ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বৃষ্টি, বেড়েছে ঠাণ্ডার প্রকোপ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাঘের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। দিনের বেশিরভাগ সময় দেখা মিলছে না সূর্যের। উষ্ণতা পেতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে অনেকেই। এরইমধ্যে বৃষ্টি যেন শীতকে আরও তীব্র করেছে। গতকাল বুধবার রাত ১১টা ১০ মিনিট থেকে জেলার জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। এসময় শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।

গত সোমবার চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানিয়েছিলেন, চুয়াডাঙ্গা, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ঘন কুয়াশা থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। সূর্যের আলো ও তাপ ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত না পৌঁছানোর কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘১৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে কুয়াশা কেটে যাবে। এরপর তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমবে, তবে সূর্যের তাপে শীত কম অনুভূত হবে।’

এদিকে, গতকাল রাত থেকেই জেলার কয়েকটি স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির খবর পওয়া গেছে। এদিন সকাল ছয়টায় ও নয়টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা তিনটায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেসময় বাতাশের আর্দ্রতা ছিল ৭৭ শতাংশ।

গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে বুধবার রাতের পর থেকে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এছাড়াও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি ও আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।

কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

জীবননগরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বৃষ্টি, বেড়েছে ঠাণ্ডার প্রকোপ

আপলোড টাইম : ১০:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাঘের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। দিনের বেশিরভাগ সময় দেখা মিলছে না সূর্যের। উষ্ণতা পেতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে অনেকেই। এরইমধ্যে বৃষ্টি যেন শীতকে আরও তীব্র করেছে। গতকাল বুধবার রাত ১১টা ১০ মিনিট থেকে জেলার জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। এসময় শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।

গত সোমবার চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানিয়েছিলেন, চুয়াডাঙ্গা, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ঘন কুয়াশা থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। সূর্যের আলো ও তাপ ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত না পৌঁছানোর কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘১৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে কুয়াশা কেটে যাবে। এরপর তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমবে, তবে সূর্যের তাপে শীত কম অনুভূত হবে।’

এদিকে, গতকাল রাত থেকেই জেলার কয়েকটি স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির খবর পওয়া গেছে। এদিন সকাল ছয়টায় ও নয়টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা তিনটায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেসময় বাতাশের আর্দ্রতা ছিল ৭৭ শতাংশ।

গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে বুধবার রাতের পর থেকে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এছাড়াও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি ও আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।

কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।