ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাবার বাড়ি বেড়ানো শেষে আনন্দময়ী দেবী ফিরে গেলেন কৈলাসের দেবালয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ দুর্গোৎসব

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০১৬
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420

 

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

সমীকরণ ডেস্ক: ‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ শেষে ‘আনন্দময়ী’ দেবী ফিরে গেলেন ‘কৈলাসের দেবালয়ে’; ঢাকের বাদ্য আর আবীর খেলার বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সাঙ্গ হলো বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের। মণ্ডপে মণ্ডপে এ উৎসবের সূচনা হয়েছিল দশ দিন আগে, মহালয়ার মধ্যদিয়ে। মঙ্গলবার সকালে বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনে’ দুর্গাপূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি হয়। বিকালে হয় প্রতিমা বিসর্জন। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী; বিসর্জনের মধ্যদিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব। ঢাকার ওয়াইজঘাটে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে টিকাটুলীর ভোলানাথ গিরি আশ্রম পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনে শুরু হয় রাজধানীতে দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন ঘাটে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর ২২৯টি মণ্ডপের প্রতিমা একে একে বিসর্জন দেয়া হয় বলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে প্রতিমা বিসর্জন হয় সাগর সৈকতে। একইভাবে সারাদেশে বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে চলে বিসর্জনের পর্ব।
আমাদের শহর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গাপূজা। গতকাল সন্ধ্যায় মাথাভাঙ্গা নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় প্রতিমা। চুয়াডাঙ্গা পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার কুন্ডু জানান, বিজয়া দশমী হলেও ভক্তবৃন্দ বিকাল ৫টা থেকে একে একে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রতিমা বির্সজন দেয়া হয়। বিসর্জনস্থলে এ সময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। এ উপলক্ষে ঢাক-ঢোল, বাদ্য-বাজনা আর আরতির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেয়া হয়। সর্বশেষ অশ্র“সিক্ত নয়নে মাকে বিদায় জানিয়ে তার কাছ থেকে আশির্বাদ নেন ভক্তরা। সেই বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধূরী জিপু পৌর এলাকার প্রত্যেকটি মন্দিরে যান এবং যেখানে যেখানে পূজা বির্সজন দেয়া হয় সেই জায়গুলো পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে নিজে হাতে পরিস্কার করেন। এরপর ফেরীঘাট রোডের পাশে মাথাভাঙ্গা নদীর ঘাটে তিনি নিজেই সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির সাথে নিজে প্রতিমা বির্সজন দেন। এসময় তিনি পূজা বির্সজন দেয়ার জন্য একটি পাকা ঘাট তৈরীর আশ্বাস দেন। এবার সদর উপজেলায় ২৫টি মন্ডপের পূজা মাথাভাঙ্গা নদীতে বির্সজন দেয়া হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুর শহরের বিভন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি মুজিবনগরের মোনাখালি, দারিয়াপুর, বল্লভপুর, ও মহাজনপুর পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সন্ধ্যায় পিরোজপুর, আমঝুপি এবং শহরের হরিসভা,     বামনপাড়া, মালোপাড়া, হালদারপাড়া, নায়েববাড়ি ও শ্রী শ্রী সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দিরের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, আব্দুল হালিম, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহীম শাহীন, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিত বোস, সহ-সভাপতি অ্যাড. পল্লভ ভট্টাচার্য, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম সাজ্জাদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি একে আজাদ সাগর, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল, শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন, জাফর ইকবালসহ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
মুজিবনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুর মুজিবনগরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি মুজিবনগরের মোনাখালি, দারিয়াপুর, বল্লভপুর, ও মহাজনপুর পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, আব্দুল হালিম, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহীম শাহীন, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিত বোস, সহ-সভাপতি অ্যাড. পল্লভ ভট্টাচার্য, বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সংকর বিশ্বাস ও ইউপি সদস্য সুজিত মল্লিকসহ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিশর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। প্রতিমা কুমার নদে আলমডাঙ্গার পৌর এলাকার ৯টিসহ উপজেলার মোট ২৬টি দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজা। কুমার নদে প্রতিমা বিসর্জনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহান, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু, থানা অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেন, ওসি তদন্ত মেহেদি রাসেল, থানা সেকেন্ড অফিসার জিয়াউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রশান্ত কুমার অধিকারী, আওয়ামী লীগ নেতা সমীর কুমার দে, পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, আব্দুল গফ্ফার, জাহিদুল ইসলাম, আলা উদ্দিন, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোনাহার মন্ডল, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডাঃ অমল কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক পরিমল কুমার কালু ঘোষ, রথতলা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার সাহা, ডাউকি  ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহামন, রথতলা শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরের সভাপতি অশক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার সাহা, বিশ্বজিৎ সাধুখা, সমির কুমার দে, কালিদাসপুর পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল ভৌতিকা, সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্রনাথ দত্ত, ষ্টেশনপাড়া শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি সুবেন্দ্র সিংহ রায়, সাধারণ সম্পাদক বিধান বেদ ও জয় বিশ্বাসসহ শত শত ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ। প্রশাসনের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, শুভ বিজয়া মধ্যে দিয়ে গতকাল দুর্গতি নাশিনী দুর্গা মর্তালোক ছেড়ে স্বর্গ শিখর কৈলাসে স্বামীগৃহে চলে গেল। পেছনে ফেলে গেলেন ভক্তদের শ্রদ্ধা আর বেদনাশ্র“। আর ভক্তের কাছে রেখে গেলেন আগামী বছরে ফিরে আসার অঙ্গিকার। গতকাল সাঁজের বেলায় হিন্দু সনাতন ধর্মের বড় উৎসব দেবী দূর্গাকে মাথাভাঙ্গা নদীতে বির্ষজনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো। আবার এক বছরের জন্য অপেক্ষায় রইলো ভক্তরা। গতকাল সন্ধ্যায় একে একে দর্শনা মেমনগর ঘাটে ৬টি প্রতিমাকে বির্ষজন দেয়া হয়। দর্শনা শ্রী শ্রী কেরুজ মন্দির, দর্শনা হরিজন সম্প্রদায়, দর্শনা বাগদী সম্প্রদায়, দর্শনা পুরাতন বাজার শ্রী শ্রী মন্দির, দর্শনা মুচিপাড়া শ্রী শ্রী মন্দির ও পারকৃষ্ণপুর বাজার পাড়ার শ্রী শ্রী মন্দিরের ৬টি প্রতিমা মাথাভাঙ্গা নদীতে বির্ষজন দেয়া হয়। প্রতিমা বির্ষজনের সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র মতিয়ার রহমান। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, প্যানেল মেয়র রেজাউল ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দেবনাথ, দর্শনা গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ান, সুধির কুমার শান্তারা, যুবলীগ নেতা আবু ফয়সাল আহম্মেদ শৈলেন কুমার শান্তারা, অনন্ত কুমার শান্তারা মঙ্গলসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেত্রীবৃন্দ।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগরে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হল হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয় বড় উৎসব স্বারদীয় দূর্গা পূজা। সারাদেশের ন্যায় গতকাল জীবননগর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তায় সকল পূজা মন্ডপের প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হল দূর্গা উৎসবের। প্রতিমা বির্সজনের আগ মুহুর্তে গাড়িতে করে উৎসবমূখর পরিবেশে মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে বির্সজন দেওয়ার উপলক্ষে জীবননগর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করা হয় এবং প্রদক্ষিন শেষে প্রতিমাকে জীবননগর নদীতে বির্সজন দেওয়া হয়।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

বাবার বাড়ি বেড়ানো শেষে আনন্দময়ী দেবী ফিরে গেলেন কৈলাসের দেবালয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ দুর্গোৎসব

আপলোড টাইম : ০১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০১৬

 

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

সমীকরণ ডেস্ক: ‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ শেষে ‘আনন্দময়ী’ দেবী ফিরে গেলেন ‘কৈলাসের দেবালয়ে’; ঢাকের বাদ্য আর আবীর খেলার বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সাঙ্গ হলো বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের। মণ্ডপে মণ্ডপে এ উৎসবের সূচনা হয়েছিল দশ দিন আগে, মহালয়ার মধ্যদিয়ে। মঙ্গলবার সকালে বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনে’ দুর্গাপূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি হয়। বিকালে হয় প্রতিমা বিসর্জন। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী; বিসর্জনের মধ্যদিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব। ঢাকার ওয়াইজঘাটে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে টিকাটুলীর ভোলানাথ গিরি আশ্রম পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনে শুরু হয় রাজধানীতে দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন ঘাটে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর ২২৯টি মণ্ডপের প্রতিমা একে একে বিসর্জন দেয়া হয় বলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে প্রতিমা বিসর্জন হয় সাগর সৈকতে। একইভাবে সারাদেশে বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে চলে বিসর্জনের পর্ব।
আমাদের শহর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গাপূজা। গতকাল সন্ধ্যায় মাথাভাঙ্গা নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় প্রতিমা। চুয়াডাঙ্গা পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার কুন্ডু জানান, বিজয়া দশমী হলেও ভক্তবৃন্দ বিকাল ৫টা থেকে একে একে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রতিমা বির্সজন দেয়া হয়। বিসর্জনস্থলে এ সময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। এ উপলক্ষে ঢাক-ঢোল, বাদ্য-বাজনা আর আরতির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেয়া হয়। সর্বশেষ অশ্র“সিক্ত নয়নে মাকে বিদায় জানিয়ে তার কাছ থেকে আশির্বাদ নেন ভক্তরা। সেই বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধূরী জিপু পৌর এলাকার প্রত্যেকটি মন্দিরে যান এবং যেখানে যেখানে পূজা বির্সজন দেয়া হয় সেই জায়গুলো পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে নিজে হাতে পরিস্কার করেন। এরপর ফেরীঘাট রোডের পাশে মাথাভাঙ্গা নদীর ঘাটে তিনি নিজেই সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির সাথে নিজে প্রতিমা বির্সজন দেন। এসময় তিনি পূজা বির্সজন দেয়ার জন্য একটি পাকা ঘাট তৈরীর আশ্বাস দেন। এবার সদর উপজেলায় ২৫টি মন্ডপের পূজা মাথাভাঙ্গা নদীতে বির্সজন দেয়া হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুর শহরের বিভন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি মুজিবনগরের মোনাখালি, দারিয়াপুর, বল্লভপুর, ও মহাজনপুর পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সন্ধ্যায় পিরোজপুর, আমঝুপি এবং শহরের হরিসভা,     বামনপাড়া, মালোপাড়া, হালদারপাড়া, নায়েববাড়ি ও শ্রী শ্রী সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দিরের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, আব্দুল হালিম, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহীম শাহীন, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিত বোস, সহ-সভাপতি অ্যাড. পল্লভ ভট্টাচার্য, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম সাজ্জাদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি একে আজাদ সাগর, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল, শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন, জাফর ইকবালসহ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
মুজিবনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুর মুজিবনগরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি মুজিবনগরের মোনাখালি, দারিয়াপুর, বল্লভপুর, ও মহাজনপুর পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, আব্দুল হালিম, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহীম শাহীন, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিত বোস, সহ-সভাপতি অ্যাড. পল্লভ ভট্টাচার্য, বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সংকর বিশ্বাস ও ইউপি সদস্য সুজিত মল্লিকসহ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিশর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। প্রতিমা কুমার নদে আলমডাঙ্গার পৌর এলাকার ৯টিসহ উপজেলার মোট ২৬টি দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজা। কুমার নদে প্রতিমা বিসর্জনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহান, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু, থানা অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেন, ওসি তদন্ত মেহেদি রাসেল, থানা সেকেন্ড অফিসার জিয়াউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রশান্ত কুমার অধিকারী, আওয়ামী লীগ নেতা সমীর কুমার দে, পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, আব্দুল গফ্ফার, জাহিদুল ইসলাম, আলা উদ্দিন, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোনাহার মন্ডল, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডাঃ অমল কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক পরিমল কুমার কালু ঘোষ, রথতলা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার সাহা, ডাউকি  ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহামন, রথতলা শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরের সভাপতি অশক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার সাহা, বিশ্বজিৎ সাধুখা, সমির কুমার দে, কালিদাসপুর পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল ভৌতিকা, সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্রনাথ দত্ত, ষ্টেশনপাড়া শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি সুবেন্দ্র সিংহ রায়, সাধারণ সম্পাদক বিধান বেদ ও জয় বিশ্বাসসহ শত শত ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ। প্রশাসনের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, শুভ বিজয়া মধ্যে দিয়ে গতকাল দুর্গতি নাশিনী দুর্গা মর্তালোক ছেড়ে স্বর্গ শিখর কৈলাসে স্বামীগৃহে চলে গেল। পেছনে ফেলে গেলেন ভক্তদের শ্রদ্ধা আর বেদনাশ্র“। আর ভক্তের কাছে রেখে গেলেন আগামী বছরে ফিরে আসার অঙ্গিকার। গতকাল সাঁজের বেলায় হিন্দু সনাতন ধর্মের বড় উৎসব দেবী দূর্গাকে মাথাভাঙ্গা নদীতে বির্ষজনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো। আবার এক বছরের জন্য অপেক্ষায় রইলো ভক্তরা। গতকাল সন্ধ্যায় একে একে দর্শনা মেমনগর ঘাটে ৬টি প্রতিমাকে বির্ষজন দেয়া হয়। দর্শনা শ্রী শ্রী কেরুজ মন্দির, দর্শনা হরিজন সম্প্রদায়, দর্শনা বাগদী সম্প্রদায়, দর্শনা পুরাতন বাজার শ্রী শ্রী মন্দির, দর্শনা মুচিপাড়া শ্রী শ্রী মন্দির ও পারকৃষ্ণপুর বাজার পাড়ার শ্রী শ্রী মন্দিরের ৬টি প্রতিমা মাথাভাঙ্গা নদীতে বির্ষজন দেয়া হয়। প্রতিমা বির্ষজনের সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র মতিয়ার রহমান। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, প্যানেল মেয়র রেজাউল ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দেবনাথ, দর্শনা গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ান, সুধির কুমার শান্তারা, যুবলীগ নেতা আবু ফয়সাল আহম্মেদ শৈলেন কুমার শান্তারা, অনন্ত কুমার শান্তারা মঙ্গলসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেত্রীবৃন্দ।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগরে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হল হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয় বড় উৎসব স্বারদীয় দূর্গা পূজা। সারাদেশের ন্যায় গতকাল জীবননগর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তায় সকল পূজা মন্ডপের প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হল দূর্গা উৎসবের। প্রতিমা বির্সজনের আগ মুহুর্তে গাড়িতে করে উৎসবমূখর পরিবেশে মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে বির্সজন দেওয়ার উপলক্ষে জীবননগর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করা হয় এবং প্রদক্ষিন শেষে প্রতিমাকে জীবননগর নদীতে বির্সজন দেওয়া হয়।