ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হরিণাকুণ্ডুতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ

২১ জন হাসপাতালে ভর্তি, আটক ৫

ঝিনাইদহ অফিস:
  • আপলোড টাইম : ১১:১৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের পোলভাতুড়িয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই সামাজিক দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২১ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কুরবান আলী ও এই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য কাজি মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, ৯ জনকে হরিণাকুণ্ডুু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পরই জড়িতদের মধ্যে পাঁচজন আটক করেছে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ।

আহতরা হলেন- পোলভাতুড়িয়া গ্রামের ইসরাইল হোসেনের ছেলে হাশেম কাজী (৩৫), হাশর কাজী (৩০), আব্দুলের ছেলে করিম (৫২), মক্কেলের ছেলে পানু (১৯), আনসার কাজীর ছেলে লতিফ কাজী (৪২), আবু তালেবের ছেলে রাহুল (১৮), সিফাতের ছেলে আব্দুল গণি (৭০), সমশের কাজীর ছেলে নজরুল কাজী (৪৮), মৃত সোহরাবের ছেলে মধু (৪৬), বাসারেতের ছেলে শহিদুল (৫৫), মৃত মজিবারের ছেলে বিল্লাল, মিন্টু ও বজলু (৪০), রেশমা খাতুন (৩৫), জগেশ চন্দ্র (২৮) ও রায়হানসহ (৪২) অজ্ঞাত আরও ১২ জন।

আহতদের মধ্যে ইসরাইল কাজীর ছেলে হাসেম কাজীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। অন্য ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। পরে বিল্লাল ও মিণ্টুর অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে হরিণাকুণ্ডুর পোলভাতুড়িয়া গ্রামের আজিবর রহমানের বাড়ির বৃষ্টির পানি প্রতিবেশী মশিউর কাজীর উঠান দিয়ে খালে বের করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান উভয়পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও গতকাল সকাল ৯টার দিকে হাশেম কাজী মাঠে ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষ বর্তমান ইউপি সদস্য কুরবান মেম্বরের দুই ভাই তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় হাশেম কাজী ও হাসর কাজী দায়ের কোপে আহত হন। খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় ২১ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরাফত দৌলা ঝণ্টু বলেন, বৃষ্টির পানি বের করা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। রেশারেশি থেকে এ নিয়ে দ্বিতীয় বার দুই গ্রুপ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। সবাইকে উদ্ধার করে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, বৃষ্টির পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি সদস্যের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় কাজি মশিউর রহমানের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসি বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখনপর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

হরিণাকুণ্ডুতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ

২১ জন হাসপাতালে ভর্তি, আটক ৫

আপলোড টাইম : ১১:১৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের পোলভাতুড়িয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই সামাজিক দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২১ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কুরবান আলী ও এই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য কাজি মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, ৯ জনকে হরিণাকুণ্ডুু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পরই জড়িতদের মধ্যে পাঁচজন আটক করেছে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ।

আহতরা হলেন- পোলভাতুড়িয়া গ্রামের ইসরাইল হোসেনের ছেলে হাশেম কাজী (৩৫), হাশর কাজী (৩০), আব্দুলের ছেলে করিম (৫২), মক্কেলের ছেলে পানু (১৯), আনসার কাজীর ছেলে লতিফ কাজী (৪২), আবু তালেবের ছেলে রাহুল (১৮), সিফাতের ছেলে আব্দুল গণি (৭০), সমশের কাজীর ছেলে নজরুল কাজী (৪৮), মৃত সোহরাবের ছেলে মধু (৪৬), বাসারেতের ছেলে শহিদুল (৫৫), মৃত মজিবারের ছেলে বিল্লাল, মিন্টু ও বজলু (৪০), রেশমা খাতুন (৩৫), জগেশ চন্দ্র (২৮) ও রায়হানসহ (৪২) অজ্ঞাত আরও ১২ জন।

আহতদের মধ্যে ইসরাইল কাজীর ছেলে হাসেম কাজীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। অন্য ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। পরে বিল্লাল ও মিণ্টুর অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে হরিণাকুণ্ডুর পোলভাতুড়িয়া গ্রামের আজিবর রহমানের বাড়ির বৃষ্টির পানি প্রতিবেশী মশিউর কাজীর উঠান দিয়ে খালে বের করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান উভয়পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও গতকাল সকাল ৯টার দিকে হাশেম কাজী মাঠে ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষ বর্তমান ইউপি সদস্য কুরবান মেম্বরের দুই ভাই তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় হাশেম কাজী ও হাসর কাজী দায়ের কোপে আহত হন। খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় ২১ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরাফত দৌলা ঝণ্টু বলেন, বৃষ্টির পানি বের করা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। রেশারেশি থেকে এ নিয়ে দ্বিতীয় বার দুই গ্রুপ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। সবাইকে উদ্ধার করে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, বৃষ্টির পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি সদস্যের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় কাজি মশিউর রহমানের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসি বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখনপর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।