ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৮:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৬
  • / ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে

ধর্ম ডেস্ক: অধিকার একটি ব্যাপক বিষয়। সাধারণত মানুষের ওপর দুই ধরনের অধিকার আদায় ফরজ একটি আল্লাহর অধিকার, অন্যটি মানুষের। মানুষের অধিকার তার ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্য। ব্যক্তির এই প্রাপ্য আদায় করা ফরজ বা অবশ্যকর্তব্য। ব্যক্তির যা প্রাপ্য তা না দেয়া কিংবা আত্মসাৎ করাটা হলো অধিকার হরণ। অন্যের অধিকার হরণ করা এমন একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা যা অসংখ্য সমস্যার জš§ দেয়। অন্যের অধিকার হরণ সামাজিক জীবনধারা বহুলাংশে ব্যাহত করে। ফলে মানুষে-মানুষে ব্যাপক অবিশ্বাস ও বৈরিতা সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা ও সহযোগিতার বদলে জš§ নেয় শত্র“তা ও অবিশ্বাস। ব্যক্তির জীবন ও সম্পদের অধিকার হরণ করা হলে সে ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। কারো সম্মান-সম্ভ্রম ও জানমালের অধিকার ক্ষুণœ হলে সে ব্যক্তি ন্যায়বিচার চায়। ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও যদি হরণ করা হয় তাহলে সে আইন হাতে তুলে নেয়। ফলে সমাজে অরাজকতা দেখা যায়। যার অধিকার হরণ করা হয় তার সঙ্গে অধিকার হরণকারীর শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে অধিকার হরণের ঘটনা ঘটলে শত্রুতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শেষতক তা হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়াতে পারে। অন্যের অধিকার হরণ করা হারাম। কেউ যদি কারো অধিকার হরণ করে আর যার অধিকার হরণ করা হয়েছে সে যদি তা ক্ষমা না করে তাহলে আল্লাহতায়ালাও তা ক্ষমা করবেন না। অধিকার হরণকারীকে অনিবার্যভাবেই জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার কথা ও হাত থেকে মুসলমানরা নিরাপদে থাকে’  মিশকাত। আল্লাহতায়ালা কোরানে আরো বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ ভোগ করো না। তবে পরস্পরের সম্মতিতে ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে ভোগ করতে পারো। আর তোমরা একে অন্যকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহতায়ালা পরম দয়ালু। কেউ যদি সীমা লঙ্ঘন ও জুলুমের সঙ্গে এ কাজ করে তাহলে অচিরেই তাকে আমি নরকে নিক্ষেপ করব। আর আল্লাহর জন্য এ কাজ খুবই সহজ’  সূরা নিসা : ২৯-৩০। এভাবেই অধিকার হরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম পার্থিব ও পরকালীন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। তাই অধিকার হরণ প্রতিরোধের জন্য ইসলাম যেসব নীতিমালা প্রবর্তন করেছে সেগুলো পালন ও বাস্তবায়ন করা আমাদের সবার কর্তব্য।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

আপলোড টাইম : ০৮:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৬

ধর্ম ডেস্ক: অধিকার একটি ব্যাপক বিষয়। সাধারণত মানুষের ওপর দুই ধরনের অধিকার আদায় ফরজ একটি আল্লাহর অধিকার, অন্যটি মানুষের। মানুষের অধিকার তার ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্য। ব্যক্তির এই প্রাপ্য আদায় করা ফরজ বা অবশ্যকর্তব্য। ব্যক্তির যা প্রাপ্য তা না দেয়া কিংবা আত্মসাৎ করাটা হলো অধিকার হরণ। অন্যের অধিকার হরণ করা এমন একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা যা অসংখ্য সমস্যার জš§ দেয়। অন্যের অধিকার হরণ সামাজিক জীবনধারা বহুলাংশে ব্যাহত করে। ফলে মানুষে-মানুষে ব্যাপক অবিশ্বাস ও বৈরিতা সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা ও সহযোগিতার বদলে জš§ নেয় শত্র“তা ও অবিশ্বাস। ব্যক্তির জীবন ও সম্পদের অধিকার হরণ করা হলে সে ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। কারো সম্মান-সম্ভ্রম ও জানমালের অধিকার ক্ষুণœ হলে সে ব্যক্তি ন্যায়বিচার চায়। ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও যদি হরণ করা হয় তাহলে সে আইন হাতে তুলে নেয়। ফলে সমাজে অরাজকতা দেখা যায়। যার অধিকার হরণ করা হয় তার সঙ্গে অধিকার হরণকারীর শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে অধিকার হরণের ঘটনা ঘটলে শত্রুতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শেষতক তা হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়াতে পারে। অন্যের অধিকার হরণ করা হারাম। কেউ যদি কারো অধিকার হরণ করে আর যার অধিকার হরণ করা হয়েছে সে যদি তা ক্ষমা না করে তাহলে আল্লাহতায়ালাও তা ক্ষমা করবেন না। অধিকার হরণকারীকে অনিবার্যভাবেই জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার কথা ও হাত থেকে মুসলমানরা নিরাপদে থাকে’  মিশকাত। আল্লাহতায়ালা কোরানে আরো বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ ভোগ করো না। তবে পরস্পরের সম্মতিতে ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে ভোগ করতে পারো। আর তোমরা একে অন্যকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহতায়ালা পরম দয়ালু। কেউ যদি সীমা লঙ্ঘন ও জুলুমের সঙ্গে এ কাজ করে তাহলে অচিরেই তাকে আমি নরকে নিক্ষেপ করব। আর আল্লাহর জন্য এ কাজ খুবই সহজ’  সূরা নিসা : ২৯-৩০। এভাবেই অধিকার হরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম পার্থিব ও পরকালীন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। তাই অধিকার হরণ প্রতিরোধের জন্য ইসলাম যেসব নীতিমালা প্রবর্তন করেছে সেগুলো পালন ও বাস্তবায়ন করা আমাদের সবার কর্তব্য।