চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

তিনশ আসনে বিরোধীদের কর্মসূচি

নিউজ রুমঃ
ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিএনপি-জামায়াতসহ অন্তত ৬৪টি রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে যাচ্ছে না। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য, দলের চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকায় উঠলেও এ নিয়ে বিএনপি চিন্তিত নয়। ধারাবাহিকভাবে সরকারের পতন পর্যন্ত চূড়ান্ত আন্দোলনের ছক কষেছে দলটি। যারা ভোটে যাচ্ছে তাদের অনেকেই সরকারের চাপে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যারাই এই চাপ সহ্য করতে পারেনি তারা রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে বলেও বলছে বিএনপি ও জোট নেতারা। সম্প্রতি আটক নেতাদের স্বজনদের নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাবেশ, শ্রমিক সমাবেশ ও চরমোনাইয়ের জাতীয় সংলাপে অংশগ্রহণ করে আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করেছে দলটি। এই বিরোধী শিবিরে এখনো হাওয়াই স্বপ্ন পেছাতে পারে ভোট। আন্দোলনে সরকার পদত্যাগ করতেও বাধ্য হবে মনে করছে দলটি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, আজ থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষে তারা নির্বাচনি এলাকায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে অসহযোগ আন্দোলনেরও ঘোষণা দিতে পারে। এর আগে তারা আগামী মঙ্গলবার থেকে হরতাল-অবরোধের সঙ্গে জেলায় জেলায় (নির্বাচনি ৩০০ আসনে) বিক্ষোভ সমাবেশসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এর মূল উদ্দেশে থাকবে, ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অনুসারীরা ভোটের উৎসবে থাকলে বিএনপি-জামায়াত থাকবে নির্বাচনের বিরুদ্ধে। এতে স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হামলার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। জেলাভিত্তিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিকভাবে তাদের জন্য বোনাস পয়েন্ট হবে। এছাড়া ওই সময়ে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা কিংবা গ্রেপ্তার এখনকার মতো অব্যাহত থাকে, তাহলে এ বিষয়টি দিন শেষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যাবে। তখন পরিস্থিতির আলোকে স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও, অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একইভাবে ঢাকাকেন্দ্রিকও আন্দোলনের ছক সাজানো হয়েছে। দলের সিনিয়র যারা রয়েছেন তারা নির্বাচন পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রেশক্রিপশনে বিশেষ কিছু কর্মসূচি সাজিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে যৌথ সভা-সমাবেশ ও মতবিনিয়ম, রয়েছে নারী সমাবেশ, যুব সমাবেশ, আইনজীবী পেশাজীবীদের নিয়ে ভিন্ন কর্মসূচি। হাইকোর্ট ও প্রেস ক্লাবকেন্দ্রিক যেকোনো সময় বৃহৎ অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও চিন্তা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের দলের নেতা-কর্মীরা বলেছেন, এবার প্রাথমিকভাবেই দ্বাদশ নির্বাচনের আগে জয় দেখছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অন্তত দুই থেকে তিনশ নেতাকে জেলাভিত্তিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য চাপে রেখেছিল ক্ষমতাসীন দল ও বিশেষ মহল। যাদের বলা হয়েছিল ভোটের মাঠের সব ধরনের খরচ দেয়া হবে ভোটে জিততে না পারলেও বিশেষ উপহার থাকবে। এমন ইঙ্গিত পেয়ে কয়েক দিন আগ থেকেই দলের হাইকমান্ড থেকে টোপে পা দিতে পারে এমন নেতাদের সঙ্গে স্বয়ং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন তারেক রহমান ও শীর্ষ নেতারা সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের বুঝিয়েছেন। জোটের নেতাদের সঙ্গেও ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের শেষ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোপখানা রোডের একটি মিলনায়তনে সিরিজ বৈঠক করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দলটি বলছে, তাদের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ছাড়া এবার কেউ আর সরকারের ঘরে যায়নি। তৃণমূল বিএনপির শমসের মোবিন ও তৈমূর আলম খোন্দকার বিএনপি থেকে আরও বহু আগেই দলছুট হয়েছে। তাদের বিএনপি বলা যাবে না। শমসের মোবিন ২০১৮ সালে, তৈমূর আলম ২০২০ সালে দল থেকে বহিষ্কার হয়। আর বিএনএমে যে দু’-একজন গেছে তারা দলের মৌলিক কেউ নয়। সব মিলিয়ে বিএনপি ভাঙার যে আভাস ছিল কিংবা সরকার যে চমক দিতে চেয়েছে তা ব্যর্থ হয়েছে।

এখনো বিএনপি জোটসহ দলটির অনেকে মনে করছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন বাস্তবায়ন কিংবা ২০১৪-১৮ এর মতো নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। র‌্যাব কিংবা ভিসানিষেধাজ্ঞার মতো সরকার অচল হয়ে পড়ার মতো পোশাক খাতে নিষেধাজ্ঞার মতো আরও বেশ কিছু ঝড় হাওয়া আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগ এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কূটনৈতিক চাপে ফেলতে বড় একটি অংশ কাজ করছে বলেও দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক মিশনবিরোধীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের বার্তাই দিয়ে যাচ্ছে। হরতাল-অবরোধে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন যে অগ্নিসংযোগ হচ্ছে, এগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল জড়িত দাবি করে ইতোমধ্যে দুই দফা বিদেশি দূতাবাসগুলোকে চিঠি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যসহ বিশেষ ডকুমেন্ট দিয়েছে বিএনপি। দলটির কূটনৈতিক বিষয়ক সূত্র বলছে, যদি বিরোধীদের আত্মরক্ষার জন্য কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয় তখন সংঘাতের মতো কর্মসূচির পথেও হাঁটবে বিএনপি। ওই সূত্রটি বলছে, এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত রয়েছে যেকোনো মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত হতে পারে!

জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দেখুন আমরা ২০১৮ সালে বুঝতে পারিনি সরকার যে এমন একটি নির্বাচন করবে। এবার আমরা সরকারকে বিশ্বাস করিনি, নির্বাচনে যাইনি। সরকার পতনে আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি। ১৬ দিন অবরোধ এবং চারদিন হরতাল পালন করেছি। আওয়ামী লীগ ও কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি গাড়িতে আগুন দিয়েছে, আমরা জানতে পেরেছি। প্রকাশিত ছবি ভিডিওতে কারা সরকার এখনো তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি। আমরা মনে করছি, এই সরকার ২০১৪-১৮ এর মতো পার করতে পারবে না। ইতোমধ্যে পোশাক খাতে অশনি সঙ্কেত দেখা দিয়েছে। আমরা দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ে আছি।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে আছি। সারা বিশ্ব এই সরকারকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই তফসিল ঘোষণা করে গত বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনি ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে বলছে। এমন ঝড় হাওয়া আসবে সরকার ভেসে যাবে। আওয়ামী লীগের কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, এই সরকারের তৎপরতা আমরা এবার কোনোভাবেই সফল হতে দেবো না। এই আওয়ামী সরকার একতরফা নির্বাচন, মানবাধিকার, শ্রমিকের অধিকার খর্ব করেছে। সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পশ্চিমারা এখন আমাদের রপ্তানি খাত গার্মেন্ট শিল্পের ওপর নতুন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে শোনা যাচ্ছে। এই সরকার পুরো দেশকে বিপদে ফেলে যদি ভেবে থাকে তিনি রেহাই পেয়ে যাবে তা ভুল করবে। জনগণের আন্দোলনে সরকারকে এবার বিদায় নিতেই হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।