ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দলের নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করতে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

৩১ ডিসেম্বর থেকে রাজপথে থাকার জোর নির্দেশনা

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৩:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন:
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আন্দোলন প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় বিএনপিতে এক ধরনের হতাশা আছে। এ পরিস্থিতিতে এখনো যারা নিষ্ক্রিয় তাদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। প্রায় ৪ শ নেতা-কর্মীকে এরই মধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। চলমান আন্দোলনে ৩১ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রের পাশাপাশি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সক্রিয় ভূমিকায় ফিরতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, রাজপথে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর আন্দোলন শুরুর পরপরই দলটির বেশিরভাগ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন তারা। তবে একটি অংশ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আন্দোলনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না দীর্ঘদিন। এমনকি যারা সক্রিয় আছেন তাদের পাশেও থাকেননি। সেরকম চার শতাধিক নেতাকে চিহ্নিত করে দল থেকে ভর্ৎসনা এবং কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আগামীতে এরকম গাফিলতি দেখা গেলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে পদ-পদবি থেকে সরিয়ে দেওয়াসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নিষ্ক্রিয় ওইসব নেতাদের মধ্যে যারা বিগত দিনে কমিটি বাণিজ্য করে সংগঠনকে দুর্বল করেছেন আর যোগ্যদের বাদ দিয়েছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, শুধু সতর্ক করা নয়, গত কয়েকদিনে অনেককে শোকজও করা হয়েছে। অনেক জায়গায় নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা হয়েছে, অনেক স্থানে মূল কমিটির সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ছাড়া অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রায় ১৫ কমিটি রদবদল কিংবা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যুবদলেরও প্রায় ১০টি কমিটি পুনর্গঠন এবং অনেককে শোকজ করা হয়েছে, নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে বহিষ্কারও করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। ছাত্রদলের চিত্রও একই। রোববারও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি তারিকুল ইসলাম রানা এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল হাসান ইফাদকে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। নিষ্ক্রিয়দের বিষয়ে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশনাও দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এছাড়া বেশ কিছু জায়গায় আন্দোলনের জন্য দলীয় ফান্ড থেকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যারা এই সহায়তার অর্থ তসরুপ করেছেন বা চেষ্টা করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে দলের হাইকমান্ডের এমন কঠোর মনোভাবে রাজপথের চিত্র অনেকটা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। অনেকেই এখন সক্রিয় হয়ে উঠছেন। মিছিল-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। নির্বাচনের আগের কয়েকদিন এই চিত্র আরও পাল্টে যেতে পারে। ফলে আগামী দিনে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামার সব রকমের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শুধু নেতা-কর্মী নয়, সাধারণ মানুষের পিঠও দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখান থেকে বাঁচার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি। এবারের লড়াইয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণ, অধিকারহীন সাধারণ মানুষ পরাজিত হলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই চূড়ান্ত লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন। মরণপণ লড়াইয়ের জন্য তারা মাঠে নামছেন। এর ধারাবাহিকতায় সামনে মুক্তির মিছিলে জনস্রোত দেখা যাবে।’

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

দলের নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করতে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

৩১ ডিসেম্বর থেকে রাজপথে থাকার জোর নির্দেশনা

আপলোড টাইম : ০৩:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদন:
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আন্দোলন প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় বিএনপিতে এক ধরনের হতাশা আছে। এ পরিস্থিতিতে এখনো যারা নিষ্ক্রিয় তাদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। প্রায় ৪ শ নেতা-কর্মীকে এরই মধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। চলমান আন্দোলনে ৩১ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রের পাশাপাশি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সক্রিয় ভূমিকায় ফিরতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, রাজপথে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর আন্দোলন শুরুর পরপরই দলটির বেশিরভাগ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন তারা। তবে একটি অংশ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আন্দোলনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না দীর্ঘদিন। এমনকি যারা সক্রিয় আছেন তাদের পাশেও থাকেননি। সেরকম চার শতাধিক নেতাকে চিহ্নিত করে দল থেকে ভর্ৎসনা এবং কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আগামীতে এরকম গাফিলতি দেখা গেলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে পদ-পদবি থেকে সরিয়ে দেওয়াসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নিষ্ক্রিয় ওইসব নেতাদের মধ্যে যারা বিগত দিনে কমিটি বাণিজ্য করে সংগঠনকে দুর্বল করেছেন আর যোগ্যদের বাদ দিয়েছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, শুধু সতর্ক করা নয়, গত কয়েকদিনে অনেককে শোকজও করা হয়েছে। অনেক জায়গায় নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা হয়েছে, অনেক স্থানে মূল কমিটির সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ছাড়া অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রায় ১৫ কমিটি রদবদল কিংবা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যুবদলেরও প্রায় ১০টি কমিটি পুনর্গঠন এবং অনেককে শোকজ করা হয়েছে, নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে বহিষ্কারও করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। ছাত্রদলের চিত্রও একই। রোববারও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি তারিকুল ইসলাম রানা এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল হাসান ইফাদকে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। নিষ্ক্রিয়দের বিষয়ে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশনাও দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এছাড়া বেশ কিছু জায়গায় আন্দোলনের জন্য দলীয় ফান্ড থেকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যারা এই সহায়তার অর্থ তসরুপ করেছেন বা চেষ্টা করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে দলের হাইকমান্ডের এমন কঠোর মনোভাবে রাজপথের চিত্র অনেকটা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। অনেকেই এখন সক্রিয় হয়ে উঠছেন। মিছিল-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। নির্বাচনের আগের কয়েকদিন এই চিত্র আরও পাল্টে যেতে পারে। ফলে আগামী দিনে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামার সব রকমের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শুধু নেতা-কর্মী নয়, সাধারণ মানুষের পিঠও দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখান থেকে বাঁচার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি। এবারের লড়াইয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণ, অধিকারহীন সাধারণ মানুষ পরাজিত হলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই চূড়ান্ত লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন। মরণপণ লড়াইয়ের জন্য তারা মাঠে নামছেন। এর ধারাবাহিকতায় সামনে মুক্তির মিছিলে জনস্রোত দেখা যাবে।’