ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

ভোগান্তিতে শ্রমজীবী মানুষ, আর্থিক ক্ষতির মুখে কৃষক-ব্যবসায়ীরা

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:৪৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

শনিবার থেকে কমবে বৃষ্টি, বাড়বে শীতের তীব্রতা : চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস

সমীকরণ প্রতিবেদক:
ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাড়তে শুরু করেছে শীত। মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মেও ভাটা পড়েছে। বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে সূর্য্যরে মুখ দেখতে পায়নি এ অঞ্চলের মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের আট বিভাগের প্রায় সব স্থানেই কমবেশি হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমবে। আর দুয়েকদিন পরই দেশজুড়ে শীত নামবে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় ১৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় এ জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবেই এমন বৃষ্টি হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার অনেক রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ির আঙিনা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী। তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে লোকজন বাইরে বের না হওয়ায় যাত্রীর অভাবে ভ্যান-রিকশা চালকদের অলস বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার যাত্রীর আশায় বৃষ্টিতে ভিজে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পৌর শহরের শান্তিপাড়া স্কুলমোড় এলাকায় গতকাল দুপুরে যাত্রীর আশায় দাঁড়িয়ে থাকা ইজিবাইক চালক সোহাগ হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে ইজিবাইক নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বসে আছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ টাকা ভাড়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে কম, তাই ভাড়াও হচ্ছে না। সব নিত্যপণ্যের দাম বেশি। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।’
কোর্টমোড় এলাকার ভ্যানচালক সালাম হোসেন ও রিকশা চালক মতিয়ারে সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ‘দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সবাই দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছি। আমাদের আয়ের ওপরই সংসার চলে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই, ভাড়াও হচ্ছে না। রুজির ধান্দায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই ঘর থেকে বের হতে হয়েছে।’
বড় বাজারে এক চা-দোকানি বলেন, ‘ডিসেম্বরের প্রথম কয়দিনেও শীত পড়েনি। তবে বুধবার থেকে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টিটা ঠাণ্ডা বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠাণ্ডা বাতাস আর বৃষ্টির কারণে আজ গরম কাপড় ছাড়া বাইরে বের হইনি। এবার ঠাণ্ডা বাড়তে শুরু করবে বোঝা যাচ্ছে। আর শীতের তীব্রতা বাড়লেই আমাদের কষ্ট বাড়ে।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বৃষ্টির রেশ আজ শুক্রবার পর্যন্ত থাকবে। শনিবার অবশ্য বৃষ্টি কমে আসবে। বৃষ্টির কারণে খানিকটা শীত অনুভূত হতে পারে। তিনি আরও জানান, বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর দুই দিন বাতাসে অনেকটা আর্দ্রতা থাকবে। তাই তাপমাত্রা তেমন কমবে না। তবে দুই দিনের মধ্যে আর্দ্রতা হ্রাস পেলে আগামী সোমবার থেকে শীত কিছুটা বাড়তে পারে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

চুয়াডাঙ্গায় দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

ভোগান্তিতে শ্রমজীবী মানুষ, আর্থিক ক্ষতির মুখে কৃষক-ব্যবসায়ীরা

আপলোড টাইম : ১০:৪৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

শনিবার থেকে কমবে বৃষ্টি, বাড়বে শীতের তীব্রতা : চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস

সমীকরণ প্রতিবেদক:
ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাড়তে শুরু করেছে শীত। মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মেও ভাটা পড়েছে। বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে সূর্য্যরে মুখ দেখতে পায়নি এ অঞ্চলের মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের আট বিভাগের প্রায় সব স্থানেই কমবেশি হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমবে। আর দুয়েকদিন পরই দেশজুড়ে শীত নামবে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় ১৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় এ জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবেই এমন বৃষ্টি হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার অনেক রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ির আঙিনা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী। তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে লোকজন বাইরে বের না হওয়ায় যাত্রীর অভাবে ভ্যান-রিকশা চালকদের অলস বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার যাত্রীর আশায় বৃষ্টিতে ভিজে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পৌর শহরের শান্তিপাড়া স্কুলমোড় এলাকায় গতকাল দুপুরে যাত্রীর আশায় দাঁড়িয়ে থাকা ইজিবাইক চালক সোহাগ হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে ইজিবাইক নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বসে আছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ টাকা ভাড়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে কম, তাই ভাড়াও হচ্ছে না। সব নিত্যপণ্যের দাম বেশি। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।’
কোর্টমোড় এলাকার ভ্যানচালক সালাম হোসেন ও রিকশা চালক মতিয়ারে সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ‘দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সবাই দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছি। আমাদের আয়ের ওপরই সংসার চলে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই, ভাড়াও হচ্ছে না। রুজির ধান্দায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই ঘর থেকে বের হতে হয়েছে।’
বড় বাজারে এক চা-দোকানি বলেন, ‘ডিসেম্বরের প্রথম কয়দিনেও শীত পড়েনি। তবে বুধবার থেকে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টিটা ঠাণ্ডা বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠাণ্ডা বাতাস আর বৃষ্টির কারণে আজ গরম কাপড় ছাড়া বাইরে বের হইনি। এবার ঠাণ্ডা বাড়তে শুরু করবে বোঝা যাচ্ছে। আর শীতের তীব্রতা বাড়লেই আমাদের কষ্ট বাড়ে।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বৃষ্টির রেশ আজ শুক্রবার পর্যন্ত থাকবে। শনিবার অবশ্য বৃষ্টি কমে আসবে। বৃষ্টির কারণে খানিকটা শীত অনুভূত হতে পারে। তিনি আরও জানান, বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর দুই দিন বাতাসে অনেকটা আর্দ্রতা থাকবে। তাই তাপমাত্রা তেমন কমবে না। তবে দুই দিনের মধ্যে আর্দ্রতা হ্রাস পেলে আগামী সোমবার থেকে শীত কিছুটা বাড়তে পারে।