চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আলমডাঙ্গায় ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

ট্রাক্টর ভাঙচুরের অভিযোগ, চালকদের ইউএনও অফিস ঘেরাও

নিউজ রুমঃ
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!


সমীকরণ প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ট্রাক্টর ভাঙচুরের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে ট্রাক্টর চালকেরা। গতকাল বুধবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার জনা বিশেক ট্রাক্টর চালক একজোট হয়ে ট্রাক্টর নিয়ে ইউএনও অফিস ঘেরাও করে।

এসময় তাঁরা ট্রাক্টর ভাঙচুরের অভিযোগ এনে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে ইউএনও’র সাথে সাক্ষাত শেষে তাঁরা চলে যান। এর আগে গত সোমবার (২৯ জানুয়ারি) আলমডাঙ্গা উপজেলার কেদারনগর মাঠে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ। এসময় তিনি মোবাইল কোর্ট বসিয়ে দুই ট্রাক্টর চালককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ট্রাক্টর চালকেরা জানান, গত সোমবার আলমডাঙ্গা উপজেলার কেদারনগরে তাঁরা মাটি বহন করছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর পেয়ে তাঁরা ট্রাক্টর ফেলে পালিয়ে যান। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কয়েকটি ট্রাক্টরের হেডলাইটসহ সামনের অংশ ভাঙচুর করেন উপজেলা ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সেলিম রেজা।

ইউএনও অফিসের সামনে অবস্থান নেয়া ট্রাক্টর চালক শাহাবুল হক বলেন, ‘আমরা সাধারণ শ্রমিক, ট্রাক্টরে মাটি টেনে খাই। আমরা ওই দিন কাজে গেলে এসিল্যান্ড ম্যাডাম ফোর্স নিয়ে অতর্কিতভাবে তাড়া করে। আমরা জানের ভয়ে পালিয়ে গেছি। কিন্তু এর মাঝখানে ম্যাডামের নির্দেশে ওনার সাথে আসা সেলিম নামের এক ছেলে গাড়িগুলো ভাঙচুর করে। ওখানে চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এস্কেভেটর) ছিল।’

তিনি আরও জানান, ‘আমারা এখানে এসেছি আমাদের দাবি জানাতে। আমাদের যে গাড়িগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে, আমরা কর্ম করে খাই। তারা যদি গাড়িগুলো বন্ধ করে দেয়, তাহলে তারা আমাদের একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিক। আমরা সেটা করে খাবো। আমরা আর গাড়ি চালাবো না।’

আরেক ট্রাক্টর চালক রনজু মিয়া বলেন, ‘ভোটের আগের ঘটনা, আমি যাদবপুরে মাঠে মাটি কাটছিলাম। যার জমি তার নিজের জন্যই মাটি কাটছিলাম। এক পুকুর থেকে কেটে আরেক পুকুরে মাটি দিচ্ছিলাম। এরপর এসিল্যান্ড ম্যাডাম যায়। ওনাকে দেখে লোকজন সবাই দৌঁড় মারে। ওনি একজনের মাধ্যম দিয়ে আমাকে ফোন দেয়। আমি বললাম ম্যাডাম আমি তো কোনো অবৈধ কাজ করছি না। মাটি ওখান থেকে কেটে ওখানেই দিচ্ছি। ১০-১৫ মিনিট পরে শুনতে পোলাম ওনি নাকি সব গাড়ি ভাঙচুর করছে। মাঠে চাষ করছে, এমন গাড়িও ভাঙচুর করেছে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গাড়িটা তো কিস্তির, ভর্তুকির। ১৮ লাখ টাকা গাড়িটার দাম। ৭ লাখ টাকা জমা দিয়ে গাড়িটা বের করেিেছ। সরকার আমাকে সুযোগটা দিয়েছে। এখন যদি গাড়িটা ভাঙচুর করে, তাহলে টাকা পরিশোধ করব কীভাবে।’

আলমডাঙ্গা ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সেলিম রেজা বলেন, ‘এটা ভাঙচুর নয়, শুধু ট্রাক্টরের চাকার পাম্প ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ম্যাডাম আমাকে পাম্প ছেড়ে দিতে বলল, আমি পাম্প ছেড়ে দিলাম। কোনো ভাঙচুর করা হয়নি।’

আলমডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট পেশকার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘গত সোমবার অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুজনকে ১৫ হাজার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে সেখানে কোনো গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে কি না, আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস বলেন, ‘ওনারা আসছিলেন, আমার সাথে কথা বলার জন্য। অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ওইখানে ওনাদের গাড়িগুলো আটকিয়ে জরিমানা করা হয়। এসব বিষয়ে ওনারা কথা বলতে আসছিলেন।’

গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ তো আসলে যে কেউই করতেই পারে। আমি যখন একটি গাড়ি আটকাবো, ড্রাইভার যখন গাড়ি ফেলে চলে যাবে, মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট ৩-৪ ঘণ্টা ওয়েট করবে। তখন ড্রাইভারকে যদি আমার আনতে হয়, স্বাভাবিকভাবে আমাকে একটু ভয় দেখাতে হবে তাকে। ভয় দেখানোর জন্য হয়ত একট-দুইটা লাইট ভাঙা হয়েছে, এটা এমন আহামরি কিছু না, যে অভিযোগ করার মতো। ওনারা আসছিলেন, তারা গরিব মানুষ, তাদের যাতে জরিমানা করা না হয়। তারা তো সরাসরি মাটি কাটার সাথে জড়িত থাকে না। আমার পক্ষ থেকে তাদের যা বলে দেয়ার, তা বলে দেয়া হয়েছে।’

ট্রাক্টর চালকদের সাথে আলোচনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বলেছি, যখন মোবাইল কোর্ট আসবে, তখন তাদের গাড়ির সাথে থাকতে হবে। গাড়ি ফেলে রেখে চলে গেলে, সেক্ষেত্রে আমরা গাড়ি সিজ করে নিয়ে আসব, বা আইনগত যে ব্যবস্থা আছে, সেটা নিতে হবে। আইন তো মানবিক দিক বিবেচনা করে না। আমরা তাদের সুযোগ দিয়েছি এটাই, গাড়ি আটকানো হলে, আপনার গাড়ির সাথেই থাকবেন। আপনাদের বক্তব্য বলবেন, সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।