ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জেল পাহারা দেয় রাজহাঁসের দল!

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

বিস্ময়কর প্রতিবেদন:
উঁচু নিñিদ্র দেওয়াল। মাছি গলে যাওয়ার জায়গাও নেই কোথাও। তার বাইরে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। আর সেই মাঠে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে এক দল রাজহাঁস। ব্রাজিলের সাও পেদ্রো দে অ্যালকান্তারা জেলের বাইরের চিত্র এটা। সেখানে জেল পাহারা দেয় রাজহাঁসের একটি দল। তারাই জেলের পাহারাদার। তাদের অতন্দ্র প্রহরায় জেল থেকে মাছি গলার উপায় নেই। ব্রাজিলের এই বিশেষ জেলটিতে কিন্তু এত দিন রাজহাঁস ছিল না। পাহারাদার হিসেবে ছিল অন্য প্রাণী। সম্প্রতি সেগুলো সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে হাঁসগুলোকে। সাও পেদ্রো দে অ্যালকান্তারা জেল এত দিন পাহারা দিত কুকুর। এক দল প্রশিক্ষিত হিংস্র কুকুরকে জেলের বাইরের মাঠে রেখে দেওয়া হয়েছিল। তারাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। তবে সম্প্রতি কারা কর্তৃপক্ষ কুকুরের বদলে রাজহাঁসে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বেশি দেখেছে। বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনা করেই তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই রদবদল করেছে বলে দাবি তাদের। দক্ষিণ ব্রাজিলের সান্টা ক্যাটারিনা প্রদেশে অবস্থান এই সাও পেদ্রো দে অ্যালকান্তারা কারাগার। জায়গা নির্জন। ওই নির্জন এলাকা হাঁসের পক্ষে উপযোগী বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের ওই জেলের কর্মচারীদের দাবি, কুকুরের চেয়ে রাজহাঁসের মধ্যে পাহারা দেওয়ার পারদর্শিতা, তৎপরতা অনেক বেশি। জেলের ডিরেক্টর মার্কোস রবার্টো ডিসুজা জানিয়েছেন, তাদের জেলে তিনটি স্তরে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত রয়েছে। কয়েদিরা যাতে জেল থেকে পালাতে না পারে, সেজন্য চলে কড়া নজরদারি। জেলটিতে প্রথমে রয়েছে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার জাল। তা পার হতে পারলে রয়েছে মানুষের নিরাপত্তা। অর্থাৎ, জেলের নিরাপত্তারক্ষীরা কড়া নজর রাখেন কয়েদিদের উপর। এর পরের ধাপেই রয়েছে রাজহাঁসের নজরদারি। আগে যেখানে ছিল কুকুর। কর্তৃপক্ষের মতে, তৃতীয় ধাপের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই সবচেয়ে শক্তিশালী। পাহারাদার রাজহাঁসেদের নেতৃত্ব দেয় পিউ-পিউ। ধবধবে সাদা পালকের ওই রাজহাঁসটির তৎপরতা যেন অন্যদের চেয়ে খানিক বেশি। ডাকলে সবার আগে সে-ই সাড়া দেয়। কুকুরের পরিবর্তে জেলে রাজহাঁস নিয়ে আসার অন্যতম কারণ অবশ্য অর্থ। কুকুর পরিচর্যায় যে পরিমাণ খরচ হয়, তার চেয়ে রাজহাঁসদের দেখাশোনার খরচ অনেক কম। পাহারাদার বা অভিভাবক হিসেবে রাজহাঁসের ভূমিকা অনেক পুরনো। প্রাচীনকাল থেকেই এই পাখিগুলোকে বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। ব্রাজিলের জেলে ফিরেছে সেই প্রাচীন রীতি। দাবি, শুধু কুকুর নয়, রাজহাঁস পাহারা দেওয়ার কাজে অনেক বেশি পারদর্শী। স্বভাবগতভাবেই তারা রক্ষণশীল এবং প্রতিরক্ষামূলক। জেলের বাইরে তাই তারাই আদর্শ প্রাণী। মানুষের চেয়ে পাখিদের দৃষ্টিশক্তি অনেক বেশি। অতিবেগুনি রশ্মিও তারা দেখতে পায়। রাজহাঁসের ডাক অত্যন্ত জোরালো। ফলে যেকোনও সময়ে তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম। মানুষের চেয়ে বেশি দেখতে এবং শুনতে পেলেও সব পাখি কিন্তু তাতে প্রতিক্রিয়া জানায় না। রাজহাঁসেরা স্বভাবগতভাবে প্রতিক্রিয়াশীল। তারা যা দেখতে বা শুনতে পাচ্ছে, তাতে চিৎকার করে, ডানা ঝাপটিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। রাজহাঁসের এই নানা ইতিবাচক দিকের কথা মাথায় রেখে তাদের নিয়ে আসা হয়েছে ব্রাজিলের জেলে। এখনও পর্যন্ত তাদের কাজে কোথাও কোনও গলদ ধরা পড়েনি। বরং প্রত্যাশা মতোই কুকুরের চেয়ে ভাল কাজ করে চলেছে পিউ-পিউ ও তার দলবল। সূত্র: রয়টার্স, দ্য অ্যানিমেল রিডার

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

জেল পাহারা দেয় রাজহাঁসের দল!

