দর্শনা কেরুজ ডিস্ট্রিলারির সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান আব্বাস আলীর বাক্স থেকে ৮ বোতল ফরেন লিকার মদ উদ্ধার হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে এই ঘটনার পর বাবর আলী মেম্বার আব্বাস আলীকে স্যান্ডেল দিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছেন বাবর আলী।
আব্বাস আলী বলেন, ‘আমার মানহানির ঘটনায় আমি অত্যান্ত ক্ষুব্ধ। আমি আগামী শ্রমিক নির্বাচনে বাবর আলীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কেউ বাক্সে ওই ৬ বোতল মদ রেখেছে বলে আমি মনে করছি।’ বাবর আলী এ বিষয়ে বলেন, ‘আব্বাস পাগল হয়ে গেছে। আমি বলেছিলাম, তুমি স্বীকার কর। সে স্বীকার করেনি। যদি স্বীকার করতো, তাহলে আমি জিএম স্যারদের কাছে মাফ চেয়ে নিতাম। আমি তাকে মারিনি। তবে সে দাবি করেছে, অফিসের বাইরে আমাকে স্যান্ডেল দিয়ে মেরেছে। সিসি ক্যামেরা চেক করলেই সব ধরা পড়বে।’
এদিকে, এসব ঘটনায় সাধারণ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ডিজিএম ইউসুফ আলী বলেন, ‘আব্বাস আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে কারা জড়িত।’
উল্লেখ্য, গত পরশু সোমবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটের সময় কেরুজ ডিস্ট্রিলারির ম্যানেজার রাজিবুল হাসান, নারকোট্রাফিক্সের কর্মকতা সানোয়ার হোসেন, ক্যামিস্ট আব্দুল হালিম ও ডিস্ট্রিলারির মেম্বর বাবর আলী উদ্ধারকৃত মদের বোতলগুলোর বিষয়ে জানান। দর্শনা ডিস্ট্রিলারির গেটের পাশে রোরিং ঘরের একটি ভাঙা বাক্স থেকে ৬ বোতল ফরেন লিকার ও ২ বোতল ফরেন লিকার খালি বোতল উদ্ধার করা হয়।
এডিএম ইউসুফ আলী জানান, আব্বাস আলী ওই বাক্সে মদ রাখার জন্য তালা দিয়ে দেয়। ডিস্টিলারির একজন কর্মচারী আব্বাস আলীকে মদ রাখতে দেখে ঘটনাটি কেরুজ ডিস্ট্রিলারির ম্যানেজার রাজিবুল হাসানকে জানান। রাজিবুল হাসান বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে তাৎক্ষণিক ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আব্বাস আলীর ব্যবহৃত বাক্সটি ভেঙে ৬ বোতল ফরেন লিকার ও ২ বোতল ফরেন লিকার খালি বোতল উদ্ধার করে।
সমীকরণ প্রতিবেদন