ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কার্পাসডাঙ্গায় কাবিখা প্রকল্পে কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ

চেয়ারম্যানসহ ৭ মেম্বারকে দুদকে তলব

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১১:০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কাবিখা প্রকল্পের কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের তদন্ত শেষে ইউনিয়ন পরিষদের তিন ইউপি সদস্যসহ পরিষদের সেক্রেটারিকে চিঠি দিয়ে দুদক কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে। দুদক কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজিরা দিতে কার্পাসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযুক্ত মেম্বরগণ গতকাল শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দশ্য রওনা হয়েছেন। আজ রোববার সকালে তারা দুদক কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রকল্পের কাজের বিষয়ে জবাব দেবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাবিখা প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্তে আসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম। পরে সেই দিনই এন্টিকরাপশন কমিশন বাংলাদেশ-এর ফেসবুক পেজে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কাজ না করেই কাবিখা প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন পূর্বক আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে দুদক, (সজেকা) ঝিনাইদহ কার্যালয় হতে একই দিনে আরও একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নকৃত বিভিন্ন কাবিখা প্রকল্প পরিদর্শন করে এনফোর্সমেন্ট টিম। পরিদর্শনকালে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন পূর্বক আত্মসাতের ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। দুর্নীতি দমন কমিশনার (দুদক) তদন্ত করার পরে নিজেদের বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে মাসখানেক পর সেই সব প্রকল্পে কাজ করে তা শেষ করে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিরা।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেগুন বাগিচা ঢাকা কার্যালয় থেকে ডাকযোগে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাস, ইউপির সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর দেলোয়ারা খাতুন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ ভগু, ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা সাজিবার রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আ. রাজ্জাক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আ. সালাম ও ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি শফিকুলের নামে চিঠি আসে। চিঠিতে তাদেরকে আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার স্বশরীরে দুদক কার্যালয়ে হাজির হবার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় অনেকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাস চেয়ারম্যান হবার পর থেকেই ধারাকে সরা জ্ঞান মনে করে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিষদে আসা সেবা গ্রহীতাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেই সাথে পরিষদে আসা জনসাধারণকে সেবা না দিয়ে তার রুমে দরজা মেরে বিভিন্ন লোক নিয়ে খোশগল্পে মত্ত থাকেন।এবং কেউ স্বাক্ষর করতে তার কাছে যেতে গেলে তিনি চৌকিদার দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিয়ে বলেন দেরি হবে পরে আসতে।

এই বিষয়ে জানতে সাজিবার মেম্বর, নুর মোহাম্মদ ভগু মেম্বার, আনেহার মেম্বার, দেলোয়ারা, সালাম, রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

কার্পাসডাঙ্গায় কাবিখা প্রকল্পে কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ

চেয়ারম্যানসহ ৭ মেম্বারকে দুদকে তলব

আপলোড টাইম : ১১:০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কাবিখা প্রকল্পের কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের তদন্ত শেষে ইউনিয়ন পরিষদের তিন ইউপি সদস্যসহ পরিষদের সেক্রেটারিকে চিঠি দিয়ে দুদক কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে। দুদক কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজিরা দিতে কার্পাসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযুক্ত মেম্বরগণ গতকাল শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দশ্য রওনা হয়েছেন। আজ রোববার সকালে তারা দুদক কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রকল্পের কাজের বিষয়ে জবাব দেবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাবিখা প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্তে আসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম। পরে সেই দিনই এন্টিকরাপশন কমিশন বাংলাদেশ-এর ফেসবুক পেজে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কাজ না করেই কাবিখা প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন পূর্বক আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে দুদক, (সজেকা) ঝিনাইদহ কার্যালয় হতে একই দিনে আরও একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নকৃত বিভিন্ন কাবিখা প্রকল্প পরিদর্শন করে এনফোর্সমেন্ট টিম। পরিদর্শনকালে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন পূর্বক আত্মসাতের ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। দুর্নীতি দমন কমিশনার (দুদক) তদন্ত করার পরে নিজেদের বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে মাসখানেক পর সেই সব প্রকল্পে কাজ করে তা শেষ করে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিরা।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেগুন বাগিচা ঢাকা কার্যালয় থেকে ডাকযোগে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাস, ইউপির সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর দেলোয়ারা খাতুন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ ভগু, ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা সাজিবার রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আ. রাজ্জাক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আ. সালাম ও ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি শফিকুলের নামে চিঠি আসে। চিঠিতে তাদেরকে আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার স্বশরীরে দুদক কার্যালয়ে হাজির হবার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় অনেকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাস চেয়ারম্যান হবার পর থেকেই ধারাকে সরা জ্ঞান মনে করে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিষদে আসা সেবা গ্রহীতাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেই সাথে পরিষদে আসা জনসাধারণকে সেবা না দিয়ে তার রুমে দরজা মেরে বিভিন্ন লোক নিয়ে খোশগল্পে মত্ত থাকেন।এবং কেউ স্বাক্ষর করতে তার কাছে যেতে গেলে তিনি চৌকিদার দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিয়ে বলেন দেরি হবে পরে আসতে।

এই বিষয়ে জানতে সাজিবার মেম্বর, নুর মোহাম্মদ ভগু মেম্বার, আনেহার মেম্বার, দেলোয়ারা, সালাম, রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চেয়ারম্যান আ. করিম বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।