ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা, প্রতিবাদে ঘর ছেড়েছে স্ত্রী

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১১:৪৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ অফিস:
স্বামীর জামিন ও বিয়ে মেনে নেওয়ার দাবিতে নন্দিনী নামের ১০ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অনশন শুরু করেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাগমারী গ্রামের তবিবর রহমানের বাড়িতে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সে স্বামীর বাড়িতে এসে ওঠে। নন্দিনী একই উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে। স্কুলছাত্রী নন্দিনীর অনশন ও অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের মানুষ কাগমারী গ্রামে মাসুদের বাড়িতে ভিড় জমায়।
এদিকে বাবার দায়ের করা অপহরণ মামলায় স্বামী মাসুদ রানা কারাগারে আছেন। তাই স্বামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে পিতৃলয় ত্যাগ করে চলে আসে সে। নন্দিনী অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহের একটি আদালতে তার ও মাসুদ রানার বিয়ে হয়। কিন্তু মাসুদের সঙ্গে এই বিয়ে তার পিতা আনিছুর রহমান মেনে নেয়নি। এর আগেও সে বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে চলে আসে। এখানে এসেছে সে সংসার করেছে।

নন্দিনীর অভিযোগ, যতবারই সে এসেছে, ততবারই বাবা তাকে বেদম মারধর করে নিয়ে গেছে। তার স্বামী নির্দোষ ও তাকে কেউ অপহরণ করেনি বলে নন্দিনী জানায়। কাগমারী গ্রামের ভোলা মিয়া জানান, মাসুদের সঙ্গে নন্দিনীর বিয়ে হয়। কিন্তু এই বিয়ে তার বাবা মেনে নেয়নি। মেয়েটি একাধিকবার ছেলের বাড়িতে চলে আসে। প্রতিবার মেয়ের বাবা ধরে নিয়ে যায়। সর্বশেষ গত বুধবার মহেশপুর থানায় একটি সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে নন্দিনী তার স্বামীর বাড়িতে আসতে চায়, কিন্তু বাধ সাধেন তার বাবা আনিছুর রহমান। অবশেষে মেয়ের বাবা অপহরণ মামলায় মাসুদ রানাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

ভোলা মিয়া বলেন, মেয়েটি ছেলের সঙ্গে সংসার করার জন্যই চলে এসেছে। কিন্তু তার পিতা ও পরিবার বিষয়টি কোনোভাবেই মানছে না। ফলে পিতার বাধা উপেক্ষা করে মেয়েটি আবারো তার স্বামীর বাড়িতে চলে এসেছে। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। সেই মামলায় মাসুদ রানা কারাগারে আছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা, প্রতিবাদে ঘর ছেড়েছে স্ত্রী

আপলোড টাইম : ১১:৪৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৪

ঝিনাইদহ অফিস:
স্বামীর জামিন ও বিয়ে মেনে নেওয়ার দাবিতে নন্দিনী নামের ১০ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অনশন শুরু করেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাগমারী গ্রামের তবিবর রহমানের বাড়িতে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সে স্বামীর বাড়িতে এসে ওঠে। নন্দিনী একই উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে। স্কুলছাত্রী নন্দিনীর অনশন ও অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের মানুষ কাগমারী গ্রামে মাসুদের বাড়িতে ভিড় জমায়।
এদিকে বাবার দায়ের করা অপহরণ মামলায় স্বামী মাসুদ রানা কারাগারে আছেন। তাই স্বামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে পিতৃলয় ত্যাগ করে চলে আসে সে। নন্দিনী অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহের একটি আদালতে তার ও মাসুদ রানার বিয়ে হয়। কিন্তু মাসুদের সঙ্গে এই বিয়ে তার পিতা আনিছুর রহমান মেনে নেয়নি। এর আগেও সে বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে চলে আসে। এখানে এসেছে সে সংসার করেছে।

নন্দিনীর অভিযোগ, যতবারই সে এসেছে, ততবারই বাবা তাকে বেদম মারধর করে নিয়ে গেছে। তার স্বামী নির্দোষ ও তাকে কেউ অপহরণ করেনি বলে নন্দিনী জানায়। কাগমারী গ্রামের ভোলা মিয়া জানান, মাসুদের সঙ্গে নন্দিনীর বিয়ে হয়। কিন্তু এই বিয়ে তার বাবা মেনে নেয়নি। মেয়েটি একাধিকবার ছেলের বাড়িতে চলে আসে। প্রতিবার মেয়ের বাবা ধরে নিয়ে যায়। সর্বশেষ গত বুধবার মহেশপুর থানায় একটি সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে নন্দিনী তার স্বামীর বাড়িতে আসতে চায়, কিন্তু বাধ সাধেন তার বাবা আনিছুর রহমান। অবশেষে মেয়ের বাবা অপহরণ মামলায় মাসুদ রানাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

ভোলা মিয়া বলেন, মেয়েটি ছেলের সঙ্গে সংসার করার জন্যই চলে এসেছে। কিন্তু তার পিতা ও পরিবার বিষয়টি কোনোভাবেই মানছে না। ফলে পিতার বাধা উপেক্ষা করে মেয়েটি আবারো তার স্বামীর বাড়িতে চলে এসেছে। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। সেই মামলায় মাসুদ রানা কারাগারে আছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।