ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় খেজুর গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে বিক্রি!

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

দর্শনা অফিস:
চলতি শীত মৌসুমে খেজুর গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন দামুড়হুদা উপজেলার গাছীরা। তবে অধিক লাভের আশায় মিষ্টি খেজুর গুড়ের সাথে কিছু অসাধু কৃষক ব্যাপক হারে চিনি মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।

উপজেলার কৃষক মশিয়ার রহমান, রহমত আলী, আব্দুল কাদের জানান, খেজুর গুড়ের মূল্যে একদিকে বেশি অপর দিকে চিনির মূল্যে কম হওয়ায় এলাকার শতকরা ৯৫ শতাংশ কৃষকই খেজুর গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে বিক্রি করছেন। প্রতি ১ ভাড় রসের সঙ্গে ১ কেজি চিনি মিশিয়ে অন্তত ২ কেজি গুড় তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে ১ ভাড় খেজুর রস জালিয়ে ৭ শ থেকে ৮ শ গ্রাম গুড় হয়। এতে গাছী ও কৃষকেরা অধিক মুনাফা পেলেও নষ্ট হচ্ছে গুড়ের মান। এতে আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। বঞ্চিত হচ্ছেন গুড়ের প্রকৃত সাধ ধেকে।

খেজুর গুড়ের ক্রেতারা জানান, ইতোমধ্যে নতুন আমন ধান ঘরে উঠছে। সেই সাথে খেজুর রস-গুড়ের মৌ মৌ সুবাসে কৃষাণীর বাড়ির আঙ্গিনা যেখানে ভরে উঠবে, সেখানে গুড়ের কোনো ঘ্রানই পাওয়া যাচ্ছে না। খেজুর গুড় তৈরিতে চিনির ব্যবহার নিয়ে লোকনাথপুর গ্রামে ইয়াস নবী, পরানপুর গ্রামের নফর মন্ডলের ছেলে আজিবার রহমান ও ইউসুফ আলীর ছেলে মতিয়ার রহমানসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমীন আক্তার জানান, চলতি খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন মৌসুমে উপজেলার ২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৬০টি খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস দিয়ে প্রায় ১৩৭ থেকে ১৪০ মেট্রিক টন খেজুর গুড় উৎপাদন করা যাবে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে চলতি খেজুর গুড় উৎপাদন মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ কেজি খেজুর গুড় উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। খেজুর রস-গুড়ের পাশপাশি খেজুর গুড়ের পাটালী তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ খেজুর রস, গুড় ও পাটালী এ অঞ্চলের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তবে খেজুর গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে সে ঐতিহ্য নষ্ট করছে কিছু অসাধু কৃষক।

এদিকে, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে অসাধু কৃষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি করেছে এলাকাবাসী। যদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে একদিকে যেমন ক্রেতারা ক্ষতিগ্রন্ত হবে না, অপরদিকে খেজুর রস ও গুড়ের ঐতিহ্যও রক্ষা হবে বলে এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করেন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

দামুড়হুদায় খেজুর গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে বিক্রি!

আপলোড টাইম : ১০:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪

দর্শনা অফিস:
চলতি শীত মৌসুমে খেজুর গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন দামুড়হুদা উপজেলার গাছীরা। তবে অধিক লাভের আশায় মিষ্টি খেজুর গুড়ের সাথে কিছু অসাধু কৃষক ব্যাপক হারে চিনি মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।

উপজেলার কৃষক মশিয়ার রহমান, রহমত আলী, আব্দুল কাদের জানান, খেজুর গুড়ের মূল্যে একদিকে বেশি অপর দিকে চিনির মূল্যে কম হওয়ায় এলাকার শতকরা ৯৫ শতাংশ কৃষকই খেজুর গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে বিক্রি করছেন। প্রতি ১ ভাড় রসের সঙ্গে ১ কেজি চিনি মিশিয়ে অন্তত ২ কেজি গুড় তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে ১ ভাড় খেজুর রস জালিয়ে ৭ শ থেকে ৮ শ গ্রাম গুড় হয়। এতে গাছী ও কৃষকেরা অধিক মুনাফা পেলেও নষ্ট হচ্ছে গুড়ের মান। এতে আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। বঞ্চিত হচ্ছেন গুড়ের প্রকৃত সাধ ধেকে।

খেজুর গুড়ের ক্রেতারা জানান, ইতোমধ্যে নতুন আমন ধান ঘরে উঠছে। সেই সাথে খেজুর রস-গুড়ের মৌ মৌ সুবাসে কৃষাণীর বাড়ির আঙ্গিনা যেখানে ভরে উঠবে, সেখানে গুড়ের কোনো ঘ্রানই পাওয়া যাচ্ছে না। খেজুর গুড় তৈরিতে চিনির ব্যবহার নিয়ে লোকনাথপুর গ্রামে ইয়াস নবী, পরানপুর গ্রামের নফর মন্ডলের ছেলে আজিবার রহমান ও ইউসুফ আলীর ছেলে মতিয়ার রহমানসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমীন আক্তার জানান, চলতি খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন মৌসুমে উপজেলার ২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৬০টি খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস দিয়ে প্রায় ১৩৭ থেকে ১৪০ মেট্রিক টন খেজুর গুড় উৎপাদন করা যাবে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে চলতি খেজুর গুড় উৎপাদন মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ কেজি খেজুর গুড় উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। খেজুর রস-গুড়ের পাশপাশি খেজুর গুড়ের পাটালী তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ খেজুর রস, গুড় ও পাটালী এ অঞ্চলের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তবে খেজুর গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে সে ঐতিহ্য নষ্ট করছে কিছু অসাধু কৃষক।

এদিকে, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে অসাধু কৃষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি করেছে এলাকাবাসী। যদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে একদিকে যেমন ক্রেতারা ক্ষতিগ্রন্ত হবে না, অপরদিকে খেজুর রস ও গুড়ের ঐতিহ্যও রক্ষা হবে বলে এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করেন।