ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ছেলুন জোয়ার্দ্দারের সংবাদ সম্মেলন

পুলিশ সদস্যের প্রত্যাহার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের দাবি

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৩:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বর্তমান সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হারুন-অর-রশিদকে অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং পদ্মবিলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বিশ্বাসকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ও পদ্মবিলা ইউনিয়ন এলাকায় একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঈগল প্রতীকের দিলীপ কুমার আগরওয়ালা) কর্মীরা নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করে অপপ্রচার, কুৎসা রটনা ও নৌকার প্রার্থীর নামে ব্যক্তিগতভাবে গালাগালি করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছিলেন। এ ঘটনায় সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক হারুন-অর-রশিদ তার সাথে যোগ দিয়ে এবং স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির কিছু লোকজনের সাথে যুক্ত হয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ভন্ডুল করার একটি গোপন নকশা নিয়ে কাজ করছেন।’

গত ২৩ ডিসেম্বরের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবলীগের একটি মিছিলে হামলা চালানো হয় এবং নৌকার প্রার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও উত্তেজনা ছড়ানো হয়। রাত ৮টার দিকে ভান্ডারদহ গ্রামে নৌকার পক্ষে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলের পিছনে ঈগল মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী তার ব্যক্তিগত বডিগার্ড ও কয়েকজন কর্মী-সমর্থকসহ নিয়ে উপস্থিত হন। প্রার্থীর সমর্থক পদ্মবিলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বিশ্বাস একটি হ্যান্ড মাইক দিয়ে মিছিলের পিছন থেকে গালাগালি করতে থাকে। রাস্তা ফাঁকা হলে গাড়ি বহরটি কিছুদূর গিয়ে ভান্ডারদহ ত্রি-মোহনী মোড়ে পৌঁছে রাস্তার ওপরেই মাইকে বক্তব্য দিতে শুরু করেন ওই প্রার্থী। এতে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বডিগার্ড তাদের হাতে থাকা বিশেষ লাঠি দ্বারা এবং তাদের কর্মীরা অতর্কিত হামলা করে।’

স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নৌকার প্রার্থী ছেলনু জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘ঘটনার সময় সেখানে সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এসআই হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী অকথ্য ভাষায় পুলিশ সদস্যদের আমাদের কর্মীদের আক্রমণ করার নির্দেশ দেয়। আশ্চর্য বিষয় হলো পুলিশ বিনা বিচার বিবেচনায় ওই প্রার্থীর নির্দেশ মেনে আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হয় এবং মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিক গেলে তাকেসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর প্রধান প্রতিনিধি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, ‘আজকে ছেলুন ভাই এই জেলার মহাপুরুষ। তিনি শুধু চুয়াডাঙ্গা-১ নয়, চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের স্থান করে নিয়েছেন। মানুষ তাঁকেই চায়। আমরা মনে করি একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’ এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষি ভোট পাগল। সব মানুষ ভোট দিতে যাবে। সাংগঠনিক শক্তিতে আমরা বলিয়ান। উন্নয়ন দেখেই মানুষ আওয়ামী লীগকে আবারও চায়।’

এসময় স্থানীয় সংবাদপত্রের সমালোচনা করে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ না জেনেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদের শিরোনামে ঘটনা যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, প্রকৃত অর্থে তা ঘটেনি। সংবাদকর্মীরা সরেজমিন না গিয়েই ঈগল প্রার্থীর লিখিত স্ট্যাটাস হুবুহু প্রকাশ করেছেন। যা মোটেও কাম্য নয়। বানোয়াট, উদ্দেশ্যমূলক ও পক্ষপাতমূলক সংবাদ উপস্থাপন করেছে, যাতে করে আমাদের ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং এটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের সম্মানহানি হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, অ্যাড. মুহা. শামসুজ্জোহা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলী, চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম শাহানসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সদর উপজেলার নতুন ভান্ডারদহ এলাকায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার প্রচারণায় বাধা, গাড়িবহর গতিরোধ করে প্রার্থীকে লাঞ্ছিত ও অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকিও দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শনিবার দিনগত রাত সোয়া তিনটায় সদর থানায় স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমারকে হত্যাচেষ্টায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০-১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন দিলীপ কুমার আগরওয়ালার নির্বাচনী প্রধান প্রতিনিধি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক। ওই মামলায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। ওই মামলায় রোববার আদালত চারজনের জামিন দিলেও মামলার মূল আসামি কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান মানিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ছেলুন জোয়ার্দ্দারের সংবাদ সম্মেলন

