ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ষ্টেশনের প্লাটফরমে হঠাৎ কান্নার আওয়াজ ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হলো ফুটফুটে নবজাতক!

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১৬
  • / ৪১৯ বার পড়া হয়েছে

IMG_20161002_124116শহর প্রতিনিধি: মানুষ এতো নিষ্ঠুর পাষান হয় কি করে! আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। নিজের নাড়ী ছেড়া বুকের ধনকে এভাবে স্টেশনে ফেলে গেল কি করে ? ঠিক এভাবেই কথাগুলো পান চিবুতে চিবুতে বলছিলেন স্টেশনের রেলের যাত্রী রমেছা খাতুন ও তার বান্ধবী ইয়ারন নেছা। তিনি আরো  বলেন, প্রথমে ভাবছিলাম “কইতরের বাইচ্চা হবে”এদিক-ওদিক দেইখে দেখলাম কোন কইতরের বাইচ্চা না, কাঁদছে দিব্বি মানুষের বাইচ্চা। একটু মনোযোগ দিয়ে খুঁজতেই দেখি দেওয়ালের কোনাই পড়ে থাকা বাজারের ব্যাগের ভিতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। ব্যাগ খুলতেই নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে মানুষের বাচ্চা এভাবে পড়ে থাকতে পারে। সাথে সাথে রমেছা খাতুন খবর দেন আশেপাশের লোকজনের। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ঘটনাস্থলে এসে একটি বাজারের ব্যাগের  ভেতর থেকে উদ্ধার করে ফুটফুটে একটি নবজাতককে। উদ্ধার হওয়া ছেলে শিশুটিকে এক নজর দেখতে মহিলাসহ ভীড় জমায় শতশত উৎসুক জনতা। ভীড় সামলাতে হিমশিম রেলওয়ের পুলিশের। সেই সাথে ধীক্কার জানাই শিশুটির নাম না জানা পিতা-মাতাকে। স্টেশনের দোকানদার আব্দুল কুদ্দুস জানান, গতকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ শিশুটিকে নিয়ে তার দোকানের বাইরের বেঞ্চে বসে ছিল। এরপর ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ষ্টেশনে আসার পরে তারা কোথায় গেলেন তা খেয়াল করেননি। পরে ব্যাগের ভেতর বাচ্চাটির কান্নার আওয়াজে যখন বাচ্চাটি উদ্ধার হলো তখন বুঝতে পারি ওরাই এমন জঘন্য ভাবে কাজটি করে নিমিষের ভীড়ের কখন সটকে পড়েছে বুঝতে পারেনি। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ IMG_20161003_005752_856এসআই মামুন শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে নেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে  উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলেও জানান। এ বিষয়ে এসআই মামুন এই প্রতিবেদককে জানান, বাচ্চাটি কাল সকাল পর্যন্ত আমার হেফাজতে থাকবে। তবে আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেক এলাকায় বাচ্চাটির জন্য মাইকিং করেছি। যদি কেই উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে আসতে পারে তাহলে আমরা দিতে বাধ্য। তবে কাল সকাল পর্যন্ত কেউ না আসে তা হলে আমরা একজন ভাল পরিবারের কাছে এই ফুটফুটে বাচ্চাটি হস্তান্তর করব। আর যদি কেউ না নেন আমি নিজেই বাচ্চাটি মানুষ করবো। তবে কেউ যদি উপযুক্ত প্রমান দিয়ে বাচ্চাটি নিতে আসে তবে হস্তান্তর করবো। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দৈনিক সময়ের সমীকরণ অফিসে অনেকে ফোন করে বাচ্চাটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ষ্টেশনের প্লাটফরমে হঠাৎ কান্নার আওয়াজ ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হলো ফুটফুটে নবজাতক!

আপলোড টাইম : ১০:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১৬

IMG_20161002_124116শহর প্রতিনিধি: মানুষ এতো নিষ্ঠুর পাষান হয় কি করে! আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। নিজের নাড়ী ছেড়া বুকের ধনকে এভাবে স্টেশনে ফেলে গেল কি করে ? ঠিক এভাবেই কথাগুলো পান চিবুতে চিবুতে বলছিলেন স্টেশনের রেলের যাত্রী রমেছা খাতুন ও তার বান্ধবী ইয়ারন নেছা। তিনি আরো  বলেন, প্রথমে ভাবছিলাম “কইতরের বাইচ্চা হবে”এদিক-ওদিক দেইখে দেখলাম কোন কইতরের বাইচ্চা না, কাঁদছে দিব্বি মানুষের বাইচ্চা। একটু মনোযোগ দিয়ে খুঁজতেই দেখি দেওয়ালের কোনাই পড়ে থাকা বাজারের ব্যাগের ভিতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। ব্যাগ খুলতেই নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে মানুষের বাচ্চা এভাবে পড়ে থাকতে পারে। সাথে সাথে রমেছা খাতুন খবর দেন আশেপাশের লোকজনের। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ঘটনাস্থলে এসে একটি বাজারের ব্যাগের  ভেতর থেকে উদ্ধার করে ফুটফুটে একটি নবজাতককে। উদ্ধার হওয়া ছেলে শিশুটিকে এক নজর দেখতে মহিলাসহ ভীড় জমায় শতশত উৎসুক জনতা। ভীড় সামলাতে হিমশিম রেলওয়ের পুলিশের। সেই সাথে ধীক্কার জানাই শিশুটির নাম না জানা পিতা-মাতাকে। স্টেশনের দোকানদার আব্দুল কুদ্দুস জানান, গতকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ শিশুটিকে নিয়ে তার দোকানের বাইরের বেঞ্চে বসে ছিল। এরপর ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ষ্টেশনে আসার পরে তারা কোথায় গেলেন তা খেয়াল করেননি। পরে ব্যাগের ভেতর বাচ্চাটির কান্নার আওয়াজে যখন বাচ্চাটি উদ্ধার হলো তখন বুঝতে পারি ওরাই এমন জঘন্য ভাবে কাজটি করে নিমিষের ভীড়ের কখন সটকে পড়েছে বুঝতে পারেনি। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ IMG_20161003_005752_856এসআই মামুন শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে নেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে  উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলেও জানান। এ বিষয়ে এসআই মামুন এই প্রতিবেদককে জানান, বাচ্চাটি কাল সকাল পর্যন্ত আমার হেফাজতে থাকবে। তবে আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেক এলাকায় বাচ্চাটির জন্য মাইকিং করেছি। যদি কেই উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে আসতে পারে তাহলে আমরা দিতে বাধ্য। তবে কাল সকাল পর্যন্ত কেউ না আসে তা হলে আমরা একজন ভাল পরিবারের কাছে এই ফুটফুটে বাচ্চাটি হস্তান্তর করব। আর যদি কেউ না নেন আমি নিজেই বাচ্চাটি মানুষ করবো। তবে কেউ যদি উপযুক্ত প্রমান দিয়ে বাচ্চাটি নিতে আসে তবে হস্তান্তর করবো। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দৈনিক সময়ের সমীকরণ অফিসে অনেকে ফোন করে বাচ্চাটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।