‘জনমতহীন’ সংসদ বাতিল চায় বাম জোট

341

ডেস্ক রিপোর্ট: বর্তমান সংসদ বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। গতকাল এ দাবিতে সারা দেশে কালো পতাকা বিক্ষোভ করেছে ৮টি বাম দল নিয়ে গঠিত এ জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জমায়েত হন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা। এসময় জোটের অন্যতম সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক আশার সৃষ্টি হয়েছিল।কিন্তু সরকারি আমলা, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের সহায়তায় ভোটের আগের দিন রাতেই ব্যালটবক্স ভরে রেখে নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ; যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো দিনও দেখা যায়নি। গত ৩০শে ডিসেম্বর এমন প্রহসনের নির্বাচনের পর এই জনমতহীন সরকার যেই সংসদ অধীবেশন শুরু করেছে, তা কোনো দিনও তাদের গৌরব বয়ে আনবে না। উল্টো এই সংসদ আওয়ামী লীগের কপালের কলঙ্কের কালিমার টিকাকে আরো বিস্তৃত করবে।গত ৩০শে ডিসেম্বর দেশের মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের যেই নৈতিক পরাজয় হয়েছে, তা এই সংসদের মাধ্যমে বহুদিন যাবৎ বাংলাদেশের ইতিহাসে গাঁথা থাকবে। নীতিগতভাবে সংসদে কোনো বিরোধী দল নেই বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শরিক দল হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে তারা সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছে। যারা কি না সংসদ শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শেখ হাসিনার আদেশের অপেক্ষায় বসে ছিলেন। এই হচ্ছে বাংলাদেশের বিরোধী দলের নমুনা। তিনি বলেন, যাদের দিয়ে নির্বাচনের আগের দিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভোট ডাকাতি করালেন, নির্বাচনের পর তাদেরকে নিয়েই আপনি বাংলাদেশের দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সে নামাতে চান- এটা কীভাবে সম্ভব? এসময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, বিএনপির দুর্নীতি ও এরশাদের স্বৈরতন্ত্রের সমালোচনা এখন আর আওয়ামী লীগের নেতাদের মুখে সাজে না। কারণ অনেক আগেই তারা বিএনপির অপকর্ম ও স্বৈরাচারী এরশাদকে ছাড়িয়েছে। আর এই শোষক শ্রেণির হাত থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন একটি বিকল্প শক্তি। এই বিকল্প শক্তি বাম গণতান্ত্রিক জোট। মানুষের ভোটের অধিকার, শ্রমিকের মজুরির অধিকার, ধর্ষণ-খুন, দুর্নীতিসহ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদয়ে সর্বদা রাজপথে রয়েছে বাম জোট।
তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচনের জন্য যেই নির্বাচন কমিশনকে বাতিল করা উচিত তা না করে, উল্টো এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। যা এই দেশের মানুষকে চূড়ান্ত অপমান করা ছাড়া আর কিছু নয়। এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক ম-লীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দ প্রমুখ।