েছে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসাকে। বিশেষ করে মোবাইলে অর্থ লেনদেনের সুযোগগুলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, গত জানুয়ারিতে এক লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা মোবাইলে লেনদেন হয়েছে। পরের মাসে হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতি সবলে এর অবদান আরো জোরালো করতে বাধা হয়ে আছে দুর্বল ইন্টারনেট সেবা। প্রায়ই দেখা যায় এতে বিপর্যয় ঘটছে। এর গতিও দুর্বল।
ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন শুরু হয়নি পৃথিবীতে এমন দেশও রয়েছে। আবার শুরু হলেও শুধু ৪ বা ৫ শতাংশ মানুষ এর ব্যবহার করে এমন দেশও রয়েছে। এগুলো আফ্রিকার দরিদ্র দেশ। এ ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই উন্নত দেশকে অনুসরণ করতে হবে। অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে হলে পর্যাপ্ত নীতিগত সহযোগিতা দিতে হবে। তা কেবল সরকার নিশ্চিত করতে পারে।