ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে মারধরের অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:৩২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের দেহাটি গ্রামে স্বতস্ত্র প্রার্থী মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লল্টুর (ঢেঁকি) কর্মী মো. লাল্টুকে (৪৩) মারধরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলী আজগার টগরের সমর্থক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। লাল্টু একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। জুয়েলও একই গ্রামের বাসিন্দা।


স্বতস্ত্র প্রার্থীর সমর্থক লাল্টু বলেন, ‘আমি বসেছিলাম। এসময় আমাদের মিঠু মেম্বার ফোন দেয়। ভালোভাবেই বলে জুয়েল ডাকছে, তুই আই। আমি তখন বলি চাচা যাব না, আমি একজনের ভোট করছি. জুয়েলের কাছে কী করতে যাব বলেন তো? আর জুয়েল হুন্ডা-মুন্ডা নিয়ে রিপনের দোকানে আছে। এবার জুয়েল আমার কাছে ফোন দিয়েছে, দিয়ে গালি দিয়ে বলছে, ভোটটা বেরিয়ে যাক। তোর ব্যবস্থা করছি। তোর হাড়-গোড় এক করে ফেলব। তুই জুয়েলের নাম শুনিসনি। জুয়েল কীডা তুই চিনিস নে? আমি তখন বলি, আমি আপনার কী করলাম। আমি রাজা চাচার ভোট করছি। আমি লণ্টু চাচার জন্য ভোট করছি। আমার জীবন চলে যাক, তাও আপনার ভোট করতে পারব না। এই কথা বলে যেই বেরিয়ে এসেছি, তখন কয়েকজন আমাকে ধাক্কা মারতে মারতে বলে বের হ। এসময় জুয়েল আমাকে মারতে মারতে তাড়া করে দিয়েছে। ওরা প্রত্যেকবার ভোটের সময় এমনই করে। ওর ভাইয়ের ভোটের সময়ও এমন করে। এখনও এমন করছে। ওদের কোনো জনপ্রিয়তা নেই।’


এসময় স্বতস্ত্র প্রার্থী মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লণ্টুর হাত ধরে লাল্টু বলেন, ‘আপনার কাছে অনুরোধ, আপনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। আপনার জয় হবেই। ওদের কেউ চাচ্ছে না। ওরা আত্মীয়করণ ছাড়া কোনো দল করে না।’ রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লণ্টু বলেন, ‘এখন আমি থানায় রয়েছি। মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করব।’ মামলার আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুয়েল ও তার অনুসারীদের আসামি করা হবে।


এসময় কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্বতস্ত্র প্রার্থী মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লণ্টু বলেন, ‘ওসি সাহেবের কথায় তো আপনার খুশি হয়েছেন। এখন আইনের লড়াই করতে হবে। আপনি আমাকে থাপ্পড় দিয়েছেন, আমি তো আপনাকে থাপ্পড় দিতে পারব না। এর জন্য আইন আছে। আইনের লোক আছে। তারা এর বিচার করবে।’


এদিকে ঘটনাস্থ পরিদর্শন করেছেন জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবীদ হাসানের নেতৃত্বে থানা-পুলিশের একটি দল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ^াব দেন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

জীবননগরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে মারধরের অভিযোগ

আপলোড টাইম : ০৯:৩২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের দেহাটি গ্রামে স্বতস্ত্র প্রার্থী মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লল্টুর (ঢেঁকি) কর্মী মো. লাল্টুকে (৪৩) মারধরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলী আজগার টগরের সমর্থক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। লাল্টু একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। জুয়েলও একই গ্রামের বাসিন্দা।


স্বতস্ত্র প্রার্থীর সমর্থক লাল্টু বলেন, ‘আমি বসেছিলাম। এসময় আমাদের মিঠু মেম্বার ফোন দেয়। ভালোভাবেই বলে জুয়েল ডাকছে, তুই আই। আমি তখন বলি চাচা যাব না, আমি একজনের ভোট করছি. জুয়েলের কাছে কী করতে যাব বলেন তো? আর জুয়েল হুন্ডা-মুন্ডা নিয়ে রিপনের দোকানে আছে। এবার জুয়েল আমার কাছে ফোন দিয়েছে, দিয়ে গালি দিয়ে বলছে, ভোটটা বেরিয়ে যাক। তোর ব্যবস্থা করছি। তোর হাড়-গোড় এক করে ফেলব। তুই জুয়েলের নাম শুনিসনি। জুয়েল কীডা তুই চিনিস নে? আমি তখন বলি, আমি আপনার কী করলাম। আমি রাজা চাচার ভোট করছি। আমি লণ্টু চাচার জন্য ভোট করছি। আমার জীবন চলে যাক, তাও আপনার ভোট করতে পারব না। এই কথা বলে যেই বেরিয়ে এসেছি, তখন কয়েকজন আমাকে ধাক্কা মারতে মারতে বলে বের হ। এসময় জুয়েল আমাকে মারতে মারতে তাড়া করে দিয়েছে। ওরা প্রত্যেকবার ভোটের সময় এমনই করে। ওর ভাইয়ের ভোটের সময়ও এমন করে। এখনও এমন করছে। ওদের কোনো জনপ্রিয়তা নেই।’


এসময় স্বতস্ত্র প্রার্থী মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লণ্টুর হাত ধরে লাল্টু বলেন, ‘আপনার কাছে অনুরোধ, আপনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। আপনার জয় হবেই। ওদের কেউ চাচ্ছে না। ওরা আত্মীয়করণ ছাড়া কোনো দল করে না।’ রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লণ্টু বলেন, ‘এখন আমি থানায় রয়েছি। মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করব।’ মামলার আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুয়েল ও তার অনুসারীদের আসামি করা হবে।


এসময় কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্বতস্ত্র প্রার্থী মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লণ্টু বলেন, ‘ওসি সাহেবের কথায় তো আপনার খুশি হয়েছেন। এখন আইনের লড়াই করতে হবে। আপনি আমাকে থাপ্পড় দিয়েছেন, আমি তো আপনাকে থাপ্পড় দিতে পারব না। এর জন্য আইন আছে। আইনের লোক আছে। তারা এর বিচার করবে।’


এদিকে ঘটনাস্থ পরিদর্শন করেছেন জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবীদ হাসানের নেতৃত্বে থানা-পুলিশের একটি দল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ^াব দেন।