ইপেপার । আজশুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্দেশনা অমান্য করলেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা

মন্ত্রী-এমপির স্বজনদের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আ.লীগের নির্দেশ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৫:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৫৯ বার পড়া হয়েছে

মন্ত্রী-এমপিদের পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকেরা নিজ নিজ বিভাগের মন্ত্রী-এমপিদের জানানো শুরু করে দিয়েছেন। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে দলটি। আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জানান, তিনি এরই মধ্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে ফোন করে তাঁর ছেলেকে উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর দলীয় নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে মন্ত্রী-এমপিদের দলীয় নির্দেশনা আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে চিঠি আকারে পাঠানো হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি বলছে, দলীয় সংসদ সদস্যদের স্বজনেরা যাতে উপজেলায় নির্বাচনে প্রার্থী না হয়, সেই জন্য দল থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে দলের সিদ্ধান্তের কথা পুনরায় জানানো হচ্ছে। আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে ১৫০ উপজেলার নির্বাচন হবে। যাতে ১৪ জন এমপির পরিবারের সদস্য-স্বজনেরা প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছেলে শাবাব চৌধুরীকে ভোট না দিলে উন্নয়নকাজ না করার হুমকি দেন স্থানীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলকের শ্যালকের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এমপিদের হস্তক্ষেপ এবং দলীয় বিভেদের তথ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এরপর তিনি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ডেকে উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের সন্তান, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে এই নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় সভাপতির নির্দেশনার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে দপ্তর সম্পাদক ও উপদপ্তর সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ওবায়দুল কাদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরকে সারা দেশে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের মধ্যে কাদের স্বজন ও পরিবারের সদস্য নির্বাচন করছে, সেই তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর সদরের সংসদ সদস্য ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এবং নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরীকে ফোন করে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক। এই দুই স্থানে সংসদ সদস্যের ছেলেরা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। সংসদ সদস্যরা সন্তানদের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন।

আগামী ২ মে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশন সংসদীয় দলের বৈঠকে বসতে পারে দলটি। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের উপজেলা নির্বাচন বিষয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরবেন। প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। এছাড়া শিগগিরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেরও বৈঠক হতে পারে। সেখানেও বিষয়টি আলোচিত হবে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, এমপি-মন্ত্রীরা যাতে উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকেও নানাভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের নেতারাও বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

নির্দেশনা অমান্য করলেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা

মন্ত্রী-এমপির স্বজনদের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আ.লীগের নির্দেশ

আপলোড টাইম : ০৫:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

মন্ত্রী-এমপিদের পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকেরা নিজ নিজ বিভাগের মন্ত্রী-এমপিদের জানানো শুরু করে দিয়েছেন। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে দলটি। আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জানান, তিনি এরই মধ্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে ফোন করে তাঁর ছেলেকে উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর দলীয় নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে মন্ত্রী-এমপিদের দলীয় নির্দেশনা আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে চিঠি আকারে পাঠানো হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি বলছে, দলীয় সংসদ সদস্যদের স্বজনেরা যাতে উপজেলায় নির্বাচনে প্রার্থী না হয়, সেই জন্য দল থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে দলের সিদ্ধান্তের কথা পুনরায় জানানো হচ্ছে। আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে ১৫০ উপজেলার নির্বাচন হবে। যাতে ১৪ জন এমপির পরিবারের সদস্য-স্বজনেরা প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছেলে শাবাব চৌধুরীকে ভোট না দিলে উন্নয়নকাজ না করার হুমকি দেন স্থানীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলকের শ্যালকের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এমপিদের হস্তক্ষেপ এবং দলীয় বিভেদের তথ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এরপর তিনি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ডেকে উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের সন্তান, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে এই নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় সভাপতির নির্দেশনার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে দপ্তর সম্পাদক ও উপদপ্তর সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ওবায়দুল কাদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরকে সারা দেশে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের মধ্যে কাদের স্বজন ও পরিবারের সদস্য নির্বাচন করছে, সেই তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর সদরের সংসদ সদস্য ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এবং নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরীকে ফোন করে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক। এই দুই স্থানে সংসদ সদস্যের ছেলেরা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। সংসদ সদস্যরা সন্তানদের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন।

আগামী ২ মে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশন সংসদীয় দলের বৈঠকে বসতে পারে দলটি। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের উপজেলা নির্বাচন বিষয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরবেন। প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। এছাড়া শিগগিরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেরও বৈঠক হতে পারে। সেখানেও বিষয়টি আলোচিত হবে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, এমপি-মন্ত্রীরা যাতে উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকেও নানাভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের নেতারাও বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।