আপলোড টাইম : ১০:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩

বিস্ময়কর প্রতিবেদন:
উঁচু নিñিদ্র দেওয়াল। মাছি গলে যাওয়ার জায়গাও নেই কোথাও। তার বাইরে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। আর সেই মাঠে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে এক দল রাজহাঁস। ব্রাজিলের সাও পেদ্রো দে অ্যালকান্তারা জেলের বাইরের চিত্র এটা। সেখানে জেল পাহারা দেয় রাজহাঁসের একটি দল। তারাই জেলের পাহারাদার। তাদের অতন্দ্র প্রহরায় জেল থেকে মাছি গলার উপায় নেই। ব্রাজিলের এই বিশেষ জেলটিতে কিন্তু এত দিন রাজহাঁস ছিল না। পাহারাদার হিসেবে ছিল অন্য প্রাণী। সম্প্রতি সেগুলো সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে হাঁসগুলোকে। সাও পেদ্রো দে অ্যালকান্তারা জেল এত দিন পাহারা দিত কুকুর। এক দল প্রশিক্ষিত হিংস্র কুকুরকে জেলের বাইরের মাঠে রেখে দেওয়া হয়েছিল। তারাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। তবে সম্প্রতি কারা কর্তৃপক্ষ কুকুরের বদলে রাজহাঁসে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বেশি দেখেছে। বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনা করেই তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই রদবদল করেছে বলে দাবি তাদের। দক্ষিণ ব্রাজিলের সান্টা ক্যাটারিনা প্রদেশে অবস্থান এই সাও পেদ্রো দে অ্যালকান্তারা কারাগার। জায়গা নির্জন। ওই নির্জন এলাকা হাঁসের পক্ষে উপযোগী বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের ওই জেলের কর্মচারীদের দাবি, কুকুরের চেয়ে রাজহাঁসের মধ্যে পাহারা দেওয়ার পারদর্শিতা, তৎপরতা অনেক বেশি। জেলের ডিরেক্টর মার্কোস রবার্টো ডিসুজা জানিয়েছেন, তাদের জেলে তিনটি স্তরে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত রয়েছে। কয়েদিরা যাতে জেল থেকে পালাতে না পারে, সেজন্য চলে কড়া নজরদারি। জেলটিতে প্রথমে রয়েছে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার জাল। তা পার হতে পারলে রয়েছে মানুষের নিরাপত্তা। অর্থাৎ, জেলের নিরাপত্তারক্ষীরা কড়া নজর রাখেন কয়েদিদের উপর। এর পরের ধাপেই রয়েছে রাজহাঁসের নজরদারি। আগে যেখানে ছিল কুকুর। কর্তৃপক্ষের মতে, তৃতীয় ধাপের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই সবচেয়ে শক্তিশালী। পাহারাদার রাজহাঁসেদের নেতৃত্ব দেয় পিউ-পিউ। ধবধবে সাদা পালকের ওই রাজহাঁসটির তৎপরতা যেন অন্যদের চেয়ে খানিক বেশি। ডাকলে সবার আগে সে-ই সাড়া দেয়। কুকুরের পরিবর্তে জেলে রাজহাঁস নিয়ে আসার অন্যতম কারণ অবশ্য অর্থ। কুকুর পরিচর্যায় যে পরিমাণ খরচ হয়, তার চেয়ে রাজহাঁসদের দেখাশোনার খরচ অনেক কম। পাহারাদার বা অভিভাবক হিসেবে রাজহাঁসের ভূমিকা অনেক পুরনো। প্রাচীনকাল থেকেই এই পাখিগুলোকে বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। ব্রাজিলের জেলে ফিরেছে সেই প্রাচীন রীতি। দাবি, শুধু কুকুর নয়, রাজহাঁস পাহারা দেওয়ার কাজে অনেক বেশি পারদর্শী। স্বভাবগতভাবেই তারা রক্ষণশীল এবং প্রতিরক্ষামূলক। জেলের বাইরে তাই তারাই আদর্শ প্রাণী। মানুষের চেয়ে পাখিদের দৃষ্টিশক্তি অনেক বেশি। অতিবেগুনি রশ্মিও তারা দেখতে পায়। রাজহাঁসের ডাক অত্যন্ত জোরালো। ফলে যেকোনও সময়ে তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম। মানুষের চেয়ে বেশি দেখতে এবং শুনতে পেলেও সব পাখি কিন্তু তাতে প্রতিক্রিয়া জানায় না। রাজহাঁসেরা স্বভাবগতভাবে প্রতিক্রিয়াশীল। তারা যা দেখতে বা শুনতে পাচ্ছে, তাতে চিৎকার করে, ডানা ঝাপটিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। রাজহাঁসের এই নানা ইতিবাচক দিকের কথা মাথায় রেখে তাদের নিয়ে আসা হয়েছে ব্রাজিলের জেলে। এখনও পর্যন্ত তাদের কাজে কোথাও কোনও গলদ ধরা পড়েনি। বরং প্রত্যাশা মতোই কুকুরের চেয়ে ভাল কাজ করে চলেছে পিউ-পিউ ও তার দলবল। সূত্র: রয়টার্স, দ্য অ্যানিমেল রিডার