ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গাংনীর আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দুপক্ষের হাতাহাতি একপক্ষের দাবি প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার প্রতিবাদ অন্যপক্ষের দাবি ভোটের বিরোধ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০১:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  • / ২৯০ বার পড়া হয়েছে

গাংনী অফিস: গাংনীর আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক পক্ষের লোকজনের হাতে তার লোকজন হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছে সহকারী শিক্ষক শরিফুল  লিখনের বিরুদ্ধে ভোট করায় তার উপর হামলা করেছে ।
এঘটনায় প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন ও সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম এবং ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য কামাল হোসেনের  মধ্যে পানজাবি ও জামা ছিড়াছিড়র প্রতিযোগিতা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় সঙ্গীত শুরুর আগ মর্হতে এঘটনা ঘটে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক জানান, সকালে এসে জাতীয় সঙ্গিত শুরুর সময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন সহকারী শিক্ষক শরিফুলের ব্যাপারে বসতে হবে বলে জানান। এক পযার্য়ে শরিফুল মারার জন্য সহকারী শিক্ষক কমলকে দরজা বন্ধ করে রড আনতে বলে সহকারী প্রধান শিক্ষক লিখন। এসময় প্রধান শিক্ষক বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। গায়ের পানজাবি ছিড়ে দেয় তারা। তিনি আরো দাবি করেন গাংনী শিক্ষক সমিতির ভোটে শরিফুল লিখনের বিরোধীতা করায় তাকে মারধর করে।
এদিকে সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন জানান, প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পষদের্র সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। ১৫ সালের দিকে মোস্তফা ও জাহিদ নামের দুজনকে  অনিয়মের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অব্যধ নিয়োগ দেয়। দুনীর্তি করে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ায় দির্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে লিখন। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে মত পার্থক্য হয় প্রধান শিক্ষকের সাথে। গতকাল বাংলাদেশের সব জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধন করতে নির্দেশনা সরকারের পক্ষে থেকে। কিন্তু আমাদের প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক ও মটমুড়া ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে কর্মসূচী বাতিলের পায়তারা করে। এবং আমরা কর্মসূচী পালনে জোর করলে শরিফুল  প্রধানমন্ত্রী  সর্ম্পকে কটুক্তি করে। আমরা আ’লীগ দলের  সাথে জড়িত তাই প্রধানমন্ত্রী সর্ম্পকে মন্তব্য করায় সহকারী শিক্ষক কমলকে নিয়ে প্রতিবাদ করি। এসময় প্রধান শিক্ষক ও শরিফুল আামদের হামলা করে।  লিখন আরো বলেছেন,  আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এর আগে কোন জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধন করেনি উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক ও বিএনপির শিক্ষক শরিফুল ইসলামের শাস্তি দাবি করেন। এছড়াও মনগড়া কমিটি গঠনের ষড়যন্ত্র ও বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট করার পায়তারা চালাচ্ছে।
এদিকে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অব্যধ নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন তালবাহানা করে নির্বাচন বন্ধের ব্যাপারে বোর্ডে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেছেন, আমি শিক্ষক সমিতির ভোট লিখনের বিরুদ্ধে ভোট করায়। সে আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয়। এবং আমি স্কুলে আসলে সে মারার জন্য এগিয়ে আসে পরে  মারধর করে। ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য কামাল হোসেন জানান, আমরা অব্যধ নিয়োগ ও বাণিজ্যও ব্যাপারে জানতে চাইলে আমাদের উপর চরাও হয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম। এদিকে প্রতিনিয়ত এধরনের ঝগরা বিবাদ লেগে থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নেই বলেও জানান কয়েকজন  শিক্ষার্থী। তারা বলেছেন, কোন শিক্ষক দুনীর্তি করে আর প্রতিবাদ করে জানিনা। আমরা চাই সুষ্ট পড়ালেখার পরিবেশ। এজন্য সরকারের উচ্চপযায়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

