ইপেপার । আজশুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বনাঞ্চল নিঃশেষিত প্রায় ভুগবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৮:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

নানা কারণে প্রায় নিঃশেষিত দেশের বনাঞ্চল। বনভূমি উজাড়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের। আর রক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভক্ষক হয়ে বন উজাড়ে সহায়তা করছেন। দরকারি-অদরকারি নানা প্রকল্পে বিপুল বনভূমি আইন ও বেআইনিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। ফলে প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে বিচিত্র গাছপালা ও বন্যপ্রাণীসমৃদ্ধ সব বন। বিপরীতে নতুন বনায়নের বেশ কিছু প্রকল্প সরকারের হাতে আছে। কিন্তু সেগুলো নিছক থাকতে হয় বলে আছে। প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, এগুলো আন্তরিকতাশূন্য এবং সরকার যে দায়িত্ব পালন করছে তার নমুনা রাখার চেষ্টামাত্র। সাধারণত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেকোনো দেশে ২৫ শতাংশ বন থাকা অপরিহার্য। বাংলাদেশে আছে কাগজে-কলমে ১১ শতাংশের মতো; যেটি বনসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা যথার্থ মনে করেন না।

একটি দৈনিকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শুধু কক্সবাজারে ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ বন উজাড় হয়েছে। এর ৯০ শতাংশ উজাড় হয়েছে স্থানীয় লোকজনের হাতে। ১০ শতাংশ গেছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের জন্য। বন বিভাগের নামে সংরক্ষিত হলেও বন রক্ষার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের। তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। প্রায় দুই লাখ হেক্টর বনভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শুধু বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নামে। বেশির ভাগই চট্টগ্রাম বিভাগে।

বনের জমিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি-বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও স্থাপনা তৈরি, বনকেন্দ্রিক অনিয়ম-দুর্নীতি ও জমি জবরদখলের মাধ্যমে চলছে বহুমুখী বন নিধনযজ্ঞ। আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বনভূমি উজাড়ে সবচেয়ে এগিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল। ২০১০ সালে দেশের মোট বৃক্ষসম্পদের ৬০ শতাংশ ছিল এ অঞ্চলে। ২০১৭ সালে তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিণতি জানার পরও বন রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমাদের নেই। পরিবেশ মন্ত্রণালয় বনায়নের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয়ে বছরে লাগায় সাত থেকে আট কোটি গাছের চারা। কিন্তু সেগুলোর কতগুলো টেকে তা নিয়ে সংশয় আছে।

বনায়নের একটি বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছিল ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট পার্টিসিপেটরি অ্যাফরেস্টেশন অ্যান্ড রিফরেস্টেশন (সিআরপিএআরপি) নামে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে গাছ লাগানো হয়। ‘মিরসরাই অর্থনৈতিক জোন’ স্থাপনে বেজা কর্তৃপক্ষ সব গাছ কেটে ফেলে। ফলে অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া এ প্রকল্প থেকে আর কিছু পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা ভাওয়ালের বন তথা গাজীপুরের বনাঞ্চলে। গাজীপুর ও ঢাকার সাভার উপজেলার বিভিন্ন রেঞ্জে ঢাকা বন বিভাগের মোট ৫৩ হাজার ৬৭১.৮৯ একর বনভূমির মধ্যে প্রায় ১২ হাজার একর গেছে বনখেকোদের পেটে।

বনাঞ্চল উজাড়ের ভয়াবহ কুফল কেমন হতে পারে সে অভিজ্ঞতা আমরা সদ্য পেয়েছি দেশজুড়ে অসহনীয় তাপপ্রবাহে। কিন্তু তার পরও আমাদের নীতিনির্ধারকদের চেতনায় তা বিন্দুমাত্র নাড়া দিয়েছে কি না সন্দেহ রয়েছে। প্রতি বছর তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়বে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাবো এক অসহনীয় চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