পুলিশ সদস্যের প্রত্যাহার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের দাবি

আপলোড টাইম : ০৩:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বর্তমান সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হারুন-অর-রশিদকে অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং পদ্মবিলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বিশ্বাসকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ও পদ্মবিলা ইউনিয়ন এলাকায় একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঈগল প্রতীকের দিলীপ কুমার আগরওয়ালা) কর্মীরা নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করে অপপ্রচার, কুৎসা রটনা ও নৌকার প্রার্থীর নামে ব্যক্তিগতভাবে গালাগালি করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছিলেন। এ ঘটনায় সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক হারুন-অর-রশিদ তার সাথে যোগ দিয়ে এবং স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির কিছু লোকজনের সাথে যুক্ত হয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ভন্ডুল করার একটি গোপন নকশা নিয়ে কাজ করছেন।’

গত ২৩ ডিসেম্বরের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবলীগের একটি মিছিলে হামলা চালানো হয় এবং নৌকার প্রার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও উত্তেজনা ছড়ানো হয়। রাত ৮টার দিকে ভান্ডারদহ গ্রামে নৌকার পক্ষে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলের পিছনে ঈগল মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী তার ব্যক্তিগত বডিগার্ড ও কয়েকজন কর্মী-সমর্থকসহ নিয়ে উপস্থিত হন। প্রার্থীর সমর্থক পদ্মবিলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বিশ্বাস একটি হ্যান্ড মাইক দিয়ে মিছিলের পিছন থেকে গালাগালি করতে থাকে। রাস্তা ফাঁকা হলে গাড়ি বহরটি কিছুদূর গিয়ে ভান্ডারদহ ত্রি-মোহনী মোড়ে পৌঁছে রাস্তার ওপরেই মাইকে বক্তব্য দিতে শুরু করেন ওই প্রার্থী। এতে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বডিগার্ড তাদের হাতে থাকা বিশেষ লাঠি দ্বারা এবং তাদের কর্মীরা অতর্কিত হামলা করে।’

স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নৌকার প্রার্থী ছেলনু জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘ঘটনার সময় সেখানে সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এসআই হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী অকথ্য ভাষায় পুলিশ সদস্যদের আমাদের কর্মীদের আক্রমণ করার নির্দেশ দেয়। আশ্চর্য বিষয় হলো পুলিশ বিনা বিচার বিবেচনায় ওই প্রার্থীর নির্দেশ মেনে আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হয় এবং মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিক গেলে তাকেসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর প্রধান প্রতিনিধি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, ‘আজকে ছেলুন ভাই এই জেলার মহাপুরুষ। তিনি শুধু চুয়াডাঙ্গা-১ নয়, চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের স্থান করে নিয়েছেন। মানুষ তাঁকেই চায়। আমরা মনে করি একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’ এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষি ভোট পাগল। সব মানুষ ভোট দিতে যাবে। সাংগঠনিক শক্তিতে আমরা বলিয়ান। উন্নয়ন দেখেই মানুষ আওয়ামী লীগকে আবারও চায়।’

এসময় স্থানীয় সংবাদপত্রের সমালোচনা করে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ না জেনেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদের শিরোনামে ঘটনা যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, প্রকৃত অর্থে তা ঘটেনি। সংবাদকর্মীরা সরেজমিন না গিয়েই ঈগল প্রার্থীর লিখিত স্ট্যাটাস হুবুহু প্রকাশ করেছেন। যা মোটেও কাম্য নয়। বানোয়াট, উদ্দেশ্যমূলক ও পক্ষপাতমূলক সংবাদ উপস্থাপন করেছে, যাতে করে আমাদের ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং এটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের সম্মানহানি হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, অ্যাড. মুহা. শামসুজ্জোহা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলী, চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম শাহানসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সদর উপজেলার নতুন ভান্ডারদহ এলাকায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার প্রচারণায় বাধা, গাড়িবহর গতিরোধ করে প্রার্থীকে লাঞ্ছিত ও অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকিও দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শনিবার দিনগত রাত সোয়া তিনটায় সদর থানায় স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমারকে হত্যাচেষ্টায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০-১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন দিলীপ কুমার আগরওয়ালার নির্বাচনী প্রধান প্রতিনিধি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক। ওই মামলায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। ওই মামলায় রোববার আদালত চারজনের জামিন দিলেও মামলার মূল আসামি কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান মানিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।