ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মাঠে যাওয়ার আগেই ছিটকে পড়লেন ৭ শতাধিক প্রার্থী

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৩:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ২ হাজার ৭১৬ জন প্রার্থী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদে প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টিসহ ইসিতে নিবন্ধিত ২৯টি দলের প্রার্থীর বাইরে ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যাচাই-বাছাইয়ে ৭৩১ জন প্রার্থী ছিটকে পড়েন মাঠে নামার আগেই। গতকাল সোমবার যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে এক হাজার ৯৮৫ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করে ইসি। এরমধ্যে ঢাকার ২০ আসনে জমা হওয়া ২৩৪ মনোনয়নপত্রের মধ্যে বৈধ হয় ১৫৬টি আর বাতিল হয়েছে ৭৮টি।
সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ঢাকা-৫ আসনে। এই আসনে ২২ জনের মনোনয়ন জমা পড়লেও ১২ জনের বাতিল হয়ে যায়। আর শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ঢাকা ১৫ আসনে ৮ জন প্রার্থীর কারও মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি না পাওয়ায় কাউকেই বাদ দেয়া হয়নি। বাতিলের কারণ প্রসঙ্গে ইসির যুগ্ম সচিব মো. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘অনেক কারণ আছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে; ঋণ-বিল খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।’
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাতিল করা মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আজ মঙ্গলবার থেকে আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। এ লক্ষ্যে ইসিতে ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি আলাদা আলাদা বুথ করেছে সংস্থাটি। ইসি অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তারা ৫ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। ১০ ডিসেম্বর থেকে আপিল শুনানি শুরু হবে। চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।’
ঢাকার ২০ আসনে বৈধ ১৫৬, বাতিল ৭৮: রাজধানী ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ২৩৪টি। এরমধ্যে বৈধ হয় ১৫৬টি, বাতিল হয়েছে ৭৮টি। এসবের মধ্যে মহানগরীর ১৫টি আসনে (ঢাকা-৪ থেকে ১৮) মোট মনোনয়নপত্রের আবেদন ছিল ১৮৮টি, বৈধ ১২৪টি, বাতিল হয়েছে ৬৪টি আবেদন। এর মধ্যে ঋণ খেলাপির কারণে বাদ হয়েছে ১৫টি আবেদন। আর নগরীর বাইরের ৫টি আসনে (ঢাকা-১ থেকে ৩ ও ১৯ থেকে ২০) মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৪৬টি। বৈধ হয় ৩২টি আর বাতিল হয় ১৪টি মনোনয়নপত্র।
মহানগরীর ১৫ আসনে বৈধ ১২৪, বাতিল ৬৪: মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড- ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮ এবং ৫৯) মোট ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৪ জনের। ঢাকা-৫ আসনে ২২ জনের মনোনয়ন জমা পড়ে। বাছাইয়ে আওয়ামী লীগের হারুনুর রশীদ মুন্না, স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান মোল্লা সজল (সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে), স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলামসহ (বর্তমান এমপি) ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। ঢাকা-৬ আসনের ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়ে। এদের মধ্যে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাকি আটজন প্রার্থীকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-৭ আসনে ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরমধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে। বাতিল হয়েছে ৫ প্রার্থীর। ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে ১৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এরমধ্যে ১১টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও চারটি বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। ঢাকা-৯ আসনে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীসহ ৮ জনের বৈধ মনোনয়নপত্র রয়েছে এবং বাতিল হয়েছে ৫ জনের। ঢাকা-১০ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নায়ক ফেরদৌস আহমেদসহ ৩ জনের বৈধ এবং ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১১ নম্বর আসনে ১০ জনের মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বৈধ ৯টি। ঢাকা-১২ আসনে দুইজনের বাতিল ও স্থগিত হয়েছে একজনের মনোনয়নপত্র। ঢাকা-১৩ আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৪ আসনে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে; বাতিল হয়েছে ৮ জনের মনোনয়নপত্র। ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ৮ জন প্রার্থীর কারও মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি পাননি; সবাইকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৬ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াছ উদ্দিন মোল্লা, জাতীয় পার্টির মো. আমানত হোসেনসহ ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন একজন। ঢাকা-১৭ আসনে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জনকে বৈধ এবং ২ জনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও সালমা ইসলামের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের হাবিব হাসান, জাতীয় পার্টির (জাপা) শেরীফা কাদেরসহ ৮ জনকে বৈধ এবং ৮ জনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানীর বাইরের ৫ আসনে বৈধ ৩২, বাতিল ১৪: রাজধানীর বাইরের ৫টি আসনের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সালমান ফজলুল রহমান এবং জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামসহ ৭ জনের বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান। বাতিল হয়েছে ২টি। ঢাকা-২ আসনে মোট ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অ্যাড. কামরুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির শাকিল আহমেদ শাকিলসহ ৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাতিল হয় ২টি। ঢাকা-৩ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নসরুল হামিদ বিপু এবং জাতীয় পার্টির কুদ্দুস মোহাম্মদ মনির সরকারসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাতিল হয় ৩টি। ঢাকা-১৯ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ড. এনামুর রহমান এবং তৃণমূল বিএনপির মাহবুবুল হাসানসহ ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাতিল হয় ৫টি। ঢাকা-২০ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নসরুল হামিদ বিপু এবং জাতীয় পার্টির কুদ্দুস মোহাম্মদ মনির সরকারসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। জাতীয় পার্টির বাহাদুর ইসলামসহ বাতিল হয় ৩ জনের।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি হবে ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।
