ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেই দিতেন চিকিৎসা, নিবন্ধন না থাকায় বন্ধ করলো জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৭:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গার উপজেলার ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড স্পেলাইজড হসপিটালে অভিযান চালিয়ে নিবন্ধন না থাকায় ক্লিনিক ও অপারেশন থিয়েটার বিভাগ বন্ধ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আজ শনিবার বেলা ২টায় এই অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আওলিয়ার রহমান। তবে ওই ক্লিনিকটির ডায়গনস্টিক কার্যক্রমের কাগজপত্র ঠিক থাকায় তা চালু রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা শহরের ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড স্পেলাইজড হসপিটালটিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে। ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বেসরকারি হাসপাতালটির নিবন্ধন পাওয়া যায় না। নিবন্ধন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই বেসরকারি হাসপাতালটিতে রোগী দেখতেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ নিজেই। পরিচালনার বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অস্বীকার করলেও অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য কর্তা নিজেই অবৈধভাবে বেসরকারি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমি এখানে বসতাম। এর বাইরে কিছু না। তাছাড়া, হাসপাতালটির নিবন্ধনের জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবেদন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করে কয়েকদিনের মধ্যে কাগজপত্র হাতে পেয়ে যাবো।

চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ডায়গনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন আছে। কিন্তু সেখানে ক্লিনিক বা অপারেশন থিয়েটারের নিবন্ধন না থাকলেও সে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। অভিযানে এর সত্যতা পাওয়া যায় এবং ক্লিনিক ও অপারেশন থিয়েটার বিভাগ বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ক্লিনিকের নিবন্ধন পেলে তা চালু করতে পারবে। এছাড়া বর্তমানে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্লিনিকটির পরিচালকদের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা ক্লিনিকের নামে নথিবদ্ধ করি। সেটি আবেদনের প্রক্রিয়াধীন ক্লিনিক। পরিবেশ বেশ ভালো ছিল। ক্লিনিকের পরিচালকদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমডাঙ্গায় উপজেলার ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড স্পেলাইজড হসপিটালের মালিক সালেহা পারভীন। তিনি হাসপাতালটির জমিরও মালিক। মালেহা পারভীন সম্পর্কে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদের আপন বোন। মালেহা পারভীন ও ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ আলমডাঙ্গা উপজেলার কাটাভাঙ্গা গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে-মেয়ে। আলী আহমদই ওই হাসপাতালটিতে অবস্থিত ডাগানস্টিক সেন্টারটির মালিক। তবে ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ তাঁদের সম্পর্ক জানাননি। তিনি কৌশলে বলেন, আপনি বার কেন আমাদের সম্পর্ক জিজ্ঞাসা করছেন। মালেহা পারভীন এই জমির মালিক, এই ক্লিনিকের মালিক। তিনি একজন ভদ্র মহিলা। আর আলী আহমেদ ডাগানস্টিক সেন্টারের মালিক।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেই দিতেন চিকিৎসা, নিবন্ধন না থাকায় বন্ধ করলো জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

আপলোড টাইম : ০৭:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সমীকরণ প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গার উপজেলার ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড স্পেলাইজড হসপিটালে অভিযান চালিয়ে নিবন্ধন না থাকায় ক্লিনিক ও অপারেশন থিয়েটার বিভাগ বন্ধ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আজ শনিবার বেলা ২টায় এই অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আওলিয়ার রহমান। তবে ওই ক্লিনিকটির ডায়গনস্টিক কার্যক্রমের কাগজপত্র ঠিক থাকায় তা চালু রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা শহরের ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড স্পেলাইজড হসপিটালটিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে। ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বেসরকারি হাসপাতালটির নিবন্ধন পাওয়া যায় না। নিবন্ধন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই বেসরকারি হাসপাতালটিতে রোগী দেখতেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ নিজেই। পরিচালনার বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অস্বীকার করলেও অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য কর্তা নিজেই অবৈধভাবে বেসরকারি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমি এখানে বসতাম। এর বাইরে কিছু না। তাছাড়া, হাসপাতালটির নিবন্ধনের জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবেদন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করে কয়েকদিনের মধ্যে কাগজপত্র হাতে পেয়ে যাবো।

চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ডায়গনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন আছে। কিন্তু সেখানে ক্লিনিক বা অপারেশন থিয়েটারের নিবন্ধন না থাকলেও সে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। অভিযানে এর সত্যতা পাওয়া যায় এবং ক্লিনিক ও অপারেশন থিয়েটার বিভাগ বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ক্লিনিকের নিবন্ধন পেলে তা চালু করতে পারবে। এছাড়া বর্তমানে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্লিনিকটির পরিচালকদের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা ক্লিনিকের নামে নথিবদ্ধ করি। সেটি আবেদনের প্রক্রিয়াধীন ক্লিনিক। পরিবেশ বেশ ভালো ছিল। ক্লিনিকের পরিচালকদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমডাঙ্গায় উপজেলার ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড স্পেলাইজড হসপিটালের মালিক সালেহা পারভীন। তিনি হাসপাতালটির জমিরও মালিক। মালেহা পারভীন সম্পর্কে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদের আপন বোন। মালেহা পারভীন ও ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ আলমডাঙ্গা উপজেলার কাটাভাঙ্গা গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে-মেয়ে। আলী আহমদই ওই হাসপাতালটিতে অবস্থিত ডাগানস্টিক সেন্টারটির মালিক। তবে ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ তাঁদের সম্পর্ক জানাননি। তিনি কৌশলে বলেন, আপনি বার কেন আমাদের সম্পর্ক জিজ্ঞাসা করছেন। মালেহা পারভীন এই জমির মালিক, এই ক্লিনিকের মালিক। তিনি একজন ভদ্র মহিলা। আর আলী আহমেদ ডাগানস্টিক সেন্টারের মালিক।