চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৩১ আগস্ট ২০১৬

মেহেরপুরে ছাত্রীর সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ : ম্যানেজিং কমিটির জরুরী বৈঠক লঘু পাপে গুরু দণ্ড : শিক্ষক ফয়জুল বহিস্কার : নির্দোষ দাবি শিক্ষকের

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৩১, ২০১৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ftftfd

মেহেরপুর অফিস: প্রাক্তন এক ছাত্রীর সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়জুল কবিরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ম্যানেজিং কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে সকাল ৮টার দিকে আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। তবে এলাকায় এনিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। কেউ কেউ বলছেন লঘু পাপে গুরু দন্ড দেয়া হলো। আবার কেউ বলছেন অভিযোগের সাথে ওই শিক্ষক জড়িত কিনা কিংবা তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে কিনা এনিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন চুন্নু বলেন, স্কুলের প্রাক্তন এক ছাত্রীর বাবা শিক্ষক ফয়জুল কবিরের বিরুদ্ধে তার মেয়ের সাথে অশালিন আচরণ করার অভিযোগ করেন এবং সকালে শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিচার দাবি করে। যেহেতু বিদ্যালয়ের সুনামের ব্যাপার তাই ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে বলা হয়েছে এবং তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে ওই শিক্ষক ও তার এক প্রাক্তন ছাত্রীকে মোটরসাইকেলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে ঘুরছিলেন। এসময় সন্দেহভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। পরবর্তিতে আমঝুপির ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং মেয়ের বাবা ঘটনাস্থলে পৌছালে মেয়েকে তার বাবার হাতে এবং ওই সহকারী শিক্ষককে সাবেক চেয়ারম্যানের জিম্মায় মুক্তি দেন।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে আমঝুপি এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালে আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমঝুপি সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দিন চুন্নুর কাছে বিচার দাবি করে। এসময় বোরহান উদ্দিন চুন্নু দুপুরে জরুরী সভা আহবান করে বিচার করা হবে আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেয়। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার এস আই মেহেদী হাসান পুলিশের একটি দল নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেন।
এ ব্যাপারে আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুল ইসলাম বলেন, যেহেতু ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে তাই বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে ম্যানেজিং কমিটি তাকে বহি:স্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সাথে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ এবং তিন সদস্যর তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ফয়জুল কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলের প্রাক্তন এক ছাত্রীর সাথে দর্শনা সুগার মিলে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ফিরে আসার সময় চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জ মোড়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দুজন বখাটে চাঁদা দাবি করে। তাদের চাঁদা না দেওয়াতে তারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ছাত্রীর সাথে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সহকারী পুলিশ সুপার আমাদের কথা শোনার পর ছেড়ে দেন। কিন্তু আমার এলাকায় কিছু লোকজন এটা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শুরু করে ছাত্রীর পরিবার ও স্কুলের ছেলে মেয়েদের ফুঁসলিয়ে আজ আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি শুরু করেছেন। চাকরী হারানোর মত কোনো অপরাধ আমি করিনি ভাই। আপনারা সাংবাদিক আপনাদের লেখনিতে অনেক কিছু হয়। দয়া করে সত্যটা উপস্থাপন করে আমাকে বাঁচান।
তবে আমঝুপির কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত করা খুবই প্রয়োজন। যেহেতু এখানে একজন মানুষের জীবন জীবীকা জড়িত। সে হিসেবে তদন্ত যাতে কোনো পক্ষের সমর্থনে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।