চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৯ জানুয়ারি ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : শেষ এক ঘণ্টায় ব্যাপক ভোট

৮ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার, শেষ এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৯ হাজার

নিউজ রুমঃ
জানুয়ারি ৯, ২০২৪ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ একঘন্টায় ব্যাপক ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। পুরো নির্বাচন শেষে ইসি এখন বলছে, মোট ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৭টি অর্থাৎ ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু শেষ এক ঘন্টায় ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট হয়েছে। অর্থাৎ ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন ভোটার ভোট শেষ হওয়ার পূর্বের এক ঘন্টায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। শেষ এক ঘন্টার ভোট পড়ার হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ও প্রার্থীরা। তবে ইসির চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দু’টি আসনে ৮৭ ভাগ, ৩টি আসনে ৭০ ভাগ, ১৬টি আসনে ৬০ ভাগ ও ৫৮টি আসনে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়ে। অন্যদিকে ৫ টি আসনে ২০ শতাংশেরও কম ও ২১টি আসনে ২৫ শতাংশেরও কম ভোট কাস্ট হয়। যার বেশিরভাগই ঢাকায়।

যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কারও যদি সন্দেহ-দ্বিধা থাকে, ইউ ক্যান চ্যালেঞ্জ ইট এবং এটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। রেজাল্টগুলো আসছে যদি মনে করেন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম; ওটাকে চ্যালেঞ্জ করে আমাদের অসততা আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এখন ফাইনাল যে পারসেন্টেজটা হচ্ছে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ। ইসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা বিরতিহীনভাবে এবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটি আসনের একটি কেন্দ্র স্থগিত থাকায় বাকী ২৯৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে ২২৩টি আসনে আওয়ামী লীগ, ১১টি আসনে জাতীয় পার্টি-জাপা, ৬১টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয়লাভ করে। ২৯৮ আসনের নির্বাচনে ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৪১ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল। এর মধ্যে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যা মোট ভোটারের ৪১.৮ ভাগ। নির্বাচনে ভোট প্রদত্তের হার ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। পার্বত্য এলাকার ২১টি ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৯৬৯জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় দেড় সহস্রাধিক প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশের এক শতাংশ ভোট না পেলে জামানত হারান প্রার্থীরা। এই জামানত হারানোর তালিকায় বেশকয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন।

আলোচনায় শেষ একঘন্টা:

শেষ একঘন্টার ভোট নিয়ে আলোচনা সর্বত্রই। ভোটের দিন রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেছিলেন, সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ প্রথম চার ঘন্টা ভোট পড়ে ২ কোটি ২০ লাখ ১৩ হাজার ৯টি ভোট। এরপর বেলা সাড়ে ৩টায় আবার প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন ইসি সচিব। তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। হিসাব অনুযায়ী তখন ভোট পড়ে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৫ হাজার ৫৭৮টি ভোট। তখন বিভাগ ওয়ারী কোন বিভাগে কত ভোট পড়েছে তার হিসাবও দেন ইসি সচিব। ভোটগ্রহণ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সন্ধ্যায় সাড়ে ৫টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতে সিইসি ভোটের হার ২৮ শতাংশের মতো পড়েছে বলে উল্লেখ করেন। পরে সিইসি’র পাশে থাকা সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সিইসিকে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান। তবে পরে তা সংশোধন করে সিইসি বলেন, এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে আরও হয়তো বাড়তে পারে। আবার নাও পারে।

গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সিইসি বলেন, চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের ২৯৮ সংসদীয় আসনে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কারো সন্দেহ থাকলে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। ইসি স্বগত জানাবে। যদিও ইসির চূড়ান্ত ফলাফল শীটে ভোট প্রদত্তের হার ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ইসির দেয়া তথ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শেষ এক ঘন্টায় ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রথম সাত ঘন্টায় ভোট পড়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৫ হাজার ৫৭৮টি। হঠাৎ শেষ একঘন্টায় কিভাবে ১ কোটি ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৮৮টি ভোট পড়েছে তা নিয়ে স্বয়ং প্রশ্ন আছে ইসির সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও ইসির সংশ্লিষ্টদের মতে, শেষ এক ঘন্টা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত ভোট হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের আসনগুলোয় শেষ দিকে কেন্দ্র ফাঁকা থাকলেও ভোট পড়েছে ব্যাপক। এই ব্যাপক ভোট পড়ার পেছনে নিয়ন্ত্রক হিসাবে স্থানীয় প্রশাসন ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাই সম্পৃক্ত। অনেক আসনের কিছু কিছু কেন্দ্রের দরজা ওই সময়ে বন্ধ থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ আছে। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি দেখাতে ডামি লাইনও প্রস্তুত রাখা হয় কিছু কেন্দ্রে। নিয়মানুযায়ী বিকাল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার আগে কোন ভোটার কেন্দ্রের ৪শ গজ চৌহদ্দির মধ্যে প্রবেশ করলে নির্ধারিত সময়ের পরেও ভোট নেয়ার সুযোগ আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আমার নির্বাচনী আসনে দেখেছি স্থানীয় প্রশাসন নিরপেক্ষ ছিলো না। একজন প্রার্থীর হয়ে প্রশাসন দিনভর কাজ করেছে। এদিকে, ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি-জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সোমবার রংপুর নগরীর স্কাইভিউ ভবনে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাসে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সরকার আমাদের কথা দিয়ে কথা রাখেনি। সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনে সরকার যেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট করতে চেয়েছে, সেখানে করেছে। আর যেখানে তাদের লোকজনকে জেতাতে চেয়েছে সেখানে তারা আমাদের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোর করে সিল মেরে হারিয়ে দিয়েছে। সার্বিকভাবে এই নির্বাচন ভালো হয়নি।

শেষ এক ঘন্টার ভোট নিয়ে যা বললেন সিইসি :

১ ঘণ্টায় ভোটের ব্যবধান বাড়লো কীভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বেলা ৩টা না, সেটা ২টা পর্যন্ত রেজাল্ট ছিল। ইসি সচিব তিনটার রেজাল্ট জানিয়েছেন এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আপনারা একটা কাজ করতে পারেন। টোটাল রেজাল্টটা যখন চলে আসে, আসার পরে কে কতটা ভোট পেলেন, ২৯৮ সংসদীয় আসনের একজন, দুইজন, তিনজন, চারজন এভাবে সবার ভোট যোগ করে এক্সেলে ফেলে দিয়ে পার্সেন্টেজটা নিজেরাই দেখে নিন।  তিনি আরো বলেন, যখন আমি ২টার সময়ে বলি তখন কোনোভাবেই এটা পুরোপুরি সঠিক হওয়ার কথা নয়। যখন চারটার সময়ে বলি এটা কোনোভাবেই সঠিক হওয়ার কথা নয়। সব চলে আসার পর যখন রাত ১০টায় বলি, তখন সঠিকটা বলা যাবে।

সর্বোচ্চ ৮৭.২৪ সর্বনিম্ন ১৩.০৪ শতাংশ:

এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৭.২৪ ভাগ ভোট পড়েছে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনের মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ২৯৭ ভোটের মধ্যে ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৪৭ ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬২ ভোট পান। আর সর্বনিম্ন ১৩.০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে ঢাকা-১৫ আসনে। এ আসনে ৩ লাখ ৪৪হাজার ৫০৭জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৪৪ হাজার ১৩৬জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার ৩৯ হাজার ৬৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী এবং জাতীয় পার্টি-জাপার সামছুল হক ২ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।