ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের গুলিতে বিজিবি সদস্য নিহত ; কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৮:৫৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে

ভারত-বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে দাবি করা হয়, গত ১৫ বছরে দু’দেশের বন্ধুত্ব অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। অথচ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী নিরস্ত্র নাগরিক হত্যার শিকার হচ্ছেন। যদিও ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সীমান্তে একজন মানুষও মারা যাবে না। দুর্ভাগ্যক্রমে, সীমান্ত হত্যা একটি বাস্তবতা। প্রশ্ন হলো, নয়াদিল্লি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিলে এমন হত্যাকাণ্ড কি আদৌ ঘটত?

বিএসএফের হাতে বেসামরিক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটছে। উপরন্তু গত সোমবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। গণমাধ্যমের খবর, যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বিজিবির সিপাহি মোহাম্মদ রইসুদ্দীন নিহত হন। ভোর সাড়ে ৫টায় ওই ঘটনা ঘটে। এরপর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে বিজিবি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।

এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার প্রধান কারণ বিএসএফের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিএসএফ আত্মরক্ষার জন্য হত্যা করে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) ‘ট্রিগার হ্যাপি’ নামে একটি প্রতিবেদনে এ ধরনের বেশ কয়েকটি মামলার উল্লেখ করেছে। যাতে বেঁচে যাওয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, বিএসএফ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা না করে বা সতর্ক না করেই নির্বিচারে গুলি চালায়।

মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, অপরাধী হিসেবে সীমান্তে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা হয় নিরস্ত্র থাকেন অথবা তাদের কাছে বড়জোর কাঁচি, লাঠি বা ছুরি থাকে। সুতরাং, বিএসএফের মেরে ফেলার জন্য গুলি চালানোর দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে মানুষের জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করে।

ভালো প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে চলাচলকারীদের সাথে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচরণ করে। ভারত সরকারের এটি নিশ্চিত করা উচিত যে, তার সীমান্তরক্ষী বাহিনী মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছে। বিএসএফ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ নীতিমালা মেনে চলতে প্রকাশ্যে আদেশ দেয়া উচিত।
সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশী নাগরিকদের বেআইনিভাবে হত্যায় ঢাকার উদ্বেগের বিষয়টি সম্ভবত নয়াদিল্লিতে সামান্যই গুরুত্ব পায়। এ কথা বলার কারণ, কোনো বাংলাদেশীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য সম্পর্কে কোনো তথ্য বাংলাদেশকে দেয় না ভারত। ভারত সরকারের অনুমোদন না থাকলে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিএসএফকেও ফৌজদারি কার্যবিধির বাইরে রাখা সম্ভব নয়। বিএসএফ সদস্যদের এমন জবাবদিহির বাইরে থাকাই অবিরাম সীমান্ত হত্যার জন্য দায়ী।

কোনো অপরাধের সন্দেহে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার ন্যায়সঙ্গত নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক অধিকার-বিষয়ক সংস্থাগুলোর উচিত সীমান্ত হত্যা বন্ধে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের জন্য দাবি তোলা। সেখানে এ জাতীয় ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ে অভিযোগ জমা দিতে পারবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেবে উভয় পক্ষ। এর মাধ্যমে সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

বিএসএফের গুলিতে বিজিবি সদস্য নিহত ; কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

আপলোড টাইম : ০৮:৫৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

ভারত-বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে দাবি করা হয়, গত ১৫ বছরে দু’দেশের বন্ধুত্ব অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। অথচ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী নিরস্ত্র নাগরিক হত্যার শিকার হচ্ছেন। যদিও ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সীমান্তে একজন মানুষও মারা যাবে না। দুর্ভাগ্যক্রমে, সীমান্ত হত্যা একটি বাস্তবতা। প্রশ্ন হলো, নয়াদিল্লি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিলে এমন হত্যাকাণ্ড কি আদৌ ঘটত?

বিএসএফের হাতে বেসামরিক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটছে। উপরন্তু গত সোমবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। গণমাধ্যমের খবর, যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বিজিবির সিপাহি মোহাম্মদ রইসুদ্দীন নিহত হন। ভোর সাড়ে ৫টায় ওই ঘটনা ঘটে। এরপর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে বিজিবি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।

এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার প্রধান কারণ বিএসএফের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিএসএফ আত্মরক্ষার জন্য হত্যা করে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) ‘ট্রিগার হ্যাপি’ নামে একটি প্রতিবেদনে এ ধরনের বেশ কয়েকটি মামলার উল্লেখ করেছে। যাতে বেঁচে যাওয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, বিএসএফ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা না করে বা সতর্ক না করেই নির্বিচারে গুলি চালায়।

মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, অপরাধী হিসেবে সীমান্তে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা হয় নিরস্ত্র থাকেন অথবা তাদের কাছে বড়জোর কাঁচি, লাঠি বা ছুরি থাকে। সুতরাং, বিএসএফের মেরে ফেলার জন্য গুলি চালানোর দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে মানুষের জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করে।

ভালো প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে চলাচলকারীদের সাথে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচরণ করে। ভারত সরকারের এটি নিশ্চিত করা উচিত যে, তার সীমান্তরক্ষী বাহিনী মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছে। বিএসএফ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ নীতিমালা মেনে চলতে প্রকাশ্যে আদেশ দেয়া উচিত।
সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশী নাগরিকদের বেআইনিভাবে হত্যায় ঢাকার উদ্বেগের বিষয়টি সম্ভবত নয়াদিল্লিতে সামান্যই গুরুত্ব পায়। এ কথা বলার কারণ, কোনো বাংলাদেশীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য সম্পর্কে কোনো তথ্য বাংলাদেশকে দেয় না ভারত। ভারত সরকারের অনুমোদন না থাকলে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিএসএফকেও ফৌজদারি কার্যবিধির বাইরে রাখা সম্ভব নয়। বিএসএফ সদস্যদের এমন জবাবদিহির বাইরে থাকাই অবিরাম সীমান্ত হত্যার জন্য দায়ী।

কোনো অপরাধের সন্দেহে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার ন্যায়সঙ্গত নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক অধিকার-বিষয়ক সংস্থাগুলোর উচিত সীমান্ত হত্যা বন্ধে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের জন্য দাবি তোলা। সেখানে এ জাতীয় ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ে অভিযোগ জমা দিতে পারবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেবে উভয় পক্ষ। এর মাধ্যমে সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।