ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ইউপি সদস্যসহ চারজন আহত, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দামুড়হুদার গোপালপুর দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১১:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছে। আহতদের দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে গোপালপুর দলকা বিলের সামনে ছোটপুলের নিকট এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- গোপালপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে জুড়ানপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম (৫০), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুহুল আমীন, অপর পক্ষের একই গ্রামের জালাল মণ্ডলের ছেলে মোজাম্মেল ও নুরুল আলমের ছেলে বখতিয়ার হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দলকা বিল নিয়ে দীর্ঘদিনের কোন্দল রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ প্রায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে দামুড়হুদা মডেল থানায় অভিযোগ করেছে।

রুহুল আমিন বাদী হয়ে অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি হেমায়েতপুর প্রগতি মৎস্য সমবায় সমিতির পাহারাদার হিসেবে নিয়োজিত আছেন। সেই মোতাবেক বিলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তার। গতকাল গোপালপুর গ্রামের জালাল মণ্ডলের ছেলে মোজাম্মেল মাছ ধরার উদ্দেশ্যে দলকা বিলে গেলে তিনি তাকে নিষেধ করেন। নিষেধ করায় মোজাম্মেল তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে তাকে গালাগালি করতে মানা করলে ৭-৮ জন লাঠি, লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে তাকে মারতে থাকেন। তাদের আঘাতে তার ও জুড়ানপুর ইউপি সদস্য রক্তাক্ত জখম হলে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় গোপালপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে বখতিয়ার ও আবুলের ছেলে ওমর আলী, আবুলের ছেলে বিষু, বিষুর ছেলে শুভ, জালাল বকসর ছেলে মোজাম্মেল, ছুটিপুর গ্রামের ইউনুসের ছেলে খোকন, ছামছুদ্দীনের ছেলে শুকুর আলীর নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অপর পক্ষের মোজাম্মেল হক অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি মৎস্যজীবী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একজন কার্ডধারী। তার মাছ ধরার অনুমতি আছে। তিনি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিলের মাঠে যাওয়ার পথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৭-৮ জন লোহার রড, বাঁশের লাঠি, হাসুয়া নিয়ে তাকে মারতে থাকেন। এর একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় গোপালপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে নজরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুহুল আমিন, আনারুলের ছেলে আসিকসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই তৌহিদুর রহমান বলেন, গোপালপুরে দলকা বিল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এই মারামারিতে একাধিক মানুষ আহত হয়েছে। দুই পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ইউপি সদস্যসহ চারজন আহত, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দামুড়হুদার গোপালপুর দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি

আপলোড টাইম : ১১:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৪

প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছে। আহতদের দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে গোপালপুর দলকা বিলের সামনে ছোটপুলের নিকট এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- গোপালপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে জুড়ানপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম (৫০), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুহুল আমীন, অপর পক্ষের একই গ্রামের জালাল মণ্ডলের ছেলে মোজাম্মেল ও নুরুল আলমের ছেলে বখতিয়ার হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দলকা বিল নিয়ে দীর্ঘদিনের কোন্দল রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ প্রায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে দামুড়হুদা মডেল থানায় অভিযোগ করেছে।

রুহুল আমিন বাদী হয়ে অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি হেমায়েতপুর প্রগতি মৎস্য সমবায় সমিতির পাহারাদার হিসেবে নিয়োজিত আছেন। সেই মোতাবেক বিলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তার। গতকাল গোপালপুর গ্রামের জালাল মণ্ডলের ছেলে মোজাম্মেল মাছ ধরার উদ্দেশ্যে দলকা বিলে গেলে তিনি তাকে নিষেধ করেন। নিষেধ করায় মোজাম্মেল তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে তাকে গালাগালি করতে মানা করলে ৭-৮ জন লাঠি, লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে তাকে মারতে থাকেন। তাদের আঘাতে তার ও জুড়ানপুর ইউপি সদস্য রক্তাক্ত জখম হলে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় গোপালপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে বখতিয়ার ও আবুলের ছেলে ওমর আলী, আবুলের ছেলে বিষু, বিষুর ছেলে শুভ, জালাল বকসর ছেলে মোজাম্মেল, ছুটিপুর গ্রামের ইউনুসের ছেলে খোকন, ছামছুদ্দীনের ছেলে শুকুর আলীর নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অপর পক্ষের মোজাম্মেল হক অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি মৎস্যজীবী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একজন কার্ডধারী। তার মাছ ধরার অনুমতি আছে। তিনি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিলের মাঠে যাওয়ার পথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৭-৮ জন লোহার রড, বাঁশের লাঠি, হাসুয়া নিয়ে তাকে মারতে থাকেন। এর একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় গোপালপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে নজরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুহুল আমিন, আনারুলের ছেলে আসিকসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই তৌহিদুর রহমান বলেন, গোপালপুরে দলকা বিল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এই মারামারিতে একাধিক মানুষ আহত হয়েছে। দুই পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।