ইপেপার । আজশুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাতে মৃত্যু বেড়েছে; দরকার সচেতনতার

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এর মূল কারণ বড় গাছ কেটে ফেলা। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়াও অন্যতম কারণ। এ ছাড়া আবহাওয়ার ধরন বদলে গেছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাত কিছুটা সরে গেছে। আগাম বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত বেড়েছে।
আবহাওয়ার পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বজ্রপাতে বছরে গড়ে মারা যান ৩২০ জন। এটা পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। লক্ষণীয়, বজ্রপাতে মৃত্যুর শিকার সবাই গরিব। বিশেষ করে কৃষক ও জেলে। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবারও তিন জেলায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১১-২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে দুই হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালে দেশে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এরপর থেকে নানা সময় চিহ্নিত করা হয় কোন কোন এলাকায় বেশি বজ্রপাত হয়। দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পূর্ব ও সরাসরি উত্তর-পূর্ব কোনাকুনি এলাকা অর্থাৎ সুনামগঞ্জ-সিলেট অঞ্চল বজ্রপাতপ্রবণ।
বাংলাদেশের আকাশসীমায় দুই ধরনের বজ্রপাত ঘটে। একটি মেঘ থেকে মেঘে, আরেকটি মেঘ থেকে মাটিতে। বছরে মেঘ থেকে মাটিতে বজ্রপাতের গড় সংখ্যা প্রায় সাত লাখ ৮৬ হাজার। মেঘ থেকে মেঘে যে বজ্রপাত, সেটা চিন্তার বিষয় নয়। এতে প্রাণহানি হয় না। কিন্তু দেশের আকাশসীমায় বছরে মেঘ থেকে মাটিতে যে প্রায় সাত লাখ ৮৬ হাজার বজ্রপাত ঘটছে তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ।

বজ্রপাত এমন এক দুর্যোগ চাইলেই যার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় বজ্রপাত আটকে রাখার মতো প্রযুক্তি আমাদের দেশে নেই। যদিও পৃথিবীর অনেক দেশে এটি এখন সম্ভব। আমরা তা করতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল। তবে এ কথা ঠিক যে, এ ধরনের প্রযুক্তি প্রচলন ও এর সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের আরো সময় দরকার। এ জন্য বজ্রপাত থেকে রক্ষায় আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই। বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সরকারিভাবে যেসব স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত থেকে মানুষ বাঁচানোর একটি উপায় হতে পারে তালগাছ লাগানো। এটি হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সেই সাথে মধ্যবর্তী, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার কাজও চলমান থাকবে। সেটি হতে পারে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, পূর্বাভাস দেয়ার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মাঠেঘাটে কাজ করা সব মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেয়া।

বজ্রপাতে হাওর এলাকায় বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই সেখানে মাঠে শেল্টার জোন তৈরি করা অপরিহার্য। সেখানে জমির আলে তালগাছ বা সুপারি গাছ লাগানো হলে সুফল মিলবে। কিন্তু সবার আগে বড় গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত যেসব জায়গায় মানুষ বেশি মারা যাচ্ছে, সেখানে লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দিতে হবে।
বজ্রপাতের পূর্বাভাস সাধারণত ৩-৪ ঘণ্টা আগে দেয়া যায়। রাডারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আগে বোঝা যায় কোন এলাকায় বজ্রপাত হতে পারে। সে ব্যবস্থায় যাওয়ার আগে মৃত্যু কমানোর উত্তম উপায় জনসচেতনতা। এজন্য গণমাধ্যমের ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েও মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

বজ্রপাতে মৃত্যু বেড়েছে; দরকার সচেতনতার

আপলোড টাইম : ১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এর মূল কারণ বড় গাছ কেটে ফেলা। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়াও অন্যতম কারণ। এ ছাড়া আবহাওয়ার ধরন বদলে গেছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাত কিছুটা সরে গেছে। আগাম বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত বেড়েছে।
আবহাওয়ার পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বজ্রপাতে বছরে গড়ে মারা যান ৩২০ জন। এটা পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। লক্ষণীয়, বজ্রপাতে মৃত্যুর শিকার সবাই গরিব। বিশেষ করে কৃষক ও জেলে। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবারও তিন জেলায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১১-২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে দুই হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালে দেশে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এরপর থেকে নানা সময় চিহ্নিত করা হয় কোন কোন এলাকায় বেশি বজ্রপাত হয়। দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পূর্ব ও সরাসরি উত্তর-পূর্ব কোনাকুনি এলাকা অর্থাৎ সুনামগঞ্জ-সিলেট অঞ্চল বজ্রপাতপ্রবণ।
বাংলাদেশের আকাশসীমায় দুই ধরনের বজ্রপাত ঘটে। একটি মেঘ থেকে মেঘে, আরেকটি মেঘ থেকে মাটিতে। বছরে মেঘ থেকে মাটিতে বজ্রপাতের গড় সংখ্যা প্রায় সাত লাখ ৮৬ হাজার। মেঘ থেকে মেঘে যে বজ্রপাত, সেটা চিন্তার বিষয় নয়। এতে প্রাণহানি হয় না। কিন্তু দেশের আকাশসীমায় বছরে মেঘ থেকে মাটিতে যে প্রায় সাত লাখ ৮৬ হাজার বজ্রপাত ঘটছে তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ।

বজ্রপাত এমন এক দুর্যোগ চাইলেই যার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় বজ্রপাত আটকে রাখার মতো প্রযুক্তি আমাদের দেশে নেই। যদিও পৃথিবীর অনেক দেশে এটি এখন সম্ভব। আমরা তা করতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল। তবে এ কথা ঠিক যে, এ ধরনের প্রযুক্তি প্রচলন ও এর সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের আরো সময় দরকার। এ জন্য বজ্রপাত থেকে রক্ষায় আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই। বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সরকারিভাবে যেসব স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত থেকে মানুষ বাঁচানোর একটি উপায় হতে পারে তালগাছ লাগানো। এটি হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সেই সাথে মধ্যবর্তী, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার কাজও চলমান থাকবে। সেটি হতে পারে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, পূর্বাভাস দেয়ার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মাঠেঘাটে কাজ করা সব মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেয়া।

বজ্রপাতে হাওর এলাকায় বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই সেখানে মাঠে শেল্টার জোন তৈরি করা অপরিহার্য। সেখানে জমির আলে তালগাছ বা সুপারি গাছ লাগানো হলে সুফল মিলবে। কিন্তু সবার আগে বড় গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত যেসব জায়গায় মানুষ বেশি মারা যাচ্ছে, সেখানে লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দিতে হবে।
বজ্রপাতের পূর্বাভাস সাধারণত ৩-৪ ঘণ্টা আগে দেয়া যায়। রাডারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আগে বোঝা যায় কোন এলাকায় বজ্রপাত হতে পারে। সে ব্যবস্থায় যাওয়ার আগে মৃত্যু কমানোর উত্তম উপায় জনসচেতনতা। এজন্য গণমাধ্যমের ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েও মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।