গাংনীর আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দুপক্ষের হাতাহাতি একপক্ষের দাবি প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার প্রতিবাদ অন্যপক্ষের দাবি ভোটের বিরোধ

আপলোড টাইম : ০১:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

গাংনী অফিস: গাংনীর আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক পক্ষের লোকজনের হাতে তার লোকজন হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছে সহকারী শিক্ষক শরিফুল  লিখনের বিরুদ্ধে ভোট করায় তার উপর হামলা করেছে ।
এঘটনায় প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন ও সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম এবং ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য কামাল হোসেনের  মধ্যে পানজাবি ও জামা ছিড়াছিড়র প্রতিযোগিতা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় সঙ্গীত শুরুর আগ মর্হতে এঘটনা ঘটে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক জানান, সকালে এসে জাতীয় সঙ্গিত শুরুর সময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন সহকারী শিক্ষক শরিফুলের ব্যাপারে বসতে হবে বলে জানান। এক পযার্য়ে শরিফুল মারার জন্য সহকারী শিক্ষক কমলকে দরজা বন্ধ করে রড আনতে বলে সহকারী প্রধান শিক্ষক লিখন। এসময় প্রধান শিক্ষক বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। গায়ের পানজাবি ছিড়ে দেয় তারা। তিনি আরো দাবি করেন গাংনী শিক্ষক সমিতির ভোটে শরিফুল লিখনের বিরোধীতা করায় তাকে মারধর করে।
এদিকে সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিখন জানান, প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পষদের্র সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। ১৫ সালের দিকে মোস্তফা ও জাহিদ নামের দুজনকে  অনিয়মের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অব্যধ নিয়োগ দেয়। দুনীর্তি করে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ায় দির্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে লিখন। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে মত পার্থক্য হয় প্রধান শিক্ষকের সাথে। গতকাল বাংলাদেশের সব জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধন করতে নির্দেশনা সরকারের পক্ষে থেকে। কিন্তু আমাদের প্রধান শিক্ষক এ.বি সিদ্দিক ও মটমুড়া ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে কর্মসূচী বাতিলের পায়তারা করে। এবং আমরা কর্মসূচী পালনে জোর করলে শরিফুল  প্রধানমন্ত্রী  সর্ম্পকে কটুক্তি করে। আমরা আ’লীগ দলের  সাথে জড়িত তাই প্রধানমন্ত্রী সর্ম্পকে মন্তব্য করায় সহকারী শিক্ষক কমলকে নিয়ে প্রতিবাদ করি। এসময় প্রধান শিক্ষক ও শরিফুল আামদের হামলা করে।  লিখন আরো বলেছেন,  আরবিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এর আগে কোন জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধন করেনি উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক ও বিএনপির শিক্ষক শরিফুল ইসলামের শাস্তি দাবি করেন। এছড়াও মনগড়া কমিটি গঠনের ষড়যন্ত্র ও বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট করার পায়তারা চালাচ্ছে।
এদিকে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অব্যধ নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন তালবাহানা করে নির্বাচন বন্ধের ব্যাপারে বোর্ডে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেছেন, আমি শিক্ষক সমিতির ভোট লিখনের বিরুদ্ধে ভোট করায়। সে আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয়। এবং আমি স্কুলে আসলে সে মারার জন্য এগিয়ে আসে পরে  মারধর করে। ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য কামাল হোসেন জানান, আমরা অব্যধ নিয়োগ ও বাণিজ্যও ব্যাপারে জানতে চাইলে আমাদের উপর চরাও হয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম। এদিকে প্রতিনিয়ত এধরনের ঝগরা বিবাদ লেগে থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নেই বলেও জানান কয়েকজন  শিক্ষার্থী। তারা বলেছেন, কোন শিক্ষক দুনীর্তি করে আর প্রতিবাদ করে জানিনা। আমরা চাই সুষ্ট পড়ালেখার পরিবেশ। এজন্য সরকারের উচ্চপযায়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।