ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফল চাষে ভাগ্য খুলেছে সজলের

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

আওয়াল হোসেন, দর্শনা:
ফল চাষ করে ভাগ্যের চাকা খুলে গেছে সজলের। দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলের সমাহার এখন তার বাগানে। জানা গেছে, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে সজল ২০০৯ সালে ৩ বিঘা জমিতে বল সুন্দরী কুল লাগান। পরে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান লাগিয়ে ফল চাষ শুরু করেন সজল। বর্তমানে বাগানে বিদেশি ফল রাম বুটান, অ্যাবুকাটু, অস্ট্রেলিয়ার লাল কাঁঠাল, সৌদি খেজুর, ড্রাগন, জাম, গোলাপ জাম, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা লেবু, পেঁপে, স্টোবেরি, সবেদা, দুই প্রজাতির আম, পাঁচ প্রজাতির কুল, আঙুর, জামরুলসহ নানা ফলের চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।

সজল জানান, তার বাগানে দেশি-বিদেশি ৯০০ প্রজাতির ফলের চারা রয়েছে। তার নিজের ১৮ বিঘা এবং ১০-১৫ বছরের জন্য লিজ (বর্গা) নিয়ে ১২০ বিঘা জমিতে ফলের চাষ করছেন। আগামী চৈত্র মাসে আরও ২০ বিঘা লিজের জমিতে ২৭ রকমের ফলের চাষ করবেন। তার বাগানে বর্তমানে নিয়মিত ৩২ জন লেবার মাসে ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। এছাড়া ১০ জন প্রতিদিন ৪০০ টাকা দিনমুজরি নিয়ে কাজ করেন।

সজল বলেন, ‘১২-১৫ লাখ টাকা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ অস্ট্রেলিয়া যেতে পারছেন না। আমাকে অষ্ট্রেলিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী ড. সৌরব ফল চাষের জন্য নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি তাকে না করে দিই।’ তিনি জানান, তার বাগানে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি মহাপরিচালক হামিদুর রহমান, কৃষিবিদ মেহেদী মাসুদ, আব্দুর রহিম, কৃষিবিষয়ক টিভি সাংবাদিক সায়ক আব্দুর রহমান, ফল গবেষক বাবুল চন্দ্র সাহা, লেবু বিজ্ঞানী রেজাউল করিম, সচিব পবন, উপ-সচিব আজাদ জাহান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের লোকজন, এসপি ও ডিসি এসেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় দলের দুজন ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা আসবে বলে জানিয়েছেন। বিদেশিদের মধ্যে আমেরিকার কৃষি বিজ্ঞানী ড. জন একজন।

সজল বলেন, স্ত্রী, দুই মেয়ে, মা-বাবা, এক ভাই ও এক বোনসহ ৭ জনকে নিয়ে তার সুখেই দিন কাটছে। এখন তার স্বপ্ন বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির ফল উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ফল চাষে ভাগ্য খুলেছে সজলের

আপলোড টাইম : ১০:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আওয়াল হোসেন, দর্শনা:
ফল চাষ করে ভাগ্যের চাকা খুলে গেছে সজলের। দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলের সমাহার এখন তার বাগানে। জানা গেছে, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে সজল ২০০৯ সালে ৩ বিঘা জমিতে বল সুন্দরী কুল লাগান। পরে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান লাগিয়ে ফল চাষ শুরু করেন সজল। বর্তমানে বাগানে বিদেশি ফল রাম বুটান, অ্যাবুকাটু, অস্ট্রেলিয়ার লাল কাঁঠাল, সৌদি খেজুর, ড্রাগন, জাম, গোলাপ জাম, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা লেবু, পেঁপে, স্টোবেরি, সবেদা, দুই প্রজাতির আম, পাঁচ প্রজাতির কুল, আঙুর, জামরুলসহ নানা ফলের চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।

সজল জানান, তার বাগানে দেশি-বিদেশি ৯০০ প্রজাতির ফলের চারা রয়েছে। তার নিজের ১৮ বিঘা এবং ১০-১৫ বছরের জন্য লিজ (বর্গা) নিয়ে ১২০ বিঘা জমিতে ফলের চাষ করছেন। আগামী চৈত্র মাসে আরও ২০ বিঘা লিজের জমিতে ২৭ রকমের ফলের চাষ করবেন। তার বাগানে বর্তমানে নিয়মিত ৩২ জন লেবার মাসে ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। এছাড়া ১০ জন প্রতিদিন ৪০০ টাকা দিনমুজরি নিয়ে কাজ করেন।

সজল বলেন, ‘১২-১৫ লাখ টাকা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ অস্ট্রেলিয়া যেতে পারছেন না। আমাকে অষ্ট্রেলিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী ড. সৌরব ফল চাষের জন্য নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি তাকে না করে দিই।’ তিনি জানান, তার বাগানে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি মহাপরিচালক হামিদুর রহমান, কৃষিবিদ মেহেদী মাসুদ, আব্দুর রহিম, কৃষিবিষয়ক টিভি সাংবাদিক সায়ক আব্দুর রহমান, ফল গবেষক বাবুল চন্দ্র সাহা, লেবু বিজ্ঞানী রেজাউল করিম, সচিব পবন, উপ-সচিব আজাদ জাহান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের লোকজন, এসপি ও ডিসি এসেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় দলের দুজন ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা আসবে বলে জানিয়েছেন। বিদেশিদের মধ্যে আমেরিকার কৃষি বিজ্ঞানী ড. জন একজন।

সজল বলেন, স্ত্রী, দুই মেয়ে, মা-বাবা, এক ভাই ও এক বোনসহ ৭ জনকে নিয়ে তার সুখেই দিন কাটছে। এখন তার স্বপ্ন বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির ফল উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা।