ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্মার্টফোন ছাড়া শিশু কিছুতেই খেতে চায় না?

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:১১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রতিবেদন:
এক বছরের শিশুর সামনেও ইদানীং স্মার্টফোনে গান চালিয়ে দিচ্ছেন বাবা-মা। শিশু কিছু না বুঝলেও হা করে তাকিয়ে থাকছে মোবাইলের পর্দার দিকে। অভিভাবকদের এমন সামান্য ভুল শিশুর জীবনে বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। কারণ মা-বাবা বা অভিভাবকদের দেখে দেখে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের প্রতি আসক্তি তৈরি হয় শিশুদের। এক পর্যায়ে অনেক শিশুই মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না, অনেকে আবার মোবাইলের কারণে পড়াশোনায় মন বসাতে পারে না। তারা মোবাইলের প্রতি এতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর। কীভাবে মোবাইলের প্রতি শিশুর আসক্তি কাটাবেন, জেনে নেওয়া যাক কিছু পরামর্শ। ১) নিজের স্বভাবে আগে পরিবর্তন আনুন। আপনাকে সারাক্ষণ মোবাইলের নেশায় মগ্ন থাকতে দেখলে শিশুও সেটাই করবে। তাই আগে আপনার নিজের আসক্তি দূর করুন। শিশুর সামনে কাজের প্রয়োজন ছাড়া ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। ২) অভিভাবক সময় দেন না বলেই কিন্তু শিশুরা মোবাইলের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। তাদের আসক্তি কাটাতে হলে আপনাকে ওর জন্য সময় বের করতে হবে। প্রতিদিন সন্তানের জন্য দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখুন। ওই সময়ে শিশুর মনের কথা শুনুন, ওর সঙ্গে খেলুন, গল্প করুন। প্রয়োজনে ওকে গল্প পড়েও শোনাতে পারেন। শিশুর মন মোবাইল থেকে অন্য দিকে ঘোরাতে আপনাকেই উদ্যোগী হয়ে উঠতে হবে। ওকে নিয়ে বেড়াতে যান, ওকে খেলতে নিয়ে যান। ওকে বই কিনে দিতে পারেন। পড়াশোনা ছাড়া নাচ-গান-আঁকা-খেলাধুলো যে দিকে ওর আগ্রহ আছে, তাতে বেশি করে উৎসাহ দিন। ৩) দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে স্মার্টফোন ব্যবহার করার অনুমতি দিন। শিশু স্মার্টফোনে কী দেখছে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। তাদের অবসর সময়টা অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন। ৪) শিশু যদি অনলাইনে ক্লাস করে, তা হলে ইন্টারনেটে আর কী করছে সে, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এ ছাড়া স্মার্টফোন থেকে আপত্তিকর ওয়েবসাইটগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চেষ্টা করুন শিশুরা মোবাইল দেখলে যেন তথ্যমূলকই কিছু দেখে। ৫) প্রযুক্তির সুবিধা-অসুবিধা দু’টি দিকই সন্তানকে বোঝাতে হবে। প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দিক নিয়ে আলোচনা করুন সন্তানদের সঙ্গে। অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কী বিপদ হতে পারে, সে সব বিষয়েও সতর্ক করুন শিশুকে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

স্মার্টফোন ছাড়া শিশু কিছুতেই খেতে চায় না?

আপলোড টাইম : ১০:১১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

স্বাস্থ্য প্রতিবেদন:
এক বছরের শিশুর সামনেও ইদানীং স্মার্টফোনে গান চালিয়ে দিচ্ছেন বাবা-মা। শিশু কিছু না বুঝলেও হা করে তাকিয়ে থাকছে মোবাইলের পর্দার দিকে। অভিভাবকদের এমন সামান্য ভুল শিশুর জীবনে বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। কারণ মা-বাবা বা অভিভাবকদের দেখে দেখে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের প্রতি আসক্তি তৈরি হয় শিশুদের। এক পর্যায়ে অনেক শিশুই মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না, অনেকে আবার মোবাইলের কারণে পড়াশোনায় মন বসাতে পারে না। তারা মোবাইলের প্রতি এতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর। কীভাবে মোবাইলের প্রতি শিশুর আসক্তি কাটাবেন, জেনে নেওয়া যাক কিছু পরামর্শ। ১) নিজের স্বভাবে আগে পরিবর্তন আনুন। আপনাকে সারাক্ষণ মোবাইলের নেশায় মগ্ন থাকতে দেখলে শিশুও সেটাই করবে। তাই আগে আপনার নিজের আসক্তি দূর করুন। শিশুর সামনে কাজের প্রয়োজন ছাড়া ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। ২) অভিভাবক সময় দেন না বলেই কিন্তু শিশুরা মোবাইলের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। তাদের আসক্তি কাটাতে হলে আপনাকে ওর জন্য সময় বের করতে হবে। প্রতিদিন সন্তানের জন্য দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখুন। ওই সময়ে শিশুর মনের কথা শুনুন, ওর সঙ্গে খেলুন, গল্প করুন। প্রয়োজনে ওকে গল্প পড়েও শোনাতে পারেন। শিশুর মন মোবাইল থেকে অন্য দিকে ঘোরাতে আপনাকেই উদ্যোগী হয়ে উঠতে হবে। ওকে নিয়ে বেড়াতে যান, ওকে খেলতে নিয়ে যান। ওকে বই কিনে দিতে পারেন। পড়াশোনা ছাড়া নাচ-গান-আঁকা-খেলাধুলো যে দিকে ওর আগ্রহ আছে, তাতে বেশি করে উৎসাহ দিন। ৩) দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে স্মার্টফোন ব্যবহার করার অনুমতি দিন। শিশু স্মার্টফোনে কী দেখছে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। তাদের অবসর সময়টা অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন। ৪) শিশু যদি অনলাইনে ক্লাস করে, তা হলে ইন্টারনেটে আর কী করছে সে, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এ ছাড়া স্মার্টফোন থেকে আপত্তিকর ওয়েবসাইটগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চেষ্টা করুন শিশুরা মোবাইল দেখলে যেন তথ্যমূলকই কিছু দেখে। ৫) প্রযুক্তির সুবিধা-অসুবিধা দু’টি দিকই সন্তানকে বোঝাতে হবে। প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দিক নিয়ে আলোচনা করুন সন্তানদের সঙ্গে। অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কী বিপদ হতে পারে, সে সব বিষয়েও সতর্ক করুন শিশুকে।