ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ভূমিষ্ঠের পর প্রসূতি ও স্বজনদের সন্তান ফেলে যাওয়ার ঘটনা

৩৬ ঘণ্টা পর শিশু পুষ্প ফিরে পেল তার মায়ের কোল

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৬:২১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ভূমিষ্টের পর হাসপাতালে রেখে যাওয়া নবজাতক পুষ্পকে তার পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন শিশু পুষ্পকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করেন। ভূমিষ্টের এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে তার মায়ের থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার পর নিজ সন্তানকে ফিরে পেয়ে অঝরে আনন্দ-অশ্রু ঝরান পাপিয়া। এদিকে, মৃত সন্তান জন্মের খবরের পর সেই সন্তানকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে চোখের আড়াল করছেন না পুষ্পের পিতা আলমগীর হোসেন।
আলমগীর হোসেন জানান, ২০ দিন পূর্বে তার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী পাপিয়া মায়ের বাড়িতে যায়। সেখানেই তার সন্তান ভূমিষ্ট হবে। বৃহস্পতিবার পাপিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার শাশুড়ীর মাধ্যমে জানতে পারেন পাপিয়ার গর্ভেই তার কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সন্তানের মৃতদেহ দেওয়া হয়নি।
আলমগীর আরও জানান, শুক্রবার বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদে জানতে পারেন সদর হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্টের পর সেই শিশু অন্যেকে দিয়ে মা ও স্বজনরা পালিয়েছে। এরপর তিনি তার স্ত্রী ও শাশুড়ীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা মৃত সন্তানের সাজানো গল্পের কথা স্বীকার করে। পরে সকালেই মেয়েকে ফিরে পেতে স্ত্রী পাপিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাপিয়াকে গাইনি বিভাগে ভর্তি রাখেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘জরুরি বিভাগে ওই প্রসূতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একটি কন্যাশিশু জন্ম দেন। কিন্তু শিশুটিকে হাসপাতালের অন্য এক রোগীর স্বজনের কাছে দিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান। আমরা হাসপাতালেই শিশুটিকে যত্নের সঙ্গে দেখভাল করি। এদিকে, বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে শিশুটির পিতা আলমগীর ছবি ও ভিডিওতে তার স্ত্রী ও শাশুড়ীকে চিনতে পারেন। শিশুটি তার সন্তান জানতে পেরেই সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে ছুটে আসেন। আমরাও নিশ্চিত হয়েছি পাপিয়া ও আলমগীর ওই শিশুটির প্রকৃত পিতা-মাতা। তারা সন্তানকে ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের কাছেও গিয়েছিলেন। পরে ইউএনও মহোদয় হাসপাতালে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জেনে শিশুটিকে তার পিতা-মাতাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাত নয়টার দিকে ইউএনও মহোদয়সহ সমাজসেবা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিশু পুষ্পকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফামেতা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘এটি অত্যান্ত আনন্দের বিষয় যে আমরা নবজাতকটিকে তার প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকৃত বাবা-মাকে পাওয়া যাওয়ায় নবজাতক কন্যা শিশুটিরকে দত্তক নেওয়া বা দেওয়ার বিষয়টি আর থাকছে না। অন্য দুই বোনের সঙ্গে পুষ্প তার বাবা-মায়ের স্নেহে বড় হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুই কন্যার পর আবারও কন্যাশিশু জন্ম নেওয়ায় হাসপাতালেই আরেক রোগীর স্বজনের কাছে শিশু পুষ্পকে রেখে যান মা ও স্বজনরা। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিশুটিকে হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের তত্ত্বাবধানেই রাখা হয়।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

চুয়াডাঙ্গায় ভূমিষ্ঠের পর প্রসূতি ও স্বজনদের সন্তান ফেলে যাওয়ার ঘটনা

৩৬ ঘণ্টা পর শিশু পুষ্প ফিরে পেল তার মায়ের কোল

আপলোড টাইম : ০৬:২১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ভূমিষ্টের পর হাসপাতালে রেখে যাওয়া নবজাতক পুষ্পকে তার পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন শিশু পুষ্পকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করেন। ভূমিষ্টের এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে তার মায়ের থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার পর নিজ সন্তানকে ফিরে পেয়ে অঝরে আনন্দ-অশ্রু ঝরান পাপিয়া। এদিকে, মৃত সন্তান জন্মের খবরের পর সেই সন্তানকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে চোখের আড়াল করছেন না পুষ্পের পিতা আলমগীর হোসেন।
আলমগীর হোসেন জানান, ২০ দিন পূর্বে তার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী পাপিয়া মায়ের বাড়িতে যায়। সেখানেই তার সন্তান ভূমিষ্ট হবে। বৃহস্পতিবার পাপিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার শাশুড়ীর মাধ্যমে জানতে পারেন পাপিয়ার গর্ভেই তার কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সন্তানের মৃতদেহ দেওয়া হয়নি।
আলমগীর আরও জানান, শুক্রবার বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদে জানতে পারেন সদর হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্টের পর সেই শিশু অন্যেকে দিয়ে মা ও স্বজনরা পালিয়েছে। এরপর তিনি তার স্ত্রী ও শাশুড়ীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা মৃত সন্তানের সাজানো গল্পের কথা স্বীকার করে। পরে সকালেই মেয়েকে ফিরে পেতে স্ত্রী পাপিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাপিয়াকে গাইনি বিভাগে ভর্তি রাখেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘জরুরি বিভাগে ওই প্রসূতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একটি কন্যাশিশু জন্ম দেন। কিন্তু শিশুটিকে হাসপাতালের অন্য এক রোগীর স্বজনের কাছে দিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান। আমরা হাসপাতালেই শিশুটিকে যত্নের সঙ্গে দেখভাল করি। এদিকে, বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে শিশুটির পিতা আলমগীর ছবি ও ভিডিওতে তার স্ত্রী ও শাশুড়ীকে চিনতে পারেন। শিশুটি তার সন্তান জানতে পেরেই সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে ছুটে আসেন। আমরাও নিশ্চিত হয়েছি পাপিয়া ও আলমগীর ওই শিশুটির প্রকৃত পিতা-মাতা। তারা সন্তানকে ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের কাছেও গিয়েছিলেন। পরে ইউএনও মহোদয় হাসপাতালে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জেনে শিশুটিকে তার পিতা-মাতাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাত নয়টার দিকে ইউএনও মহোদয়সহ সমাজসেবা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিশু পুষ্পকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফামেতা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘এটি অত্যান্ত আনন্দের বিষয় যে আমরা নবজাতকটিকে তার প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকৃত বাবা-মাকে পাওয়া যাওয়ায় নবজাতক কন্যা শিশুটিরকে দত্তক নেওয়া বা দেওয়ার বিষয়টি আর থাকছে না। অন্য দুই বোনের সঙ্গে পুষ্প তার বাবা-মায়ের স্নেহে বড় হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুই কন্যার পর আবারও কন্যাশিশু জন্ম নেওয়ায় হাসপাতালেই আরেক রোগীর স্বজনের কাছে শিশু পুষ্পকে রেখে যান মা ও স্বজনরা। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিশুটিকে হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের তত্ত্বাবধানেই রাখা হয়।