ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহতদের নিয়ে

ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহুলের সংবাদ সম্মেলন

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৫:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ অফিস:

ঝিনাইদহ-২ আসনে নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল। গতকাল শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ পৌরসভা সংলগ্ন ভাষা সৈনিক মুসা মিয়া আইসিটি অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণ, জাহেদী ফাউন্ডেশনের বন্দে আলী বোরাক, আবু শাহরিয়ার জাহেদী পিপুল ও তবিবুর রহমান লাবুসহ নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বলেন, নির্বাচন ও রাজনীতি সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ সৃষ্টি করে। সে কারণে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেখলাম ঝিনাইদহ ও হরিণাকুণ্ডুর বিভিন্ন গ্রামে ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে। তাদেরকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। আবার যারা ভুক্তভোগী পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই মামলা নিচ্ছে। প্রতিটি হামলা সুপরিকল্পিত বলে মহুল অভিযোগ করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মহুল ঝিনাইদহ সদর থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ওসি যদি এখানে থাকে, তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে না। সুরাট ইউনিয়নের ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে মহুল বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য মেরাদিম মোস্তাকিম মুনির ওসি শাহিন উদ্দীনের সঙ্গেই মারামারি মিটিয়ে শহরে ফিরে আসেন। অথচ তাকেই আসামি করে মামলা করা হলো। সেই মামলা কীভাবে ওসি রেকর্ড করলেন?

তিনি হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, ওসি যদি তার আচরণ পরিবর্তন না করেন, তবে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য তিনিই দায়ী থাকবেন। মহুল বলেন, ‘নির্বাচন আমার কাছে বড় ইস্যু নয়, কিন্তু ভোটের মাঠে মারামারির নামে যে দৃশ্য নতুন প্রজন্ম দেখছে, তাতে তারা বড় হয়ে কী শিষ্টাচার শিখবে?’

ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করে মহুল বলেন, একজন মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়। সুরাট ইউনিয়নে ঘর থেকে ধরে এনে কোপানো হচ্ছে। এভাবে ঝিনাইদহ হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় প্রায় ৫০ জন ঈগল সমর্থককে মারধর করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০/১৫ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ঢাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭ জন। অথচ মার খেয়েও নৌকার পক্ষ থেকে তাদের নামেই মামলা করা হচ্ছে। সেই মামলা আবার পুলিশ নিচ্ছেও। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কোন দেশে বসবাস করছি ? দেশে কি কোন আইন কানুন নেই ?

তিনি ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের প্রশংসা করে বলেন, সব কাজ যদি পুলিশ সুপারকে করতে হয়, তবে সদর থানার ওসির দায়িত্বটা কি ? এরপরও যদি এমন হামলা মামলা চলতে থাকে তিনি রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করবেন। তখন কিন্তু জনরোষ সামাল দিতে পারবেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মহুল।

সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার শুড়োপাড়া গ্রামের মকছেদ আলীর স্ত্রী ঈগল প্রতীকের সমর্থক সামিনা বেগম, গান্নার আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দীন, বাজিতপুর গ্রামের খয়বর শেখের ছেলে নান্নু শেখ, আব্বাস আলী, কলমনখালী গ্রামের আব্দুল মান্নান বিশ^াসের ছেলে আলমগীর হোসেন, রাজা বিশ^াস ও ঘোড়ামারা গ্রামের শুকুর আলীসহ বিভিন্ন সময় নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত হন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ঝিনাইদহে নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহতদের নিয়ে

ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহুলের সংবাদ সম্মেলন

আপলোড টাইম : ০৫:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

ঝিনাইদহ অফিস:

ঝিনাইদহ-২ আসনে নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল। গতকাল শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ পৌরসভা সংলগ্ন ভাষা সৈনিক মুসা মিয়া আইসিটি অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণ, জাহেদী ফাউন্ডেশনের বন্দে আলী বোরাক, আবু শাহরিয়ার জাহেদী পিপুল ও তবিবুর রহমান লাবুসহ নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বলেন, নির্বাচন ও রাজনীতি সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ সৃষ্টি করে। সে কারণে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেখলাম ঝিনাইদহ ও হরিণাকুণ্ডুর বিভিন্ন গ্রামে ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে। তাদেরকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। আবার যারা ভুক্তভোগী পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই মামলা নিচ্ছে। প্রতিটি হামলা সুপরিকল্পিত বলে মহুল অভিযোগ করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মহুল ঝিনাইদহ সদর থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ওসি যদি এখানে থাকে, তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে না। সুরাট ইউনিয়নের ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে মহুল বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য মেরাদিম মোস্তাকিম মুনির ওসি শাহিন উদ্দীনের সঙ্গেই মারামারি মিটিয়ে শহরে ফিরে আসেন। অথচ তাকেই আসামি করে মামলা করা হলো। সেই মামলা কীভাবে ওসি রেকর্ড করলেন?

তিনি হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, ওসি যদি তার আচরণ পরিবর্তন না করেন, তবে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য তিনিই দায়ী থাকবেন। মহুল বলেন, ‘নির্বাচন আমার কাছে বড় ইস্যু নয়, কিন্তু ভোটের মাঠে মারামারির নামে যে দৃশ্য নতুন প্রজন্ম দেখছে, তাতে তারা বড় হয়ে কী শিষ্টাচার শিখবে?’

ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করে মহুল বলেন, একজন মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়। সুরাট ইউনিয়নে ঘর থেকে ধরে এনে কোপানো হচ্ছে। এভাবে ঝিনাইদহ হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় প্রায় ৫০ জন ঈগল সমর্থককে মারধর করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০/১৫ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ঢাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭ জন। অথচ মার খেয়েও নৌকার পক্ষ থেকে তাদের নামেই মামলা করা হচ্ছে। সেই মামলা আবার পুলিশ নিচ্ছেও। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কোন দেশে বসবাস করছি ? দেশে কি কোন আইন কানুন নেই ?

তিনি ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের প্রশংসা করে বলেন, সব কাজ যদি পুলিশ সুপারকে করতে হয়, তবে সদর থানার ওসির দায়িত্বটা কি ? এরপরও যদি এমন হামলা মামলা চলতে থাকে তিনি রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করবেন। তখন কিন্তু জনরোষ সামাল দিতে পারবেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মহুল।

সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার শুড়োপাড়া গ্রামের মকছেদ আলীর স্ত্রী ঈগল প্রতীকের সমর্থক সামিনা বেগম, গান্নার আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দীন, বাজিতপুর গ্রামের খয়বর শেখের ছেলে নান্নু শেখ, আব্বাস আলী, কলমনখালী গ্রামের আব্দুল মান্নান বিশ^াসের ছেলে আলমগীর হোসেন, রাজা বিশ^াস ও ঘোড়ামারা গ্রামের শুকুর আলীসহ বিভিন্ন সময় নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত হন।