বনাঞ্চল নিঃশেষিত প্রায় ভুগবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

আপলোড টাইম : ০৮:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪

নানা কারণে প্রায় নিঃশেষিত দেশের বনাঞ্চল। বনভূমি উজাড়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের। আর রক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভক্ষক হয়ে বন উজাড়ে সহায়তা করছেন। দরকারি-অদরকারি নানা প্রকল্পে বিপুল বনভূমি আইন ও বেআইনিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। ফলে প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে বিচিত্র গাছপালা ও বন্যপ্রাণীসমৃদ্ধ সব বন। বিপরীতে নতুন বনায়নের বেশ কিছু প্রকল্প সরকারের হাতে আছে। কিন্তু সেগুলো নিছক থাকতে হয় বলে আছে। প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, এগুলো আন্তরিকতাশূন্য এবং সরকার যে দায়িত্ব পালন করছে তার নমুনা রাখার চেষ্টামাত্র। সাধারণত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেকোনো দেশে ২৫ শতাংশ বন থাকা অপরিহার্য। বাংলাদেশে আছে কাগজে-কলমে ১১ শতাংশের মতো; যেটি বনসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা যথার্থ মনে করেন না।

একটি দৈনিকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শুধু কক্সবাজারে ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ বন উজাড় হয়েছে। এর ৯০ শতাংশ উজাড় হয়েছে স্থানীয় লোকজনের হাতে। ১০ শতাংশ গেছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের জন্য। বন বিভাগের নামে সংরক্ষিত হলেও বন রক্ষার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের। তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। প্রায় দুই লাখ হেক্টর বনভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শুধু বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নামে। বেশির ভাগই চট্টগ্রাম বিভাগে।

বনের জমিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি-বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও স্থাপনা তৈরি, বনকেন্দ্রিক অনিয়ম-দুর্নীতি ও জমি জবরদখলের মাধ্যমে চলছে বহুমুখী বন নিধনযজ্ঞ। আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বনভূমি উজাড়ে সবচেয়ে এগিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল। ২০১০ সালে দেশের মোট বৃক্ষসম্পদের ৬০ শতাংশ ছিল এ অঞ্চলে। ২০১৭ সালে তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিণতি জানার পরও বন রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমাদের নেই। পরিবেশ মন্ত্রণালয় বনায়নের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয়ে বছরে লাগায় সাত থেকে আট কোটি গাছের চারা। কিন্তু সেগুলোর কতগুলো টেকে তা নিয়ে সংশয় আছে।

বনায়নের একটি বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছিল ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট পার্টিসিপেটরি অ্যাফরেস্টেশন অ্যান্ড রিফরেস্টেশন (সিআরপিএআরপি) নামে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে গাছ লাগানো হয়। ‘মিরসরাই অর্থনৈতিক জোন’ স্থাপনে বেজা কর্তৃপক্ষ সব গাছ কেটে ফেলে। ফলে অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া এ প্রকল্প থেকে আর কিছু পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা ভাওয়ালের বন তথা গাজীপুরের বনাঞ্চলে। গাজীপুর ও ঢাকার সাভার উপজেলার বিভিন্ন রেঞ্জে ঢাকা বন বিভাগের মোট ৫৩ হাজার ৬৭১.৮৯ একর বনভূমির মধ্যে প্রায় ১২ হাজার একর গেছে বনখেকোদের পেটে।

বনাঞ্চল উজাড়ের ভয়াবহ কুফল কেমন হতে পারে সে অভিজ্ঞতা আমরা সদ্য পেয়েছি দেশজুড়ে অসহনীয় তাপপ্রবাহে। কিন্তু তার পরও আমাদের নীতিনির্ধারকদের চেতনায় তা বিন্দুমাত্র নাড়া দিয়েছে কি না সন্দেহ রয়েছে। প্রতি বছর তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়বে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাবো এক অসহনীয় চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া।