ইসি সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো যে কয়টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তা হলো; আওয়ামী লীগ ২৯৮টি (পাঁচটি আসনে দুটি করে মনোনয়ন জমা দেয় দলটি), জাতীয় পার্টি ২৮৬টি (১৮টি আসনে দুইটি করে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছে দলটি), তৃণমূল বিএনপি ১৫১টি, জাসদ ৯১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ৪৫টি, জাকের পার্টি ২১৮টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩৯টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৩টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩৪টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩৭টি, গণফ্রন্ট ২৫টি, গণফোরাম ৯টি ও জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ ১টি।
আরও রয়েছে, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৪২টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ২টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১৩টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ৪৭টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২০টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ০৬টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১২টি, বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি ৬টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ১৪টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১৩টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১৮টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল ৫টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৭৪টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফ ৫৫টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১১৬টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিএনএম ৪৯টি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ৮২। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭৪৭ জন।
প্রতিদিন ১০০ করে আপিল শুনানি: রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাতিল করা মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আজ মঙ্গলবার থেকে আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। এ লক্ষ্যে ইসিতে ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি আলাদা আলাদা বুথ করেছে সংস্থাটি। ইসির আইন শাখার উপ-সচিব মো. আব্দুছ সালাম গতকাল এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণাদেশের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিটার্নিং অফিসারের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত (সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে) নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি আকারে (আপিলের মূল কাগজপত্র ১ সেট ও ছায়ালিপি ৬ সেটসহ) আপিল দায়ের করতে পারবেন। এজন্য ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথ করা হয়েছে নির্বাচন ভবনে। ১০ জন কর্মকর্তার কাছে আপিল আবেদন জমা দিতে হবে।’

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

মাঠে যাওয়ার আগেই ছিটকে পড়লেন ৭ শতাধিক প্রার্থী

আপলোড টাইম : ০৩:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ২ হাজার ৭১৬ জন প্রার্থী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদে প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টিসহ ইসিতে নিবন্ধিত ২৯টি দলের প্রার্থীর বাইরে ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যাচাই-বাছাইয়ে ৭৩১ জন প্রার্থী ছিটকে পড়েন মাঠে নামার আগেই। গতকাল সোমবার যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে এক হাজার ৯৮৫ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করে ইসি। এরমধ্যে ঢাকার ২০ আসনে জমা হওয়া ২৩৪ মনোনয়নপত্রের মধ্যে বৈধ হয় ১৫৬টি আর বাতিল হয়েছে ৭৮টি।
সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ঢাকা-৫ আসনে। এই আসনে ২২ জনের মনোনয়ন জমা পড়লেও ১২ জনের বাতিল হয়ে যায়। আর শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ঢাকা ১৫ আসনে ৮ জন প্রার্থীর কারও মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি না পাওয়ায় কাউকেই বাদ দেয়া হয়নি। বাতিলের কারণ প্রসঙ্গে ইসির যুগ্ম সচিব মো. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘অনেক কারণ আছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে; ঋণ-বিল খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।’
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাতিল করা মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আজ মঙ্গলবার থেকে আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। এ লক্ষ্যে ইসিতে ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি আলাদা আলাদা বুথ করেছে সংস্থাটি। ইসি অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তারা ৫ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। ১০ ডিসেম্বর থেকে আপিল শুনানি শুরু হবে। চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।’
ঢাকার ২০ আসনে বৈধ ১৫৬, বাতিল ৭৮: রাজধানী ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ২৩৪টি। এরমধ্যে বৈধ হয় ১৫৬টি, বাতিল হয়েছে ৭৮টি। এসবের মধ্যে মহানগরীর ১৫টি আসনে (ঢাকা-৪ থেকে ১৮) মোট মনোনয়নপত্রের আবেদন ছিল ১৮৮টি, বৈধ ১২৪টি, বাতিল হয়েছে ৬৪টি আবেদন। এর মধ্যে ঋণ খেলাপির কারণে বাদ হয়েছে ১৫টি আবেদন। আর নগরীর বাইরের ৫টি আসনে (ঢাকা-১ থেকে ৩ ও ১৯ থেকে ২০) মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৪৬টি। বৈধ হয় ৩২টি আর বাতিল হয় ১৪টি মনোনয়নপত্র।
মহানগরীর ১৫ আসনে বৈধ ১২৪, বাতিল ৬৪: মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড- ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮ এবং ৫৯) মোট ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৪ জনের। ঢাকা-৫ আসনে ২২ জনের মনোনয়ন জমা পড়ে। বাছাইয়ে আওয়ামী লীগের হারুনুর রশীদ মুন্না, স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান মোল্লা সজল (সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে), স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলামসহ (বর্তমান এমপি) ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। ঢাকা-৬ আসনের ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়ে। এদের মধ্যে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাকি আটজন প্রার্থীকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-৭ আসনে ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরমধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে। বাতিল হয়েছে ৫ প্রার্থীর। ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে ১৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এরমধ্যে ১১টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও চারটি বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। ঢাকা-৯ আসনে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীসহ ৮ জনের বৈধ মনোনয়নপত্র রয়েছে এবং বাতিল হয়েছে ৫ জনের। ঢাকা-১০ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নায়ক ফেরদৌস আহমেদসহ ৩ জনের বৈধ এবং ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১১ নম্বর আসনে ১০ জনের মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বৈধ ৯টি। ঢাকা-১২ আসনে দুইজনের বাতিল ও স্থগিত হয়েছে একজনের মনোনয়নপত্র। ঢাকা-১৩ আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৪ আসনে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে; বাতিল হয়েছে ৮ জনের মনোনয়নপত্র। ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ৮ জন প্রার্থীর কারও মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি পাননি; সবাইকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৬ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াছ উদ্দিন মোল্লা, জাতীয় পার্টির মো. আমানত হোসেনসহ ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন একজন। ঢাকা-১৭ আসনে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জনকে বৈধ এবং ২ জনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও সালমা ইসলামের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের হাবিব হাসান, জাতীয় পার্টির (জাপা) শেরীফা কাদেরসহ ৮ জনকে বৈধ এবং ৮ জনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানীর বাইরের ৫ আসনে বৈধ ৩২, বাতিল ১৪: রাজধানীর বাইরের ৫টি আসনের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সালমান ফজলুল রহমান এবং জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামসহ ৭ জনের বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান। বাতিল হয়েছে ২টি। ঢাকা-২ আসনে মোট ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অ্যাড. কামরুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির শাকিল আহমেদ শাকিলসহ ৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাতিল হয় ২টি। ঢাকা-৩ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নসরুল হামিদ বিপু এবং জাতীয় পার্টির কুদ্দুস মোহাম্মদ মনির সরকারসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাতিল হয় ৩টি। ঢাকা-১৯ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ড. এনামুর রহমান এবং তৃণমূল বিএনপির মাহবুবুল হাসানসহ ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাতিল হয় ৫টি। ঢাকা-২০ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নসরুল হামিদ বিপু এবং জাতীয় পার্টির কুদ্দুস মোহাম্মদ মনির সরকারসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। জাতীয় পার্টির বাহাদুর ইসলামসহ বাতিল হয় ৩ জনের।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি হবে ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।
ইসি সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো যে কয়টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তা হলো; আওয়ামী লীগ ২৯৮টি (পাঁচটি আসনে দুটি করে মনোনয়ন জমা দেয় দলটি), জাতীয় পার্টি ২৮৬টি (১৮টি আসনে দুইটি করে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছে দলটি), তৃণমূল বিএনপি ১৫১টি, জাসদ ৯১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ৪৫টি, জাকের পার্টি ২১৮টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩৯টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৩টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩৪টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩৭টি, গণফ্রন্ট ২৫টি, গণফোরাম ৯টি ও জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ ১টি।
আরও রয়েছে, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৪২টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ২টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১৩টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ৪৭টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২০টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ০৬টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১২টি, বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি ৬টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ১৪টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১৩টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১৮টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল ৫টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৭৪টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফ ৫৫টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১১৬টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিএনএম ৪৯টি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ৮২। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭৪৭ জন।
প্রতিদিন ১০০ করে আপিল শুনানি: রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাতিল করা মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আজ মঙ্গলবার থেকে আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। এ লক্ষ্যে ইসিতে ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি আলাদা আলাদা বুথ করেছে সংস্থাটি। ইসির আইন শাখার উপ-সচিব মো. আব্দুছ সালাম গতকাল এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণাদেশের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিটার্নিং অফিসারের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত (সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে) নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি আকারে (আপিলের মূল কাগজপত্র ১ সেট ও ছায়ালিপি ৬ সেটসহ) আপিল দায়ের করতে পারবেন। এজন্য ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথ করা হয়েছে নির্বাচন ভবনে। ১০ জন কর্মকর্তার কাছে আপিল আবেদন জমা দিতে হবে।’