ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সেমিনারে অব্যবস্থাপনা

অসন্তোষ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেলেন ডিসি

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:৩৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদক:
জীবননগরে ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে জনসংযোগ সংক্রান্ত’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ সেমিনারে নানা অব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়মে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে জনসংযোগ সংক্রান্ত’ সেমিনার। কিন্তু সেমিনারে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণ ছিল হাতেগোনা দু-একজন। এছাড়া সেমিনার আয়োজনের যে বিধি-বিধান আছে, সেগুলোও যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হয়নি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে উঠে প্রথমেই অনুষ্ঠানের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা। তিনি বলেন, ‘কোনটা সেমিনার, কোনটা ওয়ার্কশপ, কোনটা সিম্পোজিয়াম, কোনটা মিটিং, এগুলোর নির্ধারিত একটি পদ্ধতি আছে। আজকের এই অনুষ্ঠানটি এত অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে যে, আমি অসন্তোষ প্রকাশ করছি। এটি সেমিনারের কোনো পর্যায়েই যথাযথভাবে আয়োজন করা হয়নি। কখন সেমিনার হবে, সেমিনার পরিচালনার ধরণ কেমন হবে, কখন কর্মশালা হবে, তার ধরণ কেমন হবে, সেগুলো নির্ধারিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু পন্থা আছে।

আজকের যে অনুষ্ঠান, অনুষ্ঠানটির মূল যে বিষয়বস্তু বা লক্ষ্য, যারা এখানে অংশগ্রহণকারী আছেন, তাদেরকে সে লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি। এখানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বর কথা বলা হচ্ছে, এখানে তেমন কেউ আছেনকি?’ এসময় সেমিনারে অংশ নেয়া কেউই জেলা প্রশাসকের কথায় উঠে দাঁড়াননি। পরে তিনি বক্তব্য না দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেমিনারের কিছু নিয়ম-কানুন আছে, সেটা মেইনটেন্যান্ট করে আয়োজন করতে হয়। এখানে বলা হচ্ছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, কিন্তু এখানে উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তাদের সংখ্যা খুবই কম। আমরা আশা করব, পরবর্তীতে যখন কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস কর্তৃক অনুষ্ঠান করা হবে, তাদের যে টপিকস, তার সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয় যেন থাকে। যেহেতু অনুষ্ঠানে আমি সভাপতি হিসেবে আছি, দায়ভার আমারও কিছু আছে। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, ‘অনুষ্ঠানের ব্যানারে কিছু ভুল ছিল। ডিসি স্যার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসলে ব্যানারটি খুলে নতুন ব্যানার প্রিন্ট করে আনতে কিছু সময় লেগে যায়। এছাড়া আমন্ত্রণপত্র পাঠানো প্রায় সকলেই সেমিনারে উপস্থিত হয়েছেন। কিছু অনাকাঙ্খিত ভুল হয়েছে, এ জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, ‘এখানে মূল যে বিষয়বস্তু, সেখানে বলা আছে ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে জনসংযোগ সংক্রান্ত’ সেমিনার। সেখানে প্রতিনিধিত্বশীল কারা ছিল, সেটা আমি জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু কেউ দাঁড়ায়নি। অর্থাৎ মূল যে বিষয়বস্তু, সে বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির একটা বিষয় রয়ে গেছে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সেমিনার, কর্মশালা, সভার কিছু দিক আছে। কখন সেমিনার হবে, সেমিনার আয়োজনের নির্ধারিত বিধি-বিধান আছে। বিধি-বিধান বলতে এখানে মূল প্রবন্ধ একজন উপস্থাপন করবেন। সমস্যাগুলো আলোকপাত করবেন। সকলে সেখানে মতামত দিবেন, পরামর্শ দিবেন। এখানে আসলে সেভাবে অর্গানইজ করা হয়নি। মূল বিষয় হচ্ছে, যাদের জন্য অনুষ্ঠান, তাদের অংশগ্রহণ এখানে ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে প্রতিয়মান হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও’র কাছে জবাব চেয়েছি, কেন এমন হলো। তিনি আমাকে লিখিত আকারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিবেন। কারণ এটা সরকারি অনুষ্ঠান, সরকারি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কিছু ডেকোরাম থাকে। বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে। সরকারি প্রোগামে এমন অব্যবস্থাপনার সুযোগ নেই।’

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

জীবননগরে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সেমিনারে অব্যবস্থাপনা

অসন্তোষ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেলেন ডিসি

আপলোড টাইম : ০৯:৩৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪

সমীকরণ প্রতিবেদক:
জীবননগরে ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে জনসংযোগ সংক্রান্ত’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ সেমিনারে নানা অব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়মে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে জনসংযোগ সংক্রান্ত’ সেমিনার। কিন্তু সেমিনারে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণ ছিল হাতেগোনা দু-একজন। এছাড়া সেমিনার আয়োজনের যে বিধি-বিধান আছে, সেগুলোও যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হয়নি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে উঠে প্রথমেই অনুষ্ঠানের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা। তিনি বলেন, ‘কোনটা সেমিনার, কোনটা ওয়ার্কশপ, কোনটা সিম্পোজিয়াম, কোনটা মিটিং, এগুলোর নির্ধারিত একটি পদ্ধতি আছে। আজকের এই অনুষ্ঠানটি এত অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে যে, আমি অসন্তোষ প্রকাশ করছি। এটি সেমিনারের কোনো পর্যায়েই যথাযথভাবে আয়োজন করা হয়নি। কখন সেমিনার হবে, সেমিনার পরিচালনার ধরণ কেমন হবে, কখন কর্মশালা হবে, তার ধরণ কেমন হবে, সেগুলো নির্ধারিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু পন্থা আছে।

আজকের যে অনুষ্ঠান, অনুষ্ঠানটির মূল যে বিষয়বস্তু বা লক্ষ্য, যারা এখানে অংশগ্রহণকারী আছেন, তাদেরকে সে লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি। এখানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বর কথা বলা হচ্ছে, এখানে তেমন কেউ আছেনকি?’ এসময় সেমিনারে অংশ নেয়া কেউই জেলা প্রশাসকের কথায় উঠে দাঁড়াননি। পরে তিনি বক্তব্য না দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেমিনারের কিছু নিয়ম-কানুন আছে, সেটা মেইনটেন্যান্ট করে আয়োজন করতে হয়। এখানে বলা হচ্ছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, কিন্তু এখানে উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তাদের সংখ্যা খুবই কম। আমরা আশা করব, পরবর্তীতে যখন কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস কর্তৃক অনুষ্ঠান করা হবে, তাদের যে টপিকস, তার সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয় যেন থাকে। যেহেতু অনুষ্ঠানে আমি সভাপতি হিসেবে আছি, দায়ভার আমারও কিছু আছে। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, ‘অনুষ্ঠানের ব্যানারে কিছু ভুল ছিল। ডিসি স্যার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসলে ব্যানারটি খুলে নতুন ব্যানার প্রিন্ট করে আনতে কিছু সময় লেগে যায়। এছাড়া আমন্ত্রণপত্র পাঠানো প্রায় সকলেই সেমিনারে উপস্থিত হয়েছেন। কিছু অনাকাঙ্খিত ভুল হয়েছে, এ জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, ‘এখানে মূল যে বিষয়বস্তু, সেখানে বলা আছে ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে জনসংযোগ সংক্রান্ত’ সেমিনার। সেখানে প্রতিনিধিত্বশীল কারা ছিল, সেটা আমি জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু কেউ দাঁড়ায়নি। অর্থাৎ মূল যে বিষয়বস্তু, সে বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির একটা বিষয় রয়ে গেছে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সেমিনার, কর্মশালা, সভার কিছু দিক আছে। কখন সেমিনার হবে, সেমিনার আয়োজনের নির্ধারিত বিধি-বিধান আছে। বিধি-বিধান বলতে এখানে মূল প্রবন্ধ একজন উপস্থাপন করবেন। সমস্যাগুলো আলোকপাত করবেন। সকলে সেখানে মতামত দিবেন, পরামর্শ দিবেন। এখানে আসলে সেভাবে অর্গানইজ করা হয়নি। মূল বিষয় হচ্ছে, যাদের জন্য অনুষ্ঠান, তাদের অংশগ্রহণ এখানে ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে প্রতিয়মান হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও’র কাছে জবাব চেয়েছি, কেন এমন হলো। তিনি আমাকে লিখিত আকারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিবেন। কারণ এটা সরকারি অনুষ্ঠান, সরকারি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কিছু ডেকোরাম থাকে। বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে। সরকারি প্রোগামে এমন অব্যবস্থাপনার সুযোগ নেই।’