ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

টানা ২ মাস রপ্তানিতে ধাক্কা

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৩:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদক:
ডলার সংকটের মধ্যেই অক্টোবরের পর সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসেও রপ্তানি আয় কমেছে। নভেম্বর মাসে ৪৭৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫ শতাংশ কম। এর আগে গত অক্টোবর মাসেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩.৬৪ শতাংশ। নভেম্বর মাসে ৫২৫ কোটি ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৮ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮.৯৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে ২০২২ সালের নভেম্বরে আয় হয়েছিল ৫০৯ কোটি ডলার। সোমবার পণ্য রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। টানা দুই মাস পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির গতিও কমে গেছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ। তবে নভেম্বর মাসে রপ্তানি কমায় পাঁচ মাসের হিসাবে (জুলাই-নভেম্বর) প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২২৩ কোটি ডলারের পণ্য। দেশের রপ্তানি আয়ে সিংহভাগই নির্ভর করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর।
টানা দুই মাস এই খাতে আয় কম হওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আয়ে। নভেম্বরে ৪০৫ কোটি ২৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের নভেম্বরে ছিল ৪৩৭ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ আয় কমেছে ৩২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার বা ৭.৪৫ শতাংশ। অক্টোবর মাসেও পোশাক রপ্তানি ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। দুই মাসের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পরও চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে পোশাক রপ্তানিতে ২.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে।
পাঁচ মাস শেষে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৮৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। আয় বেশি কমেছে ওভেন পোশাকের। নভেম্বরে এই ধরনের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭৩ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১২.৫৯ শতাংশ কম। নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৩১ কোটি ২৬ লাখ ডলারের যা আগের বছরের তুলনায় ৩.১৮ শতাংশ কম।
ইপিবি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তৈরি পোশাক ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ইত্যাদি। হোম টেক্সটাইলে ৪২.২৭ শতাংশ, ফুটওয়্যারে ৭.১৬ শতাংশ, পাট পণ্যে ১০.৯৯ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ২০.৫৫ শতাংশ, হিমায়িত মাছে ১৫.৮৮ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে প্লাস্টিকে ১৪.৯০ শতাংশ, রাবারে ১৬.৯১ শতাংশ, তুলা বর্জ্যে ৬৬.৯৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

টানা ২ মাস রপ্তানিতে ধাক্কা

আপলোড টাইম : ০৩:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদক:
ডলার সংকটের মধ্যেই অক্টোবরের পর সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসেও রপ্তানি আয় কমেছে। নভেম্বর মাসে ৪৭৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫ শতাংশ কম। এর আগে গত অক্টোবর মাসেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩.৬৪ শতাংশ। নভেম্বর মাসে ৫২৫ কোটি ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৮ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮.৯৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে ২০২২ সালের নভেম্বরে আয় হয়েছিল ৫০৯ কোটি ডলার। সোমবার পণ্য রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। টানা দুই মাস পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির গতিও কমে গেছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ। তবে নভেম্বর মাসে রপ্তানি কমায় পাঁচ মাসের হিসাবে (জুলাই-নভেম্বর) প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২২৩ কোটি ডলারের পণ্য। দেশের রপ্তানি আয়ে সিংহভাগই নির্ভর করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর।
টানা দুই মাস এই খাতে আয় কম হওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আয়ে। নভেম্বরে ৪০৫ কোটি ২৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের নভেম্বরে ছিল ৪৩৭ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ আয় কমেছে ৩২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার বা ৭.৪৫ শতাংশ। অক্টোবর মাসেও পোশাক রপ্তানি ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। দুই মাসের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পরও চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে পোশাক রপ্তানিতে ২.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে।
পাঁচ মাস শেষে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৮৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। আয় বেশি কমেছে ওভেন পোশাকের। নভেম্বরে এই ধরনের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭৩ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১২.৫৯ শতাংশ কম। নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৩১ কোটি ২৬ লাখ ডলারের যা আগের বছরের তুলনায় ৩.১৮ শতাংশ কম।
ইপিবি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তৈরি পোশাক ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ইত্যাদি। হোম টেক্সটাইলে ৪২.২৭ শতাংশ, ফুটওয়্যারে ৭.১৬ শতাংশ, পাট পণ্যে ১০.৯৯ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ২০.৫৫ শতাংশ, হিমায়িত মাছে ১৫.৮৮ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে প্লাস্টিকে ১৪.৯০ শতাংশ, রাবারে ১৬.৯১ শতাংশ, তুলা বর্জ্যে ৬৬.৯৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার।