ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা

বাইসাইকেল চালকের মৃত্যু, দুই যুবক জখম

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় শামসুল ইসলাম (৫০) নামের এক বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ও দুই যুবক জখম হয়ছেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের আলুকদিয়া বাজারে বাসের ধাক্কায় শামসুল ইসলামের মৃত্যু হয়। একই দিন বিকেল পাঁচটায় জীবননগরের সন্তোষপুরে মোটরসাইকেল ও আলমসাধুর সংঘর্ষে আহত হন রাসেল হোসেন (২৫) ও জিহাদ (১৮) নামের দুই যুবক। নিহত শামসুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের মৃত মিসকার মল্লিকের ছেলে। আহত রাসেল হোসনে দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে ও জিহাদ একই এলাকার আজানুর ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে শামসুল ইসলাম বাইসাইকেলযোগে পীরপুর গ্রামের সড়ক থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে উঠছিলেন। এসময় মেহেরপুর থেকে ছেড়ে আসা চুয়াডাঙ্গাগামী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। তিনি সড়কের ওপর পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলুকদিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল জব্বার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে শামসুল ইসলাম নিজের পানবরজ থেকে পান ভেঙে বাইসাইকেলে করে বিক্রির জন্য চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন। পথের মধ্যে দূরপাল্লার গণপরিবহন চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের ধাক্কায় তিনি নিহত হয়েছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘ওই ব্যক্তি মাথা, পিঠ ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।’ চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেকেন্দার আলী জানান, ‘নিহত শামসুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ও তাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে, আহত রাসেল ও জিহাদের মোটরসাইকলে দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে দর্শনার দিকে যাচ্ছিল তারা। সন্তোষপুর-শিয়ালমারী মাঝামাঝি কালভার্ট পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থেকে আসা একটি আলমসাধুর সঙ্গে ধাক্কা মারে। এতে রাসেল ও জিহাদ দুজনেই গুরুতর জখম হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আলমসাধুটির চালক কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটারসাইকেলটি তাকে ধাক্কা দেয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জুবায়দা জামাল জলা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই যুবককে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে জাহিদের পায়ের জখম গুরুতর। আপাতত অবজারভেশনে থাকবে, অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হতে পারে।

অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। ডিঙ্গেদহে অপর একটি লাটা হাম্বারের পিছনের এক্সেল ভেঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা দুইটার দিকে সরোজগঞ্জের যুগিরহুদায় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে একটি পাখিভ্যানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকটি খাদে উল্টে যায়। কেউ হতাহত না হলেও ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। ট্রাকটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-১৯৩।

স্থানীয়রা জানান, ঝিনাইদহ থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাওয়ার সময় যুগিরহুদায় পৌঁছালে একটি পাখিভ্যানকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকটি খাদে পড়ে যায়। পরে কোনো ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি না হওয়ায় ট্রাকের মালিক ঝিনাইদহের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শাহাজান আলী ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করে। তবে সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সড়কে চলাচল করতে আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে।

এছাড়া, গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডিঙ্গেদহ বাজারে বাঁশের খড়ি ভর্তি লাটাহাম্বারের পিছনের এক্সেল ভেঙ্গে উল্টে যায়। এসময় চালক বা পথচারী কেউ হতাহত হয়নি। সরোজগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই অরিদুল ইসলাম জানান, সরোজগঞ্জের যুগিরহুদা গ্রামের একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়েছে এবং সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডিঙ্গেদহ বাজারে লাটা হাম্বারের পিছনের এক্সেল দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। তবে এসব দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত বা অভিযোগ হয়নি।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা

বাইসাইকেল চালকের মৃত্যু, দুই যুবক জখম

আপলোড টাইম : ০৯:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় শামসুল ইসলাম (৫০) নামের এক বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ও দুই যুবক জখম হয়ছেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের আলুকদিয়া বাজারে বাসের ধাক্কায় শামসুল ইসলামের মৃত্যু হয়। একই দিন বিকেল পাঁচটায় জীবননগরের সন্তোষপুরে মোটরসাইকেল ও আলমসাধুর সংঘর্ষে আহত হন রাসেল হোসেন (২৫) ও জিহাদ (১৮) নামের দুই যুবক। নিহত শামসুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের মৃত মিসকার মল্লিকের ছেলে। আহত রাসেল হোসনে দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে ও জিহাদ একই এলাকার আজানুর ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে শামসুল ইসলাম বাইসাইকেলযোগে পীরপুর গ্রামের সড়ক থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে উঠছিলেন। এসময় মেহেরপুর থেকে ছেড়ে আসা চুয়াডাঙ্গাগামী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। তিনি সড়কের ওপর পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলুকদিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল জব্বার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে শামসুল ইসলাম নিজের পানবরজ থেকে পান ভেঙে বাইসাইকেলে করে বিক্রির জন্য চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন। পথের মধ্যে দূরপাল্লার গণপরিবহন চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের ধাক্কায় তিনি নিহত হয়েছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘ওই ব্যক্তি মাথা, পিঠ ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।’ চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেকেন্দার আলী জানান, ‘নিহত শামসুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ও তাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে, আহত রাসেল ও জিহাদের মোটরসাইকলে দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে দর্শনার দিকে যাচ্ছিল তারা। সন্তোষপুর-শিয়ালমারী মাঝামাঝি কালভার্ট পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থেকে আসা একটি আলমসাধুর সঙ্গে ধাক্কা মারে। এতে রাসেল ও জিহাদ দুজনেই গুরুতর জখম হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আলমসাধুটির চালক কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটারসাইকেলটি তাকে ধাক্কা দেয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জুবায়দা জামাল জলা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই যুবককে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে জাহিদের পায়ের জখম গুরুতর। আপাতত অবজারভেশনে থাকবে, অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হতে পারে।

অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। ডিঙ্গেদহে অপর একটি লাটা হাম্বারের পিছনের এক্সেল ভেঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা দুইটার দিকে সরোজগঞ্জের যুগিরহুদায় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে একটি পাখিভ্যানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকটি খাদে উল্টে যায়। কেউ হতাহত না হলেও ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। ট্রাকটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-১৯৩।

স্থানীয়রা জানান, ঝিনাইদহ থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাওয়ার সময় যুগিরহুদায় পৌঁছালে একটি পাখিভ্যানকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকটি খাদে পড়ে যায়। পরে কোনো ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি না হওয়ায় ট্রাকের মালিক ঝিনাইদহের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শাহাজান আলী ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করে। তবে সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সড়কে চলাচল করতে আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে।

এছাড়া, গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডিঙ্গেদহ বাজারে বাঁশের খড়ি ভর্তি লাটাহাম্বারের পিছনের এক্সেল ভেঙ্গে উল্টে যায়। এসময় চালক বা পথচারী কেউ হতাহত হয়নি। সরোজগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই অরিদুল ইসলাম জানান, সরোজগঞ্জের যুগিরহুদা গ্রামের একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়েছে এবং সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডিঙ্গেদহ বাজারে লাটা হাম্বারের পিছনের এক্সেল দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। তবে এসব দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত বা অভিযোগ হয়নি।