ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মাঘের শেষে জেঁকে বসেছে শীত, চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা আবারও নামল ১০ ডিগ্রির নিচে

বিপাকে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ, বাড়ছে শীতজনিত রোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা আবার ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে। দুই দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এই মৌসুমে বেশ কয়েকবার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসে। শুক্রবার সকাল ৯টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৬৭ শতাংশ। আর ভোর ৬টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এদিকে, শীতজনিত কারণে রোটাভাইরাস ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বুধবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনও প্রায় একই তাপমাত্রা ছিল। তবে শুক্রবার তাপমাত্রা কমে আবারও ৮ ডিগ্রিতে চলে আসে।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা আবারও কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের কষ্ট বেড়েছে। শীতে কাজ পাননি অনেকে। দিনমজুর জমাত আলী বলেন, ‘শীত একটু বেশি থাকলেই কাজ পাওয়া যায় না। আজও কাজ পাইনি। কাজের জন্য এসে বড় বাজারে দাঁড়িয়ে থেকে চলে যেতে হচ্ছে।’
ভ্যানচালক নিয়ামত আলী বলেন, ‘আজ শুক্রবার বড় বাজার হাটে কাঁচামালের ভাড়া পাওয়া যায়। আজও এসেছি। তবে বাজারে লোক না থাকায় ভাড়া হয়নি খুব একটা। বেশি শীত পড়লেই বা কী, আমাদের তো উপায় নেই, কাজ করতেই হবে। তবে কাজ না থাকলে বেশি কষ্ট হয়।’ জেলা শহরের কোর্টপাড়ার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী সেলিমুল হাবিব সেলিম বলেন, ‘ভাবলাম এবার তাপমাত্রা বাড়বে। কিন্তু আজ তো আবার নেমে গেছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, শীত বাড়ায় হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শীতজনিত রোটাভাইরাস এবং নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। প্রতিদিন শীতজনিত কারণে ৭০০-৮০০ রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রায়ও ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগামীকালও একই রকম আবহাওয়া থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, আগামী রোববার থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। আগামী ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, চুয়াডাঙ্গায় শীত একটু বেশি। শীতের শুরু থেকেই সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া শীতবস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে এসব দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে পাওয়া সাহায্যও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

মাঘের শেষে জেঁকে বসেছে শীত, চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা আবারও নামল ১০ ডিগ্রির নিচে

বিপাকে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ, বাড়ছে শীতজনিত রোগ

আপলোড টাইম : ১২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা আবার ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে। দুই দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এই মৌসুমে বেশ কয়েকবার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসে। শুক্রবার সকাল ৯টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৬৭ শতাংশ। আর ভোর ৬টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এদিকে, শীতজনিত কারণে রোটাভাইরাস ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বুধবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনও প্রায় একই তাপমাত্রা ছিল। তবে শুক্রবার তাপমাত্রা কমে আবারও ৮ ডিগ্রিতে চলে আসে।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা আবারও কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের কষ্ট বেড়েছে। শীতে কাজ পাননি অনেকে। দিনমজুর জমাত আলী বলেন, ‘শীত একটু বেশি থাকলেই কাজ পাওয়া যায় না। আজও কাজ পাইনি। কাজের জন্য এসে বড় বাজারে দাঁড়িয়ে থেকে চলে যেতে হচ্ছে।’
ভ্যানচালক নিয়ামত আলী বলেন, ‘আজ শুক্রবার বড় বাজার হাটে কাঁচামালের ভাড়া পাওয়া যায়। আজও এসেছি। তবে বাজারে লোক না থাকায় ভাড়া হয়নি খুব একটা। বেশি শীত পড়লেই বা কী, আমাদের তো উপায় নেই, কাজ করতেই হবে। তবে কাজ না থাকলে বেশি কষ্ট হয়।’ জেলা শহরের কোর্টপাড়ার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী সেলিমুল হাবিব সেলিম বলেন, ‘ভাবলাম এবার তাপমাত্রা বাড়বে। কিন্তু আজ তো আবার নেমে গেছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, শীত বাড়ায় হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শীতজনিত রোটাভাইরাস এবং নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। প্রতিদিন শীতজনিত কারণে ৭০০-৮০০ রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রায়ও ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগামীকালও একই রকম আবহাওয়া থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, আগামী রোববার থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। আগামী ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, চুয়াডাঙ্গায় শীত একটু বেশি। শীতের শুরু থেকেই সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া শীতবস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে এসব দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে পাওয়া সাহায্